* আমার অভিভাবক তো আল্লাহ পাক, যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তিনিই সৎকর্ম পরায়ণদের অভিভাবকত্ব করে থাকেন। আল্লাহ পাক ব্যতীত তোমরা যাকে আহবান করো তারা তো তোমাদেরকে সাহায্য করতে পারে না এবং তাদের নিজেদেরকেও না। যদি তাদেরকে সৎপথে আহ্বান করেন তবে তারা শ্রবণ করবে না এবং আপনি দেখতে পাবেন যে, তারা আপনার দিকে তাকিয়ে আছে কিন্তু তারা দেখে না’। (পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ : ৭/১৯৪-১৯৮)।
, ০৬ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৯ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ০২ কার্তিক, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) বিশেষ প্রতিবেদন
‘নিশ্চয়ই আকাশ ও পৃথিবীর সৃজনে আর রাত ও দিনের ক্রমাবর্তনে সে সকল লোকদের জন্য অসংখ্য নির্দশন বিদ্যমান’। (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : ৩/১৯০)
* পবিত্র কুরআন শরীফে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে উদ্ধৃত হয়েছে- ‘যখন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি উনার চাচা ও উনার সম্প্রদায়কে বললেন, এই মূর্তিগুলো কি যাদের পূজায় তোমরা রত রয়েছ। তারা বলল, আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে এদের পূজা করতে দেখেছি। তিনি বললেন, তোমরা নিজেরা এবং তোমাদের পিতৃ-পুরুষরাও রয়েছ স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে। তারা বলল, আপনি কি আমাদের নিকট সত্য এনেছেন, না আপনি কৌতুক করছেন? তিনি বললেন, না, তোমাদের প্রতিপালক তো আকাশম-লী ও পৃথিবীর প্রতিপালক, যিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন এবং এ বিষয়ে আমি অন্যতম সাক্ষী। শপথ মহান আল্লাহ পাক উনার তোমরা চলে গেলে আমি তোমাদের মূর্তিগুলো সম্বন্ধে অবশ্যই কৌশল অবলম্বন করব। অতঃপর তিনি চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলেন মূর্তিগুলোকে তাদের প্রধানটি ব্যতীত। যাতে তারা উনার দিকে ফিরে আসে। তারা বলল, আমাদের উপাস্যগুলোর প্রতি এরূপ করল কে? তিনি নিশ্চয়ই সীমালংঘনকারী। কেউ কেউ বলল, এক যুবককে তাদের সমালোচনা করতে শুনেছি। উনাকে বলা হয় ইবরাহীম আলাইহিস সালাম। তারা বলল, উনাকে উপস্থিত করো লোক সম্মুখে। যাতে তারা সাক্ষ্য দিতে পারে। তারা বলল, হে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম! আপনিই কি আমাদের উপাস্যগুলোর প্রতি এরূপ করেছেন? তিনি বললেন, বরং এদের এই প্রধান সেই তো তা করেছে, তাদেরকেই জিজ্ঞেস করো যদি তারা কথা বলতে পারে। তখন তারা মনে মনে চিন্তা করে দেখল এবং একে অপরকে বলতে লাগল তোমরাই তো সীমালংঘনকারী। অতঃপর তাদের মস্তক অবনত হয়ে গেল এবং তারা বলল, আপনি তো জানেনই যে এরা কথা বলে না। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বললেন, তবে কি তোমরা আল্লাহ পাক উনার পরিবর্তে এমন কিছুর ইবাদত করো যা তোমাদের কোন উপকার করতে পারে না, ক্ষতিও করতে পারে না। ধিক তোমাদেরকে এবং আল্লাহ পাক উনার পরিবর্তে তোমরা যাদের ইবাদত করো তাদেরকে, তবুও কি তোমরা বুঝবে না?’ (পবিত্র সূরা আম্বিয়া শরীফ : ২১/৫২-৬৭)
* মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো বলেনঃ
‘‘বলুনঃ আমি কি সেসব লোকদের কথা জানিয়ে দেব? যাদের পরিণতি আল্লাহ পাক উনার কাছে এর চেয়ে খারাপ। তারা এমন লোক যাদেরকে আল্লাহ পাক লানত করেছেন এবং যাদের উপর আল্লাহ পাক উনার গযব নাযিল হয়েছে। যাদের মধ্য থেকে কিছু লোককে তিনি বানর ও শুকর বানিয়ে দিয়েছেন। তারা তাগুতের পূজা করেছে। তারাই মর্যাদার দিক দিয়ে নিকৃষ্টতর এবং সত্যপথ থেকেও অনেক দূরে। (পবিত্র সূরা মায়েদা শরীফ : ৬০)
* অথচ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চরিত্র মুবারক ও ব্যবহার মুবারক সম্পর্কে আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফে বলেনঃ
‘‘মহান আল্লাহ পাক উনার রহমতেই আপনি তাদের জন্য কোমল হৃদয় হয়েছেন। পক্ষান্তরে আপনি যদি রূঢ় ও কঠিন হৃদয় হতেন, তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত’’। (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : ১৫৯)
* আল্লাহ পাক তিনি আরো বলেনঃ
‘‘অনেক লোক স্বীয় ভ্রান্ত প্রবৃত্তি দ্বারা বিনা ইলিমে মানুষকে বিপথগামী করতে থাকে। আপনার প্রতিপালক সীমা লংঘনকারীদের সম্পর্কে পূর্ণ অবগত’’। (পবিত্র সূরা আনআম শরীফ : ১১৯)
আল্লাহ পাক তিনি আরো বলেনঃ ‘‘তাদের পূর্বেও অগ্রবর্তীদের অধিকাংশ লোক বিপথগামী হয়েছিল’’। ( পবিত্র সূরা ছফ্ফাত শরীফ : ৭১)
* ‘‘ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহ পাক উনার রাসূল এবং শেষ নবী। আল্লাহ পাক তিনি সর্ব বিষয়ে পরিজ্ঞাত’’। (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : ৪০)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো বলেনঃ
আর হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, দুনিয়ার জীবনে তোমাদের মধ্যে পরস্পরিক মহব্বতের জন্যই তো তোমরা আল্লাহ পাক উনাকে ছাড়া মূর্তিদেরকে গ্রহণ করেছো। তারপর কিয়ামতের দিন তোমরা একে অপরকে অস্বীকার করবে এবং পরস্পর পরস্পরকে অভিশাপ দিবে, আর তোমাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম আর তোমাদের জন্য থাকবে না কোন সাহায্যকারী। [পবিত্র সূরা আনকাবুত শরীফ : ২৫]
* প্রাণীর প্রতিকৃতি বানানো এবং এর মর্যাদাপূর্ণ ব্যবহার দুটোই শরীয়তে নিষিদ্ধ ও হারাম। এ প্রসঙ্গে যে হাদীছ শরীফগুলো এসেছে তা অকাট্য ও মুতাওয়াতির। ইসলামের সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত এ বিষয়ে গোটা মুসলিম উম্মাহর ঐকমত্য ও ইজমা রয়েছে। এটা মুমিনদের ঐকমত্যপূর্ণ পথ। আর পবিত্র কুরআন মাজীদে মুমিনদের ঐকমত্যপূর্ণ পথ পরিহার করাকে জাহান্নামে যাওয়ার কারণ বলা হয়েছে। [পবিত্র সূরা নিসা শরীফ : (৪) : ১১৫]
* আল্লাহ পাক তিনি বলেন-
আর তারা (কাফেররা) বলেছিল, তোমরা পরিত্যাগ করো না তোমাদের উপাস্যদের এবং পরিত্যাগ করো না ওয়াদ্, সুওয়া, ইয়াগূছ, ইয়াঊক ও নাসরকে। অথচ এগুলো অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে। [পবিত্র সূরা নূহ শরীফ : (৭১) : ২৩-২৪]
* আল্লাহ পাক তিনি বলেন-
সেই সময়কে স্মরণ করো, যখন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি স্বীয় চাচা ও নিজ সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, এই ভাস্কর্যগুলো কী, যার সামনে তোমরা ধরনা দিয়ে বস? তারা বলল, আমাদের বাপ-দাদাদেরকে এদের পূজা করতে দেখেছি। [পবিত্র সূরা আম্বিয়া শরীফ (২১) : ৫২-৫৩]
"হে বিশ্বাসীগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্যনির্ণায়ক শর-এসবই ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।" (পবিত্র সূরা মায়েদাহ শরীফ : ৯০)
"আর স্মরণ করো, যখন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বলেছিলেন- হে আমার রব! এই শহরকে নিরাপদ করুন এবং আমাকে ও আমার সন্তানদের মূর্তি পূজা থেকে দূরে রাখুন। হে আমার রব, নিশ্চয় এসব মূর্তি অনেক মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছে...।" (পবিত্র সূরা ইবরাহীম শরীফ : ৩৫-৩৬)
*. "যখন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি উনার চাচা ও তার সম্প্রদায়কে বললেন, ‘এই মূর্তিগুলো কী, যাদের পূজায় তোমরা বুক বেঁধে বসে আছ?’" (পবিত্র সূরা আম্বিয়া শরীফ : ৫২)
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
জনঅসন্তোষের আগুনে ঘি ঢালার শামিল
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ধর্মব্যবসায়ী ও বিধর্মীদেরকে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো থেকে অপসারণ জরুরী
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সমসাময়িক ঘটনা
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্ভ্রমহরণে শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ, কিশোর আটক
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
অন্যান্য দেশে উড়াল সেতু ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে; আর বাংলাদেশ সরকার ফ্লাইওভার তৈরি করছে
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পানির জন্য ভারতের মুখাপেক্ষী হওয়ার প্রয়োজন নেই:
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
যত্রতত্র পূজা মন্ডপ কেন?
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুসলমানদের উপর কাফিরদের নির্যাতনের কারণ উদঘাটন
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন দমনে অস্ত্র তৈরি প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ নিচ্ছে ইংল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
৬ মাসই বন্ধ থাকলে, মামলাজট ছুটবে কিভাবে?
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে এ ধরণের পেপার-পত্রিকাগুলো প্রকাশ হয় কিভাবে?
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আপনি কতটুকু মুসলমান...?
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












