মন্তব্য কলাম
আগামী ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে পর্যটক যাতায়াত বন্ধ। মহা উদ্বিগ্ন এবং চরম হতাশ নারিকেল দ্বীপের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ দ্বীপ ছেড়ে বাসিন্দারা পালিয়ে যাচ্ছে-বান্দরবান, টেকনাফে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের চোখে জ্বলে উঠছে অসহায়তার আগুন আর দ্বীপের নীল পানির মতো অশ্রু ঝরছে।
, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মন্তব্য কলাম
তারা জোরদারভাবে জানাচ্ছে, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ান, না হলে এই দ্বীপ মরুভূমিতে পরিণত হবে।
কাফনের কাপড় পরে নারিকেল দ্বীপের বাসিন্দাদের অবস্থান
দ্বীপবাসীর আকুল অন্ততঃ ফেব্রুয়ারি মাসটি নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হোক
যুগ যুগ ধরে নারিকেল দ্বীপের কিছুই হয়নি।
এই এক দুই মাসে নারিকেল দ্বীপে কী এমন আসে যায়?
পর্যটক যাতায়াত বন্ধ না করে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা যেত।
এভাবে একেবারে বন্ধ করে দেওয়া সংবিধান বিরোধী।
পাশাপাশি গণ মানুষের মানবাধিকার হরণ করা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণœ করার শামিল। (নাউযুবিল্লাহ)
আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নারিকেল দ্বীপে পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এতে আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে দ্বীপটির ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে। আর্থিক ক্ষতি কমাতে অন্তত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দ্বীপটিতে পর্যটন চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নারিকেল দ্বীপ মারমেইড রিসোর্টের মালিক তৈয়ব উল্লাহ বলেন, 'নারিকেল দ্বীপের মানুষ মাত্র দুই মাসের আয় দিয়ে বছরের বাকি ১০ মাস টিকতে পারবে না। আমরা সরকারের কাছে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দ্বীপটি খোলা রাখার দাবি জানাই।'
'মার্চ থেকে রমজান শুরু হবে। তখন এমনিতেই পর্যটক আসবে না। তাই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুযোগ দেওয়া হোক।'
বিগত বছরগুলোতে এ সময়ে পর্যটকে সরগরম থাকতো প্রবাল সমৃদ্ধ দেশের একমাত্র দ্বীপ নারিকেল দ্বীপ। হেমন্ত ও শীতের কুয়াশা মাখা প্রকৃতিতে সাগরের শান্ত রূপ বিদ্যমান সময় পর্যন্ত চলমান থাকে দ্বীপে পর্যটক আনাগোনা। গত দু'দশক ধরে পর্যটনে নির্ভর দ্বীপবাসী পূর্ব পুরুষদের পেশা মাছ ধরা ধীরে ছেড়ে দিয়েছে। ছেড়ে দিয়েছে পুরো দমে চাষাবাদও। গত মৌসুম হতে দুই দশকের আয়ের উৎস পর্যটন সেবায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়া শুরু হয়েছে।
১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত নারিকেল দ্বীপে পর্যটন মৌসুম চলে। অক্টোবরে টেকনাফ- নারিকেল দ্বীপ ও কক্সবাজার- নারিকেল দ্বীপ রুটে জাহাজ চলাচলের অনুমতি থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বাকি ছয় মাস এই সেবা বন্ধ থাকে।
তবে এবার অন্তর্বর্তী সরকার নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ফলে নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে সীমিত পর্যটন চালু ছিল। নভেম্বরে রাতযাপন নিষিদ্ধ থাকলেও ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে প্রতিদিন মাত্র দুই হাজার পর্যটক রাত্রিযাপন করতে পারছেন। ফেব্রুয়ারি থেকে দ্বীপে পর্যটন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
দ্বীপের হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ রহিম জিহাদি বলেন, 'এটি দ্বীপের জন্য নজিরবিহীন সংকট। পর্যটন বন্ধ হলে হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়বে।'
সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসেন ইসলাম বাহাদুর বলেন, 'সরকারের কাছে আবেদন, অন্তত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নারিকেল দ্বীপে পর্যটন চালু রাখুন। এতে দ্বীপের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতি কিছুটা কম হবে।'
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবেশ সংরক্ষণে বিধিনিষেধের কারণে নভেম্বরে পর্যটক না আসায় হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ, ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা এবং দ্বীপের কয়েক হাজার মানুষ অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছেন। যদিও ডিসেম্বরের শুরুতে সীমিত পর্যটক আসায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সরকার দৈনিক দুই হাজার পর্যটকের সীমা ও নির্দিষ্ট সময়ে রাত্রিকালীন থাকার অনুমতি (ডিসেম্বর-জানুয়ারি) দিলেও নভেম্বরে রাত্রিকালীন থাকার নিয়ম না থাকায় পর্যটকদের আগ্রহ কম ছিল। যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দুর্দশা বাড়িয়েছে এবং পর্যটন শিল্পের ক্ষতি করেছে। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যটকদের জন্য শেষ দিন। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা ৯ মাস পর্যটকশূন্য থাকবে দ্বীপ। যদিও চলতি মৌসুমে কাক্সিক্ষত আয় হয়নি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। সামনে দীর্ঘ কর্মহীন জীবন আর দুর্দিনের শঙ্কায় রয়েছেন দ্বীপবাসী।
সরকারি বিধিনিষেধ
নারিকেল দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিবেশ, বন ও পানিবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত ২২ অক্টোবর ১২টি নির্দেশনা-সংবলিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। তাতে বলা হয়, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা ৯ মাস বন্ধ থাকার পর ১ নভেম্বর থেকে তিন মাসের জন্য নারিকেল দ্বীপ উন্মুক্ত থাকবে। দৈনিক দুই হাজার পর্যটক দ্বীপ ভ্রমণে যেতে পারবেন। তবে নভেম্বর মাসে দ্বীপে রাত্রিযাপন করতে পারবেন না। ডিসেম্বর জানুয়ারি দুই মাস রাত্রিযাপনের সুযোগ রাখা হয়। রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা না থাকায় গত নভেম্বর মাসে নারিকেল দ্বীপ যাননি পর্যটকরা। তবে ডিসেম্বর থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত দিনে এক-দেড় হাজার পর্যটক গেছেন।
পর্যটন ব্যবসাই দ্বীপের মানুষের ভরসা
দ্বীপের মানুষের জীবিকা নির্বাহের প্রধান উৎস ছিল পর্যটন ও মাছ ধরা। বছরের বেশিরভাগ মাস হোটেল, রেস্টুরেন্ট, দোকান, নৌকা চালানো আর গাইডের কাজ করে সংসার চলতো। কিন্তু পর্যটক সীমিত করার ফলে আয়ের খাত বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সৈকতের পাশে যেসব বড় হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে, তার বেশিরভাগই বাইরের লোকজনের মালিকানাধীন। পর্যটক কম আসায় সেগুলোতে কর্মী কমানো হয়েছে। আবার বছরের বেশিরভাগ মাস পর্যটক না আসায় ছোট দোকান, সৈকতের পাশে ভ্রাম্যমাণ দোকান, নৌকার মাঝি কিংবা হকারদেরও তেমন আয় হচ্ছে না। ফলে চলতি মৌসুমে তেমন আয় হয়নি কারও।
দুশ্চিন্তা ও হতাশায় ব্যবসায়ীরা
দ্বীপের জেটিঘাটের কাছাকাছি এলাকায় ২০ বছর ধরে শুঁটকির ব্যবসা করেন মনজুর আলম। তিনি নারিকেল দ্বীপ পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা। সাত জনের পরিবার তার। তিনি বলেন, ‘স্বজনদের কাছে থেকে চার লাখ টাকা ধার নিয়ে মৌসুমের শুরুতে ব্যবসা শুরু করি। কিন্তু এখনও দোকানের অধিকাংশ মাছ অবিক্রিত রয়ে গেছে। দোকান ভাড়া এবং পাঁচ জন কর্মচারীর বেতনও বাকি। আর মাত্র কয়েক দিন আছে। এরপর নারিকেল দ্বীপে পর্যটক আসতে পারবে না। এর মধ্যে এতগুলো শুঁটকি বিক্রি করতে না পারলে কীভাবে ধার পরিশোধ করবো, সেই চিন্তায় ঘুম আসে না।’
তিনি বলেন, ‘দ্বীপের বেশিরভাগ মানুষ জেলে। পর্যটন ব্যবসা ছাড়া তেমন কোনও পেশা নেই। আমি সাগরে মাছ ধরতে গেলে অসুস্থ হয়ে পড়ি। তাই এই ব্যবসাই আমার শেষ ভরসা। এটিও যদি না চলে সংসার চলবে কীভাবে আমার।’
টমটম চালকদের আয়ের পথ বন্ধ
দুই লাখ ২০ হাজার টাকায় একটি টমটম কিনে নারিকেল দ্বীপে চালানো শুরু করেন মোহাম্মদ জমির উদ্দিন। ২২ বছর এই পেশায় পার করে দেওয়া জমির এখন ধারদেনায় ডুবে আছেন। জমির বলেন, ‘দ্বীপে তেমন রাস্তাঘাট নেই। আমরা পর্যটকদের নিয়ে সৈকতে ঘোরাফেরা করেই ভালো আয় করতাম। কিন্তু এখন সরকারি বিধিনিষেধ থাকায় সৈকতে গাড়ি চালালে জরিমানা ও জব্দ করা হয়। কয়েকদিন ধরে অভিযান চলছে। তাই এখন কোনও ভাড়া পাচ্ছি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরিবারে ছয় সদস্য রয়েছে। ভাড়া না পেলে সংসার চালানো কঠিন। তার ওপর ধারে কেনা টমটমের টাকা শোধ করতে পারিনি। পর্যটক বন্ধের সময় আমাদের যাতায়াতের ক্ষেত্রেও বাধা, মনে হয় দেশের ভেতর আরেক দেশে বাস করছি।’
কটেজ বানিয়ে লোকসান
দ্বীপের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব পাড়া বিচের পাশে ‘আমিন বাড়ি’ হোমস্টে মালিক মোহাম্মদ আমিন বলেন, ‘তিন লাখ টাকা খরচ করে কটেজ সংস্কার করেছি। কিন্তু মাত্র চার দিন বুকিং পেয়েছি। খরচের টাকাটা উঠলে মনকে বোঝানো যেতো। খুব কষ্টে দিন যাচ্ছে। শুধু আমি নই, সবার একই অবস্থা।’
একই কথা বলেছেন ডেইল পাড়ার কটেজ মালিক আব্দুল আজিজ। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর ৭-৮ লাখ টাকা আয় হতো। এবার পুরো মৌসুমে আয় হয়েছে ১১ হাজার টাকা। স্টাফের বেতন দিতে হয়েছে ধার করে। সিন্ডিকেটের কারণে ব্যবসা একেবারে মন্দা। ঢাকা-কক্সবাজারভিত্তিক সিন্ডিকেট জাহাজ ও হোটেল বুকিং একচেটিয়া করে স্থানীয়দের ব্যবসা ধ্বংস করে দিয়েছে। লোকসানে আছি আমরা।’
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে হাহাকার
দ্বীপে নারিকেল ও ডাব বিক্রেতা, দোকানি, ভ্রাম্যমাণ দোকানি, ভ্যান-টমটম চালকসহ সবার মুখে হাহাকারের কথা উঠে এলো। তারা বলছেন, পর্যটক কম। আয় কম, এজন্য ধার বাড়ছে। এভাবে চললে তাদের না খেয়ে মরতে হবে।
দ্বীপের বাসিন্দা নুর আলম বলেন, ‘দ্বীপ বাঁচাতে গিয়ে যদি মানুষকে বাঁচানো না যায়, তাহলে দ্বীপ রক্ষা কার জন্য? তাহলে নারিকেল দ্বীপে সুদিন ফিরবে কবে।’
লোকসানে হোটেল ব্যবসায়ীরা
নারিকেল দ্বীপের দোকান মালিক সমিতির সহসভাপতি মৌলভী নুর আহমদ জানান, বছরের নয় মাস পর্যটক না থাকায় দ্বীপের কয়েক হাজার মানুষ অভাব-অনটনে দিন কাটান। ২৩০টির বেশি হোটেল, রেস্তোরাঁ, দোকানপাট বন্ধ থাকে। এতে ব্যবসায়ীদের মাসের পর মাস লোকসান গুনতে হয়। সবাইকে কষ্ট করতে হচ্ছে।
সৈকতে আবর্জনার স্তূপ
একই কথা বলেছেন নারিকেল দ্বীপ হোটেল মালিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ মাহবুব উল্লাহ। তিনি বলেন, ‘দ্বীপের মানুষের ১২ মাসই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে চলতে হয়। বিশেষ করে অভাবের কারণে খাদ্য সংকট এবং চিকিৎসা নিয়ে বেশি কষ্টে থাকে দ্বীপবাসী। তাই পর্যটকদের জন্য দ্বীপ অন্তত চার মাস খোলা রাখা দরকার। পরিবেশ রক্ষার নামে দ্বীপে পর্যটক বন্ধ রেখে আসলে পরিবেশ কতটুকু উন্নত হয়েছে।’
দ্বীপের বাসিন্দা অধিকারকর্মী তৈয়ব উল্লাহ বলেন, ‘অন্যান্য বছরের তুলনায় এই মৌসুমে ব্যবসায়ীদের তেমন আয় হয়নি। কারণ পর্যটক তেমন আসেনি। আবার কক্সবাজার-ঢাকার বিনিয়োগকারীরা সিন্ডিকেট করে জাহাজ-হোটেলগুলোতে এককভাবে ব্যবসা করেছেন। যেসব পর্যটক এসেছেন, তারা উন্নতমানের হোটেলে ছিলেন, যার কারণে কিছুটা অনুন্নত হোটেল পর্যটক পায়নি। পর্যটক আসা বন্ধ থাকলে দ্বীপের মানুষের মাঝে দুর্দিন নেমে আসে। তাই দ্বীপের মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া সরকারের উচিত।’
দ্বীপের মানুষের এই দুর্দিন কাটবে কবে
দ্বীপের মানুষের এই দুর্দিন কাটবে কবে এমন প্রশ্ন তুলেছেন নারিকেল দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘নারিকেল দ্বীপ যদি বাংলাদেশের অংশ হয়ে থাকে তাহলে কেন স্থানীয় বাসিন্দাদের এত নিয়মকানুন মেনে যাতায়াত করতে হবে। বিদেশ যেতে যেমন পাসপোর্ট লাগে ঠিক তেমনিভাবে পর্যটক বন্ধের সময় যাতায়াত করতে হয়।’
তিনি বলেন, ‘এবার পর্যটন শিল্পে স্থানীয়দের কোনও আয়রোজগার হয়নি। শুধু দুই-একটা হোটেল ছাড়া। আমার নিজেরও খাবার হোটেলসহ একটা কটেজ রয়েছে, সেটি ৪০ হাজার টাকা খরচ করে সংস্কার করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় এক টাকারও ব্যবসা হয়নি। শুধু আমি না, স্থানীয়দের ছোট-বড় দেড়শ কটেজ রয়েছে। যার কোনোটি ভাড়া হয়নি এই মৌসুমে। এবার একটু চিন্তা করে দেখেন পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত দ্বীপের ৯ হাজার মানুষের অবস্থা কতটা বেহাল। সামনে বন্ধের দিনে এসব মানুষের না খেয়ে উপাস থাকতে হবে। আমরা সরকারের নিয়মনীতি মানতে রাজি। কিন্তু বিনিময়ে কি খাবার জুটবে? এভাবে চললে তো এখানে দুর্ভিক্ষ নামবে।’
নারিকেল দ্বীপের পরিবেশ-প্রতিবেশ সম্পর্কে তারা সম্যক অবগত। পরিবেশ রক্ষা করতে দ্বীপবাসীকে সাথে নিয়েই করতে হবে। কিন্তু সরকার পরিবেশ রক্ষার দোহাই দিয়ে পর্যটক গমনাগমনে বিধি-নিষেধ আরোপ পর্যটন শিল্প ধংসেরই পাঁয়তারা করছেন। এতে দ্বীপবাসীর জীবন-জীবিকাসহ পর্যটনের সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার কর্মির কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়েছে।
আল নোমানের কণ্ঠ কেঁপে ওঠে, “জন্ম-বড় হওয়া এই দ্বীপে আমরা পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল-আগে পর্যটকরা আসতো, হোটেল ভরতো, জীবন ফিরতো; কিন্তু এখন নভেম্বর-ডিসেম্বর-জানুয়ারির সীমাবদ্ধ সময়েও দিনে ফিরে যাওয়ার নিয়মে কে আসবে? আমরা দ্বীপ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছি- বান্দরবান, টেকনাফে, কিন্তু এই দ্বীপের কান্না কে শুনবে?” তার চোখে জ্বলে উঠছে অসহায়তার আগুন, যেন দ্বীপের নীল পানির মতো অশ্রু ঝরছে।
এই নিষেধাজ্ঞা যেন শুধু পর্যটন নয়, দ্বীপবাসীর জীবনের সবকিছুকে গ্রাস করছে-হোটেলের মালিকরা বাস্তুত্যাগ করছেন, দোকানপাট বন্ধ, গাড়িঘোড়া স্থবির। আল নোমানের বাস্তুবাদী ফোন যেন এক কাতর আহ্বান, “আমরা বিকল্প আয়ের উৎস খুঁজছি, কিন্তু দ্বীপ ছাড়া আর কোথায় যাব?
পর্যটন ছাড়া আমাদের জীবন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে- এটি এক নিষ্ঠুর আঘাত, যেন আমাদের হৃদয়কে ছিন্ন করছে।”
হোসেন ইসলাম বাহাদুরের কথায় মিশে গেছে ক্ষোভের আগুন, “হোটেল, মোটেল, রিসোর্টের মালিকরা হাজারো মানুষের জীবিকা হারাচ্ছে- আমরা সরকারকে বিনীতভাবে বলছি, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ান, না হলে এই দ্বীপ মরুভূমিতে পরিণত হবে।” তার চোখে জ্বলছে অসহায়তার অশ্রু, যেন দ্বীপের নীল পানির মতো ঢেউয়ে ঢেউয়ে বয়ে যাচ্ছে কান্না।
এই নিষেধাজ্ঞা যেন শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং সামাজিক ক্ষতির এক নির্মম চিত্র- হাজারো পরিবারের জীবিকা হারাচ্ছে, যুবকরা চাকরি খুঁজে বাইরে যাচ্ছে, মেয়েরা শিক্ষার স্বপ্ন হারাচ্ছে।
মাজিবুর রহমানের কথায় ফুটে উঠছে দ্বীপের আহ্লাদের কান্না, “১০,০০০ মানুষ পর্যটনে নির্ভরশীল, এই বন্ধে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত-হোটেল বন্ধ, দোকান শূন্য, জীবনের রঙ ম্লান।”
এই ক্ষতি যেন এক বিষাক্ত নদী, যা দ্বীপের প্রতিটি ঘরে বয়ে দিচ্ছে দুর্দশার স্রোত। সরকারের নিয়ম যেন এক কঠিন শৃঙ্খল, কক্সবাজার থেকে জাহাজে আসা পর্যটকদের জন্য জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির সীমিত রাত্রীযাপন-কিন্তু কে আসবে দিনে ফিরে যাওয়ার জন্য?
এই আড়ালে লুকিয়ে আছে দ্বীপবাসীর হাজারো কান্না, যেন তাদের চোখে জ্বলছে অসহায়তার অগ্নি।
যুগ যুগ ধরে নারিকেল দ্বীপের কিছুই হয়নি। এই এক দুই মাসে নারিকেল দ্বীপে কী এমন আসে যায়? পর্যটক যাতায়াত বন্ধ না করে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা যেত। এভাবে একেবারে বন্ধ করে দেওয়া সংবিধান বিরোধী ও মানুষের অধিকার হরণ করা এবং সার্বভৌমত্ব ক্ষুণœ করার শামিল। মূলত: নারিকেল দ্বীপকে মানুষ শুন্য ও মরভূমি বানানোর নীল নকশা।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
গতকাল ১৪ই ফেব্রুয়ারি বিশালভাবে অনুষ্ঠিত হলো সুন্দরবন সম্মেলন সুন্দরবন ধ্বংসে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত চলছে ক্রমেই ছোট হচ্ছে সুন্দরবন, হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য আমাদের পরম প্রয়োজনীয় সুন্দরবন, এই সুন্দরবন বাঁচলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের ফুসফুস সুন্দরবনকে বাঁচাতে হবে ইনশাআল্লাহ
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রায় ৩ কোটি নাগরিকের বসবাসের কারণে ঢাকা শহর এখন সূর্যালোকের তীব্র অভাব ঢাকাবাসীর ভিটামিন ডির চরম অভাব ভিটামিন ডির অভাবে চলছে নীরব মহামারি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্থ নাগরিক সুস্থভাবে বাঁচতে ঢাকায় বিকেন্দ্রীকরণ জরুরী
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সঠিক পরিসংখ্যান ও জরিপের অভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না সরকার সঠিক পরিসংখ্যান ছাড়া শুধু অর্থনীতিই নয় কোনো খাতেরই সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা সম্ভব নয় বাজার নিয়ন্ত্রণে চাই সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত জরিপ তথা পরিসংখ্যা
১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ডানে সেলফি বামে সেলফি, সেলফি সেলফি সেলফি উন্মাদনায় সমাজে ব্যাপকভাবে বেড়েছে হত্যা, আত্মহত্যা, সম্ভ্রমহরণ, সড়ক দুর্ঘটনাসহ নানা অপরাধ। বিভিন্ন দেশে সেলফি’র উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করলেও বাংলাদেশে কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৬৮ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা ‘আইএমএফের চাপে’ নতুন করের বোঝা বাড়ছে ৫৫ হাজার কোটি টাকা আইএমএফের শর্ত মানতে গিয়ে সরকারকে জ্বালানি, সার, বিদ্যুৎ এবং সামাজিক খাতে ভর্তুকি কমাতে হয়। এতে সমাজের নিচের স্তরের মানুষের ওপর চাপ বাড়ে।
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দেশে মজুদ খনিজ সম্পদের অর্থমূল্য প্রায় ৫০ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি কিন্তু উত্তোলনে বিনিয়োগ নাই বললেই চলে অথচ দেশ থেকে অর্থ পাচারের পরিমাণ ২০ লাখ কোটি টাকা সরকারের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ কোটি টাকা এসব টাকা খনিজ সম্পদ উত্তোলনে ব্যয় করলে ৫০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির সুফল দেশবাসীকে দেয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ!
০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘উচ্চ সুদহার ব্যবসায়ীরা আর সহ্য করতে পারছেন না। ‘অগ্রিম আয়কর (এআইটি) এবং উৎসে কর কর্তন (টিডিএস) ব্যবসায়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। এআইটি ও টিডিএস আসলে ট্যাক্স টেরোরিজম বা কর-সন্ত্রাস। ব্যবসায়ীরা ‘কর-সন্ত্রাস’ থেকে মুক্তি চান।
০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিদেশি হাইব্রিড বীজের ফাঁদে দেশের কৃষি। হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় ফসলের জাত, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। ফুলে-ফেঁপে উঠছে বীজ কোম্পানিগুলো। দেশীয় বীজে একদিকে ভেজাল দেওয়ার সুযোগ নেই, অন্যদিকে প্রক্রিয়াজাত, মোড়কজাত ও হিমঘরে সংরক্ষণেরও দরকার পড়ে না। এতে জ্বালানি ব্যবহার কম পড়ে, কম বর্জ্য উৎপন্ন হয়। বন্যপশু ও পাখিরা ভালো থাকে।
০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সন্ত্রাসবাদ নয়; জিহাদী যোগ্যতা অর্জন করা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অনুযায়ী ফরয। ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত দেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সব নাগরিকের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। উন্নত প্রশিক্ষন, যুদ্ধকৌশল, সামরিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখন সাফল্যের শীর্ষে।
০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা গবেষণার দিকে আগ্রহী না হয়ে বিসিএস পরীক্ষায় আগ্রহী হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে তহবিল বা অর্থায়ন আসার প্রক্রিয়াটি সরকারের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগের মাধ্যমে সম্পন্ন হতে হবে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক স্থাপন হয়নি সব বাধা দূর করে জীবন-জীবিকা বান্ধব সমৃদ্ধ গবেষণার জন্য যথাযথ তৎপরতা ও প্রচেষ্টা একান্ত দরকার
০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান ও ফিতনা-আল-খারিজ কি, ভারতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে?
০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বাংলাদেশে বাবা মার কারণেই শিশুরা ইন্টারনেট আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ে কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিশুদের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ হচ্ছে নিয়ন্ত্রনহীন ইন্টারনেট জগতে প্রবেশ করে অশ্লীলতা, হিংস্রতা ও অপসংস্কৃতিতে লিপ্ত হচ্ছে বাংলাদেশের শিশু কিশোররা সরকারের উচিত হবে গাইডলাইন প্রসঙ্গ না রেখে মুসলিম দেশ হিসেবে শিশু-কিশোরদের জন্য ইন্টারনেট সম্পূর্ণ বন্ধ করা। পাশাপাশি বয়স্কদের জন্যও ছবিভিত্তিক ইন্টারনেট বন্ধ করা।
০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












