হাত বদল হওয়াই মূল্যবৃদ্ধির কারণ।
মূল্যবৃদ্ধির চাপে পিষ্ট জনগণ উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, শুধুমাত্র মধ্যস্বত্য ভোগী, তথা সিন্ডিকেট নির্মূলেই দ্রব্যমূল্য সুলভ করা সম্ভব।
, ১৮ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৩ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০২ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) সম্পাদকীয়
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
গতকাল দৈনিক আল ইহসান শরীফে শীর্ষ খবর শিরোনাম হয়েছে- ‘বেড়েছে মাছ-মুরগি-ডিমসহ পণ্য দ্রব্যের দাম।
খবরে বলা হয়- ‘চলতি সপ্তাহে আরও এক দফা বেড়েছে মাছ, ব্রয়লার মুরগি, ডিম ও চালসহ অন্যান্য পণ্য দ্রব্যের দাম। শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।’
খবরে আরো বলা হয়- ‘খাত সংশ্লিষ্ট বলছেন, বাজারে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা এবং সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হলে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।’
মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যের পেছনে যে খরচ হয়, তার প্রায় চার ভাগের এক ভাগ যায় চাল কিনতে। উৎপাদন পর্যায় (কৃষক) থেকে অন্তত পাঁচ-ছয় হাত ঘুরে ক্রেতার কাছে চাল বিক্রি হয়। এ কারণে একজন ক্রেতাকে উৎপাদন ব্যয়ের দ্বিগুণ বা তার বেশি দামে চাল কিনতে হয়। জরিপে বলা হয়েছে, এক কেজি মোটা চালের (ধান) উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৩৪ টাকা; সেই চাল খুচরায় ক্রেতারা কেনে ৬২-৬৩ টাকায়।
রাজধানীর পাইকারি কাঁচাপণ্যের আড়ত কাওরান বাজার, শ্যামবাজার ও যাত্রাবাড়ীতে হাত ঘুরে লাভের বড় অংশ চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে। এই তিন বাজারে প্রতিদিন অন্তত ৫০ কোটি টাকার কাঁচামাল বেচাকেনা হয়। কৃষক থেকে ফড়িয়া, এরপর পাইকার থেকে খুচরা দরে কোনো কোনো সবজির দাম দ্বিগুণ বা তারও বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছে ক্রেতারা। এমন মূল্যে দিশেহারা হয়ে পড়ছে তারা। এই মূল্য ব্যবধানের মূল কারণ হিসাবে কাজ করছে মধ্যস্বত্বভোগীদের একচেটিয়া আধিপত্য, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর।
ফড়িয়া-দালালদের হাত থেকে কৃষককে রক্ষা করার জন্য যেন রাষ্ট্রে অবশিষ্ট কেউ নেই- এমন অভিযোগ করেছে সংশ্লিষ্টরা।
গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, দেশে খাদ্যপণ্যের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ সরবরাহ শৃঙ্খল, অতিরিক্ত মধ্যস্বত্বভোগী এবং উচ্চ উৎপাদন খরচ। বিশেষ করে, নগর এলাকার আড়তদারদের ওপর খুচরা বিক্রেতাদের অতিনির্ভরশীলতা বাড়িয়ে দেয় বাজারে দামের অস্থিরতা।
গবেষণা বলছে, কাঁচা মরিচের সরবরাহ ব্যবস্থা সবচেয়ে লম্বা। উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত দাম বাড়ে প্রায় ১১৬ শতাংশ। রুই মাছের দাম বাড়ে ৭২ শতাংশ। তবে খুচরা পর্যায়ে মাছের দামের ওঠানামা বেশি। গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, ৮৭ শতাংশ পেঁয়াজের দাম বাড়ার ক্ষেত্রে কৃষক ও খুচরা বিক্রেতার প্রভাব বেশি। মসুর ডাল ৭৮ শতাংশ বাড়ার পেছনে পাইকার পর্যায়ে দাম নির্ধারণে বড় প্রভাব থাকে। পচনশীল পণ্য হিসেবে বেগুনের দাম বেশি থাকে কৃষক পর্যায়ে। আলুর দাম বাড়ার পেছনে হিমাগার ব্যবস্থার অদক্ষতা অন্যতম কারণ। ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়ার ক্ষেত্রে পাইকারদের প্রভাব বেশি। ডিমের ২৫ শতাংশ দাম বাড়ার পেছনে উৎপাদন (ফিড ও ভ্যাকসিন) খরচই বেশি। আর গরুর গোশতের মূল্যবৃদ্ধির হার ১৩ শতাংশ। এই আমিষের উৎপাদন খরচ অত্যন্ত বেশি, অনেক সময় প্রান্তিক খামারিরা লোকসানে থাকে বলে উল্লেখ করা হয়েছে এক গবেষণা প্রতিবেদনে।
দেশে কয়েক বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে। দরিদ্র পরিবারগুলো তাদের আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশই ব্যয় করছে শুধু খাবারের পেছনে। অথচ নামমাত্র মজুরি বাড়লেও মুদ্রাস্ফীতির চাপে বাড়েনি সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয়। ফলে আয়ের অধিকাংশ খাদ্যে ব্যয় করতে গিয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক চাহিদাগুলো আজ চরম সংকটের মুখে।
সারা বিশ্বে গড়ে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১০ শতাংশ লজিস্টিক ব্যয় হিসেবে ধরা হয়, যা আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড। কিন্তু বাংলাদেশে এই ব্যয় গিয়ে ঠেকেছে প্রায় ১৬ শতাংশে। অবকাঠামোগত জটিলতা, তথ্যের সুনির্দিষ্ট আদান-প্রদান না থাকা এবং রাস্তায় জায়গায় জায়গায় হিসাববহির্ভূত খরচের কারণেই ভোক্তাপর্যায়ে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায় পণ্যের দাম।
জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে দরিদ্র-নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্তদের করুণ থেকে মহাকরুণ দশা তৈরি হচ্ছে। যে সরকারই ক্ষমতায় আসে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কাউকে ভাবতে দেখা যায় না। অথচ জনগণের দুর্দশা লাঘব আর দ্রব্যমূল্য কমানোর হাজার হাজার প্রতিশ্রুতি দিয়েই তারা ক্ষমতায় আসে। সিন্ডিকেট ভাঙ্গার ওয়াদা দিয়েই ক্ষমতায় আসে। কিন্তু গদিতে বসে সিন্ডিকেট পালে। জনস্বার্থে তাই কৃষক ভোক্তা সরাসরি সম্পর্কের বিকাশ দরকার।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ উনার বিরোধিতাকারীরা গুমরাহ ও উলামায়ে ‘সূ’র অন্তর্ভুক্ত। এদেরকে পরিহার করা ফরয-ওয়াজিব।
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত সিবত্বতু রসূল আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস।
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছ থেকে শুধু পরকালীন শাফায়াত ই একমাত্র চাওয়া পাওয়া নয়;
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সংস্পর্শে নাগরিকদের সংশোধনের জন্য পাঠাতে হবে
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
যা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আশার আলাইহাস সালাম উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস।
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
“মুসলিম বিশ্ব যদি ডলারের পরিবর্তে নিজেদের মধ্যে ‘ইসলামী দিনার’ চালু করে, তবে তা পশ্চিমাদের জন্য পারমাণবিক বোমার চেয়েও বড় ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।”
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর জুলাই সনদের ৮ নং অনুচ্ছেদ খএইঞছ এর পরিপূর্ণ প্রতিফলন। তারপরেও ঈমান বিক্রী করে, ইসলামের ধ্বংস ডেকে তথাকথিত ইসলামী দল কী করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলনের ঘোষণা দিতে পারে? জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বি.এন.পির নির্বাচনী ইশতেহারে এর সাথে সাংঘর্ষিক। ইসলামী অনুভূতির প্রতি সহযোগী মনোভাবের চরম খেলাফ।
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমান মায়েরা কেন সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে গাফলতি করবে?
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ বছরে সাশ্রয় করতে পারে ১ বিলিয়ন ডলার।
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ব্যাংক শোষণের কারণে শুধু একজন মালিকই নয় বা লাখ লাখ শ্রমিকই নয় বরং গোটা আর্থ-সামাজিক খাত হয় ক্ষত-বিক্ষত, বিপর্যস্ত, লা’নতগ্রস্ত, বেকারত্বে জর্জরিত।
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে বাংলাদেশের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মাইক্রোচিপ বিজ্ঞানী, বাংলাদেশী এনায়েতুর রহমান এ শিল্পের বিকাশে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশীকে বিশেষ সহায়তা করতে চান।
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












