আধুনিক রণকৌশলে ড্রোন রেজিমেন্ট ও ত্রিপক্ষীয় প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বের রূপরেখা (পর্ব-১৭)
, ০৬ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২১ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২০ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ০৫ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) বিশেষ প্রতিবেদন
রাশিয়া ইউক্রেন সংঘাত, কারাবাও যুদ্ধ এবং মধ্যাংচাচোর সাম্প্রতিক সামরিক বাস্তবতা প্রমাণপ করেছে যে একবিংশ শতাব্দীর যুদ্ধক্ষেত্রে প্রয়াগ পদাতিক ও আর্মার্ড ডভিশনের পাশাপাশি আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেমস (টঅঝ) বা ড্রোন প্রযুক্তি যুদ্ধ জয়ের অন্যতম প্রধান নিয়ামক। একটি ৫০ লক্ষাধিক সদস্যের সুবিশাল প্রতিরক্ষা কাঠামোর প্রেক্ষিতে প্রথাগত আর্টিলারি বা পদাতিক বাহিনীর মতো ড্রোন যুদ্ধ পরিচালনার জন্য একাধিক বিশেষায়িত এবং স্বতন্ত্র ড্রোন রেজিমেন্ট (উবফরপধঃবফ খঅঠ উৎড়হব জবমরসবহঃ) গড়ে তোলা কেবল সময়োপযোগী নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে অপরিহার্য।
১) ৫০ লক্ষ সেনার বিপরীতে ড্রোন রেজিমেন্টের প্রয়োজনীয় কাঠামো :
একটি ৫০ লক্ষাধিক সদস্যের বিশাল সেনাবাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড, ফরমেশন এবং কমান্ড ব্যাটালিয়নগুলোকে বায়ুম-লীয় নজরদারি, সুনির্দিষ্ট ড্রোন স্ট্রাইক (চৎবপরংরড়হ ঝঃৎরশব) এবং ইলেক্ট্রনিক ওয়ারফেয়ারের ছাতা সরবরাহ করতে হলে সেনাকঠামোকে নতুন করে সাজাতে হবে।
রেজিমেন্টের আনুমানিক সংখ্যা: সাধারণ সামরিক অনুপাত (ঋড়ৎপব জধঃরড়) অনুযায়ী, এত বিশাল বাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বজায় রাখতে প্রতিটি পদাতিক ডিভিশন ও আর্মার্ড ব্রিগেডের সাথে অর্গানিক ড্রোন ইভানট থাকা প্রয়োজন। সেই হিসেবে কেন্দ্রীয় কমান্ডের অধীনে অন্তত ৫০ থেকে ৮০টি সম্পূর্ণ ডেডিকেটেড ড্রোন রেজিমেন্ট এবং প্রতিটি কোর (ঈড়ৎঢ়ং) ডিভিশন পর্যায়ে বিশেষায়িত ইউএডি ব্রিগেড প্রয়োজন হবে।
রেজিমেন্টাল বিন্যাস : প্রতিটি রেজিমেন্টে নজরদারি ড্রোন (১৫গ টহরঃং), কমব্যাট ড্রোন (টঈঅঠ আত্মঘাতী লোইটারিং মিউনিশন (কধসরশধুব টহরঃং) এবং কাউন্টার-ড্রোন ইলেক্ট্রনিক ওয়ারফেয়ার (ঈ-টঅঠ ্ উইং অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
২. ইরান, পাকিস্তান ও তুরস্কের ত্রিপক্ষীয় প্রযুক্তিগত সহযোগিতা :
বৃহৎ পরিমাণের ড্রোন বহর ও রেজিমেন্ট পরিচালনা কেবল বিদেশ থেকে ড্রোন কিনে সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন দেশীয় উৎপাদন ও যৌথ প্রযুক্তি হস্তান্তর। এই তিন মিত্র দেশের যৌথ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষাব্যুহ দিতে পারে।
তুরস্ক (প্রযুক্তি ও নির্ভুলতা) : ড্রোন প্রযুক্তিতে তুরস্ক বিশ্বজুড়ে অগ্রগামী। বায়রাক্ততার (উধুৎধশঃধৎ ঞ২/ঞই৩,) এবং আনকা (অহশধ) সিরিজের মতো মিডিয়াম ও হাই আল্টাটউড লং-এনডুরেন্স (গঅখঊ ঐঅখঊ) ড্রোনের অ্যাভিওনিক্স, স্যাটেলাইট কন্ট্রোল সিস্টেম এবং লেজার গাইডেড সমরাস্ত্রের প্রযুক্তির জন্য তুরস্কের সাথে যৌথ উদ্যোগ (ঔড়রহঃ ঠবহঃঁৎব) গড়ে তোলা সম্ভব।
ইরান (সাশ্রয়ী কামিকাজে অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ার): ড্রোন যুদ্ধে ইরান অত্যন্ত কম খরচে দূরপাল্লার আত্মঘাতী ড্রোন (যেমন শাহেদ-১৩৬/১৯১) এবং ডিকয় প্রযুক্তি তৈরিতে সিদ্ধহস্ত। তাদের প্রমিত ও সহজ ম্যানুফ্যাকচারিং কৌশল ব্যবহার করে কম খরচে হাজার হাজার 'লোইটারিং মিউনিশন দ্রুত স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা সহজ হবে।
পাকিস্তান (যৌথ উৎপাদন ও প্রশিক্ষণ): পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিজস্ব শাহপাক (ঝযধযঢ়ধৎ) ও বুরাক (ইঁৎৎধয়) ড্রোনের মাধ্যমে দীর্ঘ দিন ধরে ইউএভি রেজিমেন্ট ও গোয়েন্দা নজরদারি পরিচালনা করে আসছে। তাদের সেনাবাহিনীর ড্রোন রেজিমেন্টের ডকট্রিন, একাডেমি পর্যায়ে প্রশিক্ষণ এবং সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সৈন্যবাহিনী গঠনের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।
যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাসংখ্যা যত বড়ই হোক না কেন, আধুনিক আকাশে ড্রোনের মাধ্যমে কার্ত্তিকত আধিপত্য নিশ্চিত করতে না পারলে স্থলবাহিনী চরম ঝুঁকিতে থাকে। তাই ইরান, পাকিস্তান ও তুরস্কের যৌথ প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশে ডিকয় এবং ড্রোন অ্যাসেম্বলিং ও ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট স্থাপন করা অত্যন্ত কৌশলগত পদক্ষেপ হবে। বিশাল এই সামরিক কাঠামোর জন্য সময়োচিত উপয়ে ডেডিকেটেড ড্রোন রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠা করাই আধুনিক অসম যুদ্ধকৌশলে দেশকে সুরক্ষিত রাখার সবচেয়ে টেকসই পথ।
-মুহম্মদ শামসিত তাবরিজ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কাফিরদের চুক্তির ফাঁদ ও একটি অগোচর সাম্রাজ্যবাদের কথা
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
২৫ মার্কিন কোম্পানী, ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর বিশাল বড় অনুলিপি এরা বাংলাদেশের গোটা অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ আম্রিকায় অর্থ পাচার, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে। বিশাল মূলধন ও আধুনিক প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশ সরকারের দেয়া অতি সুবিধার কারণে এরা বাংলাদেশের শিল্পপতিদের তথা ব্যবসায়ীদের ধ্বসিয়ে দিবে। আম্রিকা বিনিয়োগ করে- চিলি, আর্জেন্টিনা, ভেনিজুয়েলা এবং দক্ষিণ আফ্রিকাসহ আফ্রিকার অনেক দেশে তাদের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ফলানো সহ সামরিক বাহিনী প্রেরণ করে লুণ্ঠনের রাজত্ব কায়েম করেছে। এমনকী যুদ্ধও লাগিয়েছে। একই লক্ষ্য নিয়ে তারা বাংলাদেশে আসছে।
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
তারা সেই জাতি- যারা পূর্ব থেকেই লুটেরা, ডাকাত ও দস্যু
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ পালনে মুসলিম বিশ্বের সরকারগুলোকে বিশেষ মনোযোগী হতে হবে
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অনুপ্রবেশকারী উপজাতিদের দিতে হয়না আয়কর, কিন্তু দেশের নাগরিক হয়েও ভিটেমাটির চাঁদা দিতে হয় বাঙালীদের
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার সাক্ষ্য- মুসলমানগণ ক্ষতির সম্মুখীন হলে বিধর্মী-কাফিরগুলো খুশি প্রকাশ করে
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ক্ষতিকর প্রাণীর ন্যায়, সরকারিভাবে কুকুর নিধন করা জরুরী
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম কে স্থায়ী করা হোক
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নেপালসহ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মুসলিম সংকট ও আত্মোপলব্ধির তাগিদ
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষায় স্মার্ট সীমান্ত ব্যবস্থার অপরিহার্যতা ও সীমান্তের বিবরণ
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করতে এত উৎসাহ কিন্তু- বিবাহপূর্ব প্রেম-ভালোবাসার নামে অনৈতিক সম্পর্ক নিষিদ্ধ করতে সরকারী কর্মকর্তাদের কেন কষ্ট লাগে?
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্বের ১৩০টি দেশ বাংলাদেশী পোলাওর চালের স্বাদ নিতে পারলেও বঞ্চিত হলো এবং হচ্ছে বাংলাদেশের গরীব জনসাধারণ।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












