আধুনিক চিকিৎসায় উটের বিভিন্ন অঙ্গের ব্যবহার
, ০৬ই রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ৩১ রবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ১৫ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পাঁচ মিশালী
উট মরু প্রান্তরের অনন্য প্রাণী, যাকে ‘মরুভূমির জাহাজ’ বলা হয়। কঠিন পরিবেশে বেঁচে থাকার অসাধারণ ক্ষমতা, দীর্ঘ সময় পানিবিহীন চলতে পারা এবং ভারবাহী পশু হিসেবে এর ব্যবহার মানবসভ্যতার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে। শুধু পরিবহন নয়, উটের দুধ, গোশত, চামড়া ও পশমও মানুষের জীবনে অমূল্য অবদান রাখে। পবিত্র কুরআন শরীফে উটের বিস্ময়কর গঠনশৈলীর ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে, ‘তারা কি উটের দিকে তাকায় না, কিভাবে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে?’
উট মূলত দুই প্রকার। ড্রোমেডারি (এক কুঁজ) ও ব্যাকট্রিয়ান (দুই কুঁজ)। কুঁজে চর্বি সঞ্চিত থাকে, যা খাদ্যের অভাবে শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। কুঁজে পানি সঞ্চয়ের ধারণা ভুল, তবে উটের পাকস্থলীর পাশে বিশেষ থলিতে পানি জমা রাখার ক্ষমতা আছে, যা এদের ৮-১০ দিন পর্যন্ত পানি ছাড়া টিকে থাকতে সাহায্য করে। উটের পায়ের তলায় নরম প্যাড থাকে, যা বালুতে ডুবে যাওয়া রোধ করে।
এদের তিন কক্ষবিশিষ্ট পাকস্থলী রোমন্থনকারী প্রাণীদের মতো কাজ করে। প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ মাইল পথ অতিক্রম করতে সক্ষম, এমনকি কয়েক মণ বোঝাও বহন করে।
গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে উট এমন অনেক উদ্ভিদ খায়, যেগুলো বেশির ভাগ প্রাণী খেতে পারে না বা সহ্য করতে পারে না। উট বাবলাগাছের কাঁটা খেয়েও টিকে থাকতে পারে। এই বিশেষ খাদ্যাভ্যাসের কারণেই উটের দুধ ও চোখের পানিতে বিরল চিকিৎসাগত উপাদান জমা হয়, যা মানুষের জন্য রোগ নিরাময়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
উটের দুধে অটিজম চিকিৎসা:
উটের দুধ হাজার বছর ধরেই পৃথিবীর মরুপ্রবণ এলাকায় বাচ্চাদের বিভিন্ন সমস্যার জন্য ব্যবহার করা হয়ে আসছে। এর মধ্যে বাচ্চার হজমের সমস্যা, অ্যালার্জি, বিকাশগত সমস্যা ইত্যাদি প্রধান। (নেদারল্যান্ড ইনস্টিটিউট অব ডেইরি রিসার্চ এবং নেদারল্যান্ডস গেল্ডার্স ভ্যালি হসপিটাল)-এর গবেষণায় দেখা যায়, উটের দুধে উচ্চ মাত্রায় ল্যাক্টোফেরিন, ইম্যুনোগ্লোবিউলিন, লাইসোজোম ও ল্যাক্টোপার অক্সাইড আছে, যার কারণে প্রাচীনকাল থেকেই উটের দুধ অন্ত্রের ও পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যার জন্য ব্যবহার হয়ে আসছে। সেই সঙ্গে উটের দুধে মানব শরীরে ইনসুলিনের মতোই কাজ করতে সক্ষম-এক ধরনের প্রোটিন আছে, যা ডায়াবেটিসের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মানব দুগ্ধের মতো উটের দুধেও বেটা-ল্যাক্টোগ্লোবিউলিন থাকে না, তাই অন্য প্রাণীর দুধ খাওয়ার ফলে ‘ইমিউন-হাইপার অ্যাক্টিভিটি’ হওয়ার যে সম্ভাবনা থাকে, উটের দুধ খেলে সেই সম্ভাবনা থাকে না। যাদের বাচ্চা অটিজমে আক্রান্ত, তারা বাচ্চাকে গরুর দুধের পরিবর্তে উটের দুধ খাইয়ে দেখতে পারেন তাদের মধ্যে কোনো পরিবর্তন আসে কি না। উটের দুধ সহজলভ্য না হলেও বিরল নয়।
উটের অশ্রু মরুভূমির অ্যান্টিভেনম:
ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার অন ক্যামেলের (এনআরসিসি) বিজ্ঞানীরা চমকপ্রদ দাবি করেছে, উটের চোখের পানির এমন শক্তিশালী অ্যান্টিবডি রয়েছে যা ২৬টি ভিন্ন প্রজাতির বিষাক্ত সাপের বিষকে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম। উটের চোখের পানি হয়তো ভবিষ্যতে প্রাণরক্ষার অন্যতম অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।
গবেষণার শুরুতে উটের শরীরে বোড়া সাপের বিষ দিয়ে তৈরি এক ধরনের টিকা প্রয়োগ করা হয়। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষায় ধরা পড়ে, উটের চোখের পানি ও রক্তের সিরাম থেকে যে অ্যান্টিবডি পাওয়া যায়, সেগুলো শুধু বিষক্রিয়া কমাতে সক্ষম নয়, বরং বিষের কারণে শরীরে হওয়া রক্তক্ষরণ ও জমাট বাঁধার মতো মারাত্মক প্রক্রিয়াকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
বিজ্ঞানীদের মতে, যদি এই গবেষণা প্রয়োগ পর্যায়ে সফল হয়, তাহলে অ্যান্টিভেনম তৈরির পদ্ধতিতে আসতে পারে এক বিপ্লব। বর্তমানে সাপের কামড়ের প্রতিষেধক তৈরি হয় মূলত ঘোড়ার ইমিউনোগ্লোবিউলিন থেকে।
বন্ধ্যাত্ব ও গর্ভধারণের চিকিৎসা:
প্রখ্যাত ইসলামী বিজ্ঞানী ডা. জাঘলুল নাজ্জারকে যখন উটের বিভিন্ন অঙ্গ দ্বারা চিকিৎসার প্রসঙ্গ জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সেরনো একটি হাদীছ শরীফ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নারীদের বন্ধ্যাত্ব ও গর্ভধারণের জটিলতা নিরসনের জন্য একটি ওষুধ তৈরি করেছে এবং এ চিকিৎসা এখনো প্রচলিত আছে।
এছাড়া উটের বিভিন্ন অঙ্গ ব্যবহারে বিশেষ করে উটের গোশত বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে সহায়ক।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মাত্র দু’জনের মুখে টিকে আছে যে ভাষা
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তিস্তায় মাছ ধরার জালে আটকা ৭ ফুটের অজগর
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আম খেলে কি ওজন বাড়বে?
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দীর্ঘক্ষণ বসে থেকে কোমরব্যথা, কী করবেন?
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মানুষের জীবনের হাল বদলাতে পারে মাটির স্পর্শে
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কিছু মানুষকে মশা বেশি কামড়ায় কেন?
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আগের চেয়ে অনেক ধীরগতিতে ঘুরছে প্লুটোর চাঁদ, বলছে নতুন গবেষণা
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পদ্মার এক ঢাই মাছ ৫৯ হাজার টাকায় বিক্রি
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বন্যপ্রাণীর নিরাপদ পথচলায় মধুপুরে পাঁচ ক্যানোপি ব্রিজ
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
অযত্ন-অবহেলায় পরিত্যক্ত শতবর্ষী লাইব্রেরি
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পাকলে মোলায়েম টক-মিষ্টি স্বাদের ডেওয়া ফল
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
কালিয়াকৈরের ঐতিহ্য ‘ধনীর চিড়া’
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












