আলবেনিয়ায় দ্বীন ইসলাম প্রচার
, ০৪ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ০২ আউওয়াল, ১৩৯৩ শামসী সন , ০১ জুন, ২০২৫ খ্রি:, ১৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পাঁচ মিশালী
আলবেনিয়ার সাংবিধানিক নাম ‘রিপাবলিক অব আলবেনিয়া’, যা দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বলকান উপদ্বীপে অবস্থিত। আলবেনিয়ার উত্তর-পূর্বে কসোভো, উত্তরে উত্তর মেসিডোনিয়া, উত্তর-পশ্চিমে মন্টিনেগ্রো, দক্ষিণে গ্রিস এবং পশ্চিমে আড্রিয়াটিক সাগর অবস্থিত। ভৌগোলিকভাবে আলবেনিয়া বৈচিত্র্যময় বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। শিল্প, বাণিজ্য, পর্যটন, আবাসন, কৃষি ও মৎস সম্পদ আলবেনীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।
আলবেনিয়ার মোট আয়তন ২৮ হাজার ৭৪৮ বর্গকিলোমিটার। ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান অনুসারে দেশটির মোট জনসংখ্যা ২৪ লাখ ২১১৩ জন। যার মধ্যে ৫১ শতাংশ মুসলিম এবং ১৬ শতাংশ খ্রিস্টান। তবে আরব গণমাধ্যমগুলোতে আলবেনিয়ার জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ মুসলিম বলে দাবি করা হয়।
আলবেনিয়ার বেশির ভাগ মুসলিম সুন্নি ও হানাফী মাযহাবের অনুসারী। আলবেনিয়ার রাষ্ট্রীয় ভাষা আলবেনীয়। তিরানা আলবেনিয়ার রাজধানী শহর।
আলবেনীয় জাতির উৎপত্তি হয়েছিলো মধ্য এশিয়ায়। সেখান থেকে তারা বলকান অঞ্চলে এসে বসবাস শুরু করে।
আলবেনিয়ায় খ্রিস্টপূর্ব সাত হাজার বছরের প্রাচীন নিদর্শন পাওয়া গেছে। খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে রোমান ও গ্রিকরা বলকান অঞ্চল দখল করে। তাদের পরে আসে সেøাভকরা। তাদের অত্যাচারে আলবেনীয়রা সীমাহীন নিপীড়নের শিকার হয়। অবশেষে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার আগমনে তারা স্বস্তি ফিরে পায়।
ইসলামপূর্ব সময়ে আলবেনিয়ার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অধিবাসী মূর্তি পূজারী ছিলো। খ্রিস্টপূর্ব ১৬৮ সালে দীর্ঘ সংঘর্ষের পর আলবেনিয়া দখল হয়। ৩৮০ খ্রিস্টাব্দে আলবেনিয়ায় খ্রিস্টধর্মের প্রচার শুরু হয়। তবে স্থানীয় জনগণ কখনোই রোমান শাসন মেনে নেয়নি। ফলে তারা বারবার বিদ্রোহ ও সংঘাতে লিপ্ত হয়।
রোমান শাসন থেকে মুক্তি লাভের জন্য আলবেনীয়রা উসমানীয়দের সাহায্য কামনা করে। উসমানীয় বাহিনী ১৩৮৫ খ্রিস্টাব্দে আলবেনিয়ায় সর্বপ্রথম বিজয় লাভ করে। ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে উসমানীয়রা তাদের শাসনাধীন অঞ্চলের বিস্তৃতি ঘটায় ১৪৩১ খ্রিস্টাব্দে আলবেনিয়া পুরোপুরি মুসলিম শাসনাধীন হয়।
মুসলমানদের ইনসাফ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ শাসন এবং ইসলামের সুমহান আদর্শ আলবেনীয়দের মুগ্ধ করে। ফলে দেশটিতে দ্রুত দ্বীন ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়ে। বলা হয়, সম্মানিত ইসলামের প্রথম শতাব্দীতে আলবেনিয়ায় ইসলামের প্রথম পদার্পণ ঘটে। আলবেনিয়ায় ইসলাম প্রচারে মুসলিম ব্যবসায়ী ও আলেমদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিলো। উসমানীয়দের আগেই আলবেনিয়ায় দ্বীন ইসলাম প্রসারের প্রমাণ হলো- বিরাত দুর্গের লাল মসজিদ।
উসমানীয়রা আলবেনিয়ায় বহু সেবামূলক ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। উসমানীয় আমলে রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন নতুন শহর নির্মাণ করা হয়। তাদের নির্মিত কয়েকটি শহর হলো শকোদার, এলবাসান, বেরাত, তিরানা (রাজধানী), জিরোকাস্ত্রা, প্রিজরেন, পেজা, জাকোভা ইত্যাদি।
১৯১২ সালে বলকান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আলবেনিয়া ওই বছরের ২৮ নভেম্বর স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ১৯১৩ সালে লন্ডন কনফারেন্সের মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় শক্তিগুলো আলবেনিয়াকে স্বীকৃতি দেয়। তবে তারা আলবেনিয়ার দাবিকৃত প্রায় ৮৩ হাজার বর্গকিলোমিটারের পরিবর্তে মাত্র ২৮ হাজার ৭৪৮ বর্গকিলোমিটার অঞ্চল নির্ধারণ করে। স্বাধীনতা ঘোষণার পর থেকে আলবেনীয় মুসলিমদের দুর্দিন শুরু হয়। ১৯২৮ সালে আহমদ জোগো ক্ষমতা গ্রহণ করে। সে ছিলো চরম ইসলামবিদ্বেষী।
সে মসজিদভিত্তিক দ্বীনি শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং মাদরাসা শিক্ষা নিষিদ্ধ করে। তারপরও আলেমরা দ্বীনি বই-পুস্তক রচনা অব্যাহত রাখেন। শেখ আলী কারাজা আলবেনীয় ভাষায় কুরআন শরীফ অনুবাদ করেন, যা ন্যূনতম ইসলামী শিক্ষা বজায় রাখতে সাহায্য করেছিলো।
১৯৩৯ সালে ইতালি আলবেনিয়া দখল করে। তখন আলবেনিয়া খ্রিস্টধর্ম প্রচারের সর্বাত্মক চেষ্টা করে। ইতালি সরকার আলবেনিয়ার অসংখ্য মসজিদ ও মাদরাসা ধ্বংস করে। বিপুলসংখ্যক মুসলিম শহীদ করে। অনেককে বন্দি এবং অনেককে দেশত্যাগে বাধ্য করে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৬ সালে ইনভার হোক্সার (পূর্ব নাম আনওয়ার পাশা হোক্সা) নেতৃত্বে আলবেনিয়ার কমিউনিস্ট শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। তারা আলবেনিয়াকে বিশ্বের একমাত্র ধর্মহীন দেশ ঘোষণা করে। ইনভার হোক্সার সরকার নির্বিচারে মুসলিম গণহত্যা চালায় এবং মুসলিম জনসাধারণকে প্রতিবেশী দেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য করে।
১৯৮৯ সালে আলবেনিয়ায় এক গণ-অভ্যুত্থানের ভেতর দিয়ে কমিউনিস্ট শাসনের অবসান ঘটে। তখন থেকে মুসলমানরা কিছুটা স্বাধীনতা লাভ করে। তারা মসজিদ ও মাদরাসা নির্মাণের অনুমতি পায়। তবে দীর্ঘদিনের ইসলামবিদ্বেষী শাসনের ক্ষত এখনো তারা বহন করে যাচ্ছে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
করমচা খেলে কী হয়? জানুন এর স্বাস্থ্য উপকারিতা
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
কাঁঠালের বীজ খেলে কী হয় জানুন
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ঘরোয়া মসলায় লুকিয়ে থাকা চিকিৎসাগুণ সম্পর্কে জানেন?
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আমে কীটনাশক রয়েছে কিনা? পরীক্ষা করুন পাঁচ পদ্ধতিতে
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাবিশ্ব দ্রুত গতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে: নতুন গবেষণা
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কাচারি ঘরের ইতিকথা
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
কদম মুবারকে কদম রসূল
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইন্দোনেশিয়ায় আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থীর সাফল্য
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
জামের বীজের গোপন গুণ, যা অনেকেরই অজানা
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
এই চার পানীয় শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দেয়
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ভুট্টায় প্রোটিন বাড়ানোর নতুন জিন আবিষ্কার
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












