সম্পাদকীয়
৮৭ হাজার থেকে শিক্ষা খাতে বাজেট বেড়ে ১ লাখ সাড়ে ৩৬ হাজার কোটি টাকা কিন্তু গবেষণায় বরাদ্দ কতটুকু? দুর্নীতি সহায়ক প্রবণতা- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা আর ল্যাপটপ দেয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে এসে শিক্ষার মান বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত অর্থায়ন করতে হবে।
, ০৫ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২২ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ২১ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ০৭ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) সম্পাদকীয়
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
আগামী অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা।
বাজেটে শিক্ষায় রেকর্ড বরাদ্দের কথা বলা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিটি নির্বাচনী আসনে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানাচ্ছে সরকার। কিন্তু শিক্ষায় বরাদ্দকৃত বাজেট কি শেষ পর্যন্ত অবকাঠামো নির্মাণেই রূপ নেবে কীনা এ বিষয়ে সংশয়ে উপনীত হয়েছেন অভিজ্ঞমহল।
বাজেটে রেকর্ড বরাদ্দ অবশ্যই সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার একটি ইতিবাচক দিক। তবে কৌশলগত পরিবর্তন না এলে এ বিপুল বরাদ্দ হবে অতীতের বাহ্যিক ও ভৌতিক অবকাঠামোমুখী শিক্ষা উন্নয়ন মডেলের পুনরাবৃত্তি।
প্রতিটি নির্বাচনী আসনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভবন তৈরি শিক্ষা সংযোগের বিকেন্দ্রীকরণ মনে হলেও সাম্প্রতিক সময়ে নিম্নমানের উচ্চশিক্ষার অনিয়ন্ত্রিত প্রসারজনিত বেকারত্বের সংকটকে অস্বীকার/উপেক্ষা করে ৩০০টি নির্বাচনী আসনে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা বিএনপি সরকারের ‘ভ্যালু ফর মানি এবং রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট’ নীতির পরিপন্থী। একইভাবে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ প্রকল্পের আওতায় গ্যাজেট বিতরণ করা রাজনৈতিকভাবে দৃষ্টিনন্দন।
কিন্তু মূল্যায়ন বলছে-একটি সুনির্দিষ্ট ‘জবাবদিহিতা ও সাম্য কাঠামো’ ছাড়া কেবল শিক্ষা খাতে ডিজিটালাইজেশন কর্মসূচি কার্যকারিতাহীন এক শূন্য আধুনিকায়ন প্রকল্পে রূপ নেয়। ‘শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব’-এর মতো মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষায় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। একদিকে যেমন এর পেছনের মূল শক্তি অর্থাৎ শিক্ষকের প্রস্তুতি, শিক্ষাদান পদ্ধতি আধুনিকায়ন ও দক্ষ জনবল তৈরি ছিল অবহেলিত, অন্যদিকে অনুপস্থিত ছিল প্রকল্প বাস্তবায়নে সুশাসন ও জবাবদিহিতা।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) যদি দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের চেয়ে পুঁজিবহুল অবকাঠামো নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেয়া অব্যাহত রাখে, তবে এ রেকর্ড বর্ধিত বরাদ্দ কেবল রাজনৈতিক সুবিধাভোগীদের পকেট ভারী করবে এবং করদাতাদের অর্থের অপচয় ঘটাবে। চূড়ান্ত বিচারে এটি শহুরে উচ্চবিত্ত এবং প্রান্তিক গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের মধ্যকার বিদ্যমান বৈষম্যকে আরো বাড়িয়ে তুলবে।
শিক্ষা মানবসম্পদের আসল ভিত্তি। কিন্তু আমাদের দেশে শিক্ষার প্রসার ঘটেছে বায়ুর প্রসারের মতো। উত্তরায় ১১টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। চারপাশে বিশ্ববিদ্যালয়, বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয় ইত্যাদির ছড়াছড়ি। বেশির ভাগ শিশু হয়তো প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকের পর্যায় শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছেছে। কিন্তু মৌলিক প্রশ্নটা হচ্ছে, তারা শিখছেটা কী? শিক্ষার মানটা কী?
শুধু শিক্ষার প্রসার ঘটলে হবে না। শিক্ষার শুধু পরিমাণগত দিক দেখলে হবে না। শিক্ষার গুণগত ব্যাপারটি দেখতে হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে কিন্তু সবাই অভিযোগ করছে যে মান কমে যাচ্ছে।
শিক্ষার মান কমে যাওয়া মানে, যে মানবসম্পদ তৈরি হচ্ছে, সেটা আসলে সম্পদ নয়। আমরা সনদ পাচ্ছি কিন্তু সম্পদ তৈরি করতে পারছি না।
বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা এবং ভবিষ্যত্ অর্থনীতির জন্য মানবসম্পদের যে ধরনের দক্ষতা দরকার, বিশেষ করে অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত যে পরিবর্তন হচ্ছে, তার সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার জন্য উপযুক্ত মানবসম্পদ তৈরিতে আমাদের বিরাট একটা ঘাটতি রয়ে গেছে; যা ক্রমে বেড়ে যাচ্ছে। আমরা যদি দক্ষ মানব সম্পদ না বাড়াতে পারি তাহলে আমরা সুফল পাবো না। বর্তমানের ন্যায় সংকটই থেকে যাবে।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি তথা ইউএনডিপির মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ লাভ করেছে ১৩৬তম স্থান।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিছক শিক্ষাদান প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকৃত গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার প্রধান বাধাটি কেবল আর্থিক নয়, বরং কাঠামোগত ও আচরণগত। উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার রাজনৈতিক অর্থনীতিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও শ্রেষ্ঠত্বের চেয়ে জ্যেষ্ঠতা এবং দলীয় আনুগত্যকে বেশি পুরস্কৃত করা হয়। যখন পদোন্নতি বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাবের মাপকাঠি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণামূলক নিবন্ধের জের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা দিয়ে নির্ধারিত হয়, তখন শিক্ষকরা গবেষণার পেছনে শ্রম দেয়ার কোনো তাগিদ পান না। এছাড়া আমাদের অর্থায়ন প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ। হাজার হাজার শিক্ষকের মাঝে সামান্য পরিমাণ অর্থ সাধারণ গবেষণা ভাতা হিসেবে ভাগ করে দেয়া হয়, যা কোনো কাজেই আসে না।
উল্লেখ্য অনেক প্রকল্প বছরের পর বছর ধরে চললেও বাস্তব অগ্রগতি খুব সীমিত। অপ্রয়োজনীয় ও রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া প্রকল্প বাদ দিয়ে গবেষণা বা মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
আর জুলাই সনদের ৮ নং অনুচ্ছেদ খএইঞছ এর পরিপূর্ণ প্রতিফলন। তারপরেও ঈমান বিক্রী করে, ইসলামের ধ্বংস ডেকে তথাকথিত ইসলামী দল কী করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলনের ঘোষণা দিতে পারে? জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বি.এন.পির নির্বাচনী ইশতেহারে এর সাথে সাংঘর্ষিক। ইসলামী অনুভূতির প্রতি সহযোগী মনোভাবের চরম খেলাফ।
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমান মায়েরা কেন সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে গাফলতি করবে?
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মূল্যবৃদ্ধির চাপে পিষ্ট জনগণ উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, শুধুমাত্র মধ্যস্বত্য ভোগী, তথা সিন্ডিকেট নির্মূলেই দ্রব্যমূল্য সুলভ করা সম্ভব।
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ বছরে সাশ্রয় করতে পারে ১ বিলিয়ন ডলার।
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ব্যাংক শোষণের কারণে শুধু একজন মালিকই নয় বা লাখ লাখ শ্রমিকই নয় বরং গোটা আর্থ-সামাজিক খাত হয় ক্ষত-বিক্ষত, বিপর্যস্ত, লা’নতগ্রস্ত, বেকারত্বে জর্জরিত।
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে বাংলাদেশের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মাইক্রোচিপ বিজ্ঞানী, বাংলাদেশী এনায়েতুর রহমান এ শিল্পের বিকাশে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশীকে বিশেষ সহায়তা করতে চান।
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম, মহাসম্মানিত রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার মহিমান্বিত, মহাপবিত্র ১২ তারিখ উনার সাথে সম্পর্কযুক্ত মহাসম্মানিত ১২ই ছফর শরীফ এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বাআহ্ আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সমুদ্র অর্থনীতির সোনালী সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
শিশুর দেহে এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্টেন্সের ভয়ানক উপস্থিতি
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শীতের সবজি, গ্রীষ্মের ফল, ফসল এখন বর্ষায় অকল্পনীয় বাম্পার ফলন হয়
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! পাশাপাশি আখাছছুল খাছ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার সম্মানিত আ’দাদ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












