পার্বত্য চট্টগ্রামকে অঘোষিত জুম্মল্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করছে উপজাতি সন্ত্রাসী
অনুপ্রবেশকারী উপজাতিদের দিতে হয়না আয়কর, কিন্তু দেশের নাগরিক হয়েও ভিটেমাটির চাঁদা দিতে হয় বাঙালীদের
এক স্থানে দুই ধরণের অবস্থা-ব্যবস্থায় পার্বত্যাঞ্চলে দেশের সার্বভৌমত্ব চরমভাবে হুমকীর সম্মুখীন।
, ২৭ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১২ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১১ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) বিশেষ প্রতিবেদন
পার্বত্য অঞ্চলে চাঁদাবাজি ও আধিপত্যের পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছে উপজাতি সন্ত্রাসীরা। আঞ্চলিক এই উপজাতি সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হামলে পড়ছে অসহায় বাঙ্গালীদের উপর। শান্তির পাহাড়কে অশান্ত করে তুলছে এই উপজাতি সন্ত্রাসীরা। আতঙ্ক আর অপরাধের অঙ্গরাজ্যে পরিণত করছে দেশের পর্যটনের অপার সম্ভাবনার পার্বত্য অঞ্চলকে। উপজাতি পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে সেখানকার নিরীহ বাঙালিরা। প্রতিবাদ বা মুখ খুললেই হত্যা বা নির্যাতন করা হচ্ছে।
সাধারণ পাহাড়ি বাঙালিরা বলছেন পাহাড়ে শান্তি-শৃঙ্খলা স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার পার্বত্য শান্তি চুক্তির আওতায় উপজাতীদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দিলেও ‘বাঁকা পথেই’ রয়ে গেছে পার্বত্যের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলো। বরং চাঁদাবাজি, জমি দখল ও আধিপত্যসহ নিরীহ পাহাড়ি বাঙালিদের উপর অত্যাচার নির্যাতনের মাত্রা সীমা ছাড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, ইউপিডিএফ বা জেএসএসের সন্ত্রাসীরা চাঁদাবাজির এই টাকাকে ‘ট্যাক্স’ হিসেবে গণ্য করে থাকে। পার্বত্য অঞ্চল কেবল তাদেরই ভূখন্ড বলে তারা মনে করে। ফলে এখানে বাঙালি বা অন্য যারাই বসবাস বা ব্যবসা করুক তাদের চাঁদা দিতেই হবে। পাহাড়ের উপজাতি সন্ত্রাসীরা সব জায়গায় চাঁদাবাজি করে। যেকোনো আর্থিক বিনিময়ে ভাগ বসায় ওরা। পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিদের আয়করও দিতে হয় না। অথচ একজন পাহাড়ি বাঙালির ১০০ টাকার উৎপাদিত পণ্য বাজারে বিক্রি করলে ২০ টাকা দিতে হবে সন্ত্রাসীদের। বাঁশ ব্যবসা, কাঠ ব্যবসা ও উন্নয়নমূলক কাজ সব ক্ষেত্রে চলছে সন্ত্রাসীদের এই চাঁদাবাজি।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সালের সরকার এবং জেএসএস (সন্তু)-এর মধ্যে স্থাপিত শান্তিচুক্তির প্রায় ৮০ শতাংশ শর্তই বাস্তবায়ন করেছিলো তৎকালীন সরকার। কিন্তু এখনও এ চুক্তি বাস্তবায়নের দোহাই দিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা আদায় ও আধিপত্য বিস্তার এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা/ফোরামের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রচার-প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে পাহাড়ি সংগঠনগুলো (চুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে)। পার্শ্ববর্তী দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে গোপনে যোগাযোগের মাধ্যমে চাঁদাবাজি ও অপহরণের পর মুক্তিপণের অর্থ দিয়ে বিপুল পরিমাণ আধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করে তাদের অস্ত্রভা-ারকে সমৃদ্ধ করছে। অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করাসহ এসব কারণে তারা নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে। স্থানীয়রা ছাড়াও পর্যটক, টোকেন ছাড়া ব্যবসায়ী, ব্যবসা ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের অপহরণ করে বড় অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। অর্থাৎ এককথায় ধীরে ধীরে বাংলাদেশের এই তিন পার্বত্য জেলা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিচ্ছে চাঁদাবাজি মাধ্যমে। কিন্তু এরপরও সরকারের তরফ থেকে তেমন কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা। অথচ শান্তিচুক্তিতে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলেও সরকার পাহাড় থেকে উল্টো সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করে নিয়ে নাম মাত্র কিছু সেনা পাহারা রেখেছে। যা দেশের ২৫ কোটি জনতার মনে শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। অথচ স্বাধীনতার স্বপক্ষের সরকার দাবীদার হওয়ার পর সরকারের সর্বপ্রথম কর্তব্য ছিলো দেশের অখন্ডতা রক্ষার্থে এই উপজাতিদের দমন করে বাঙালী নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করা।
অন্যদিকে, বিচ্ছিন্নতাবাদী উপজাতি সন্ত্রাসীদের বলতে হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে কোনো জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসন, আবার কোনো জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ করে এতদাঞ্চলের স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বরং যেকোনো সময়ের তুলনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম আরো বেশি বিস্ফোরণোমুখ হয়ে উঠবে। উপজাতি সন্ত্রাসীরা যদি মনে করে, বাঙালিদের অত্যাচার নির্যাতন করে সকলের নজর ঘুরিয়ে ফায়দা হাসিল করবে, তাহলে তা হবে নিদারুন ভুল। তাদের মনে থাকা উচিত- ১৯০ বৎসর ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯৪৭ সালে মধ্য আগস্টে ব্রিটেন এদেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।
অতএব, সরকারের উচিত হবে- এসব রাজাকার, দেশ ও জাতির শত্রু, নৃ-তাত্ত্বিক ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী, মিশনারী এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের হাত থেকে তিন পার্বত্য অঞ্চলকে রক্ষার নিমিত্তে অনতিবিলম্বে উপজাতিদের বিভিন্ন কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া। অর্থাৎ তাদেরকে কোনো অবস্থাতেই পার্বত্য অঞ্চলে সংঘবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্র করার সুযোগ না দেয়া এবং বাঙালিদের উপর নির্যাতন চালানোর পথ রুদ্ধ করা। পাশাপাশি ওই অঞ্চলের স্থানীয় বাঙালিদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যাপকভাবে সুযোগ করে দেয়া এবং বাঙালিদের জান-মালের নিরাপত্তা প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
-মুহম্মদ আরিফুল ইসলাম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার সাক্ষ্য- মুসলমানগণ ক্ষতির সম্মুখীন হলে বিধর্মী-কাফিরগুলো খুশি প্রকাশ করে
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ক্ষতিকর প্রাণীর ন্যায়, সরকারিভাবে কুকুর নিধন করা জরুরী
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম কে স্থায়ী করা হোক
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নেপালসহ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মুসলিম সংকট ও আত্মোপলব্ধির তাগিদ
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষায় স্মার্ট সীমান্ত ব্যবস্থার অপরিহার্যতা ও সীমান্তের বিবরণ
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করতে এত উৎসাহ কিন্তু- বিবাহপূর্ব প্রেম-ভালোবাসার নামে অনৈতিক সম্পর্ক নিষিদ্ধ করতে সরকারী কর্মকর্তাদের কেন কষ্ট লাগে?
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্বের ১৩০টি দেশ বাংলাদেশী পোলাওর চালের স্বাদ নিতে পারলেও বঞ্চিত হলো এবং হচ্ছে বাংলাদেশের গরীব জনসাধারণ।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত দেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সব নাগরিকের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নতুন সেনানিবাস ও গ্যারিসন পরিকল্পনার অপরিহার্য রূপরেখা (পর্ব-১৮)
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
দ্বীন ইসলাম উনার কথা বলা দ্বীনি এবং সাংবিধানিক অধিকার।
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গোল্ডেন রাইস বহুজাতিক কোম্পানির এগ্রিবিজনেসের নতুন হাতিয়ার
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
৫০ লক্ষাধিক সেনাসদস্যের প্রস্তাবিত স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ এবং ক্লোজ কোয়ার্টার কমব্যাট প্রশিক্ষণ (পর্ব১৫)
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












