সমুদ্র অর্থনীতির বিষয়ে সরকারের সদিচ্ছার কথা শোনা যাচ্ছে না।
সমুদ্র অর্থনীতির সোনালী সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে
, ১১ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৭ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৬ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ১১ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) সম্পাদকীয়
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য বলছে, সাগর অর্থনীতিকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ বছরে ৬.২ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে। প্রকৃত সত্য এর চেয়ে অনেকগুণ বেশি। বিশাল সাগর এলাকা নয়, জীববৈচিত্র্যকে কাজে লাগাতে আমাদের যুপোযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বর্তমান সরকার এ লক্ষ্যে কাজ করছে। সুনীল সাগরে তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ যেমন রয়েছে তেমনি জাহাজ শিল্পের সম্ভাবনাও অনেক।
২০২৫ সালে পরিচালিত হয়েছে ন্যানসেন জরিপ। এই আন্তর্জাতিক জরিপে বাংলাদেশ, নরওয়ে, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের গবেষক, সমুদ্রবিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন।
এর মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের মাছের মজুদ, প্রজাতিবৈচিত্র্য, প্রজনন সম্ভাবনা, পরিবেশগত অবস্থা এবং সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের পরিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের সামুদ্রিক মৎস্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড়ো চ্যালেঞ্জ ছিল মাছের প্রকৃত মজুদ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব। ন্যানসেন জরিপ সেই তথ্যঘাটতি অনেকাংশে পূরণ করেছে। জরিপে ৩২টি প্ল্যাঙ্কটন স্টেশন থেকে সংগৃহীত নমুনা বিশ্লেষণ করে ৯ হাজার ৭৯৪টি মাছের লার্ভা শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে টুনা ও টুনা জাতীয় মাছের লার্ভার উপস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি বঙ্গোপসাগরে টুনা মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন, নার্সারি গ্রাউন্ড এবং বিস্তৃতির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।
আরও আশাব্যঞ্জক তথ্য হলো, স্কিপজ্যাক টুনা মাছ ট্রল এবং হুক-অ্যান্ড-লাইন উভয় পদ্ধতিতে ধরা পড়েছে। একই সঙ্গে গবেষকরা বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার ভেতরে টুনার ঝাঁকও প্রত্যক্ষ করেছে। মৎস্য বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই তথ্য ভবিষ্যতে টুনাভিত্তিক মৎস্যশিল্প ও রপ্তানি আয়ের নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি করতে পারে।
দেশের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং উপকূলীয় লাখো মানুষের জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে বঙ্গোপসাগর। প্রায় ৭১০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা এবং ৩৭০ কিলোমিটার এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার ইকোনমিক জোন নিয়ে বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের জন্য এক অমূল্য সম্পদভা-ার। এই বিশাল পানিরাশি শুধু মাছের আধার নয়; বরং দেশের সুনীল অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
বঙ্গোপসাগরের তলদেশে ১৩টি স্থানে ইউরেনিয়াম ও থোরিয়াম সমৃদ্ধ বালুর সন্ধান পাওয়া গেছে যার মূল্য স্বর্ণের চেয়ে দামি। সমুদ্রজয়ের ফলে বাংলাদেশে ভারত থেকে ৮টি গ্যাস ব্লক এবং মিয়ানমার থেকে ১৩টি গ্যাস ব্লকের মালিকানা লাভ করেছে, যা থেকে ভবিষ্যতে ৪০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে।
আমাদের রয়েছে সমুদ্র পর্যটন বা মেরিন ট্যুরিজমের বড় সুযোগ। সামুদ্রিক ঘাস, শেওলা ইত্যাদি চাষ করে অর্থ উপার্জন করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞ মতামত অনুসারে তলদেশের বিশেষ গঠনের কারণে তেল-গ্যাসসহ নানা খনিজ সম্পদ সঞ্চিত রয়েছে বঙ্গোপসাগরের তলদেশে। সমুদ্র সীমানা নির্ধারিত হওয়ার পর ২৬টি নতুন ব্লকে বিন্যাস করে এর মধ্যে ১১টি অগভীর ও ১৫টি গভীর সমুদ্রের ব্লক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর ১৩টি জায়গায় আছে মূল্যবান বালু, ইউরেনিয়াম ও থোরিয়াম যেগুলোতে মিশে আছে ম্যাগনেটাইট, সিলিমেনাইট, ইলমেনাইট, জিরকন, রুটাইল ও গার্নেটের মতো মূল্যবান ধাতব উপাদান। তাছাড়া সমুদ্র তলদেশে রয়েছে বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট বানানোর উপাদান ক্লে। এছাড়াও কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণ, বন্দর সহযোগিতা বৃদ্ধি, সমুদ্র পরিবহন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সমুদ্রবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান প্রভৃতি ক্ষেত্রে কাজ করার রয়েছে অফুরন্ত সম্ভাবনা।
দৈনিক আল ইহসানের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে- সমুদ্রসম্পদ যথাযথভাবে আহরণ ও কাজে লাগাতে পারলে বছরে ১২ লাখ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব হবে। সমুদ্র সম্পদ ব্যবহার করে দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তাসহ বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ উনার বিরোধিতাকারীরা গুমরাহ ও উলামায়ে ‘সূ’র অন্তর্ভুক্ত। এদেরকে পরিহার করা ফরয-ওয়াজিব।
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত সিবত্বতু রসূল আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস।
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছ থেকে শুধু পরকালীন শাফায়াত ই একমাত্র চাওয়া পাওয়া নয়;
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সংস্পর্শে নাগরিকদের সংশোধনের জন্য পাঠাতে হবে
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
যা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আশার আলাইহাস সালাম উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস।
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
“মুসলিম বিশ্ব যদি ডলারের পরিবর্তে নিজেদের মধ্যে ‘ইসলামী দিনার’ চালু করে, তবে তা পশ্চিমাদের জন্য পারমাণবিক বোমার চেয়েও বড় ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।”
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর জুলাই সনদের ৮ নং অনুচ্ছেদ খএইঞছ এর পরিপূর্ণ প্রতিফলন। তারপরেও ঈমান বিক্রী করে, ইসলামের ধ্বংস ডেকে তথাকথিত ইসলামী দল কী করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলনের ঘোষণা দিতে পারে? জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বি.এন.পির নির্বাচনী ইশতেহারে এর সাথে সাংঘর্ষিক। ইসলামী অনুভূতির প্রতি সহযোগী মনোভাবের চরম খেলাফ।
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমান মায়েরা কেন সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে গাফলতি করবে?
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মূল্যবৃদ্ধির চাপে পিষ্ট জনগণ উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, শুধুমাত্র মধ্যস্বত্য ভোগী, তথা সিন্ডিকেট নির্মূলেই দ্রব্যমূল্য সুলভ করা সম্ভব।
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ বছরে সাশ্রয় করতে পারে ১ বিলিয়ন ডলার।
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ব্যাংক শোষণের কারণে শুধু একজন মালিকই নয় বা লাখ লাখ শ্রমিকই নয় বরং গোটা আর্থ-সামাজিক খাত হয় ক্ষত-বিক্ষত, বিপর্যস্ত, লা’নতগ্রস্ত, বেকারত্বে জর্জরিত।
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে বাংলাদেশের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












