৫১ কোটির জনসংখ্যার জন্য ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনী প্রয়োজন সাইবর্গ পদাতিক: এক্সোস্কেলিটন প্রযুক্তিতে মুসলিম বিশে^র যুগলবন্দি (পর্ব-২)
, ১৮ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৬ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৫ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ২২ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) আপনাদের মতামত
বর্তমানের ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রে ৫১ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা চিরাচরিত সামরিক কৌশল দিয়ে অসম্ভব। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় ৫০ লক্ষ সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী গঠন করতে হবে, তবে তাদের শুধু সংখ্যার দিক থেকে নয়, বরং গুণগত দিক থেকে 'সুপার সোলজার' বা অতি-মানবীয় শক্তিসম্পন্ন করে তুলতে হবে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এত বড় বাহিনীর গতিশীলতা ও আত্মরক্ষা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হলো- 'মিলিটারি এক্সোস্কেলিটন' প্রযুক্তির সংযোজন। আর এই ব্যয়বহুল ও উচ্চপ্রযুক্তিগত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে প্রতিরক্ষা শিল্পে উদীয়মান পরাশক্তি তুরস্ক এবং মুসলিম বিশে^র যৌথ কৌশলগত সহযোগিতা।
এক্সোস্কেলিটন কী এবং কীভাবে কাজ করে?
মিলিটারি এক্সোস্কেলিটন হলো মানুষের শরীরের ওপর পরিধানযোগ্য একটি কৃত্রিম রোবোটিক স্যুট। এটি মূলত মানবদেহের পেশিশক্তি, সহনশীলতা এবং গতিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর কার্যপদ্ধতি অত্যন্ত জটিল ও বিজ্ঞানসম্মত:
- সেন্সর নেটওয়ার্ক: এই স্যুটে বসানো থাকে অসংখ্য বায়ো-সেন্সর, যা পরিধানকারী সৈনিকের পেশির সামান্যতম নড়াচড়া বা মস্তিষ্কের ¯œায়বিক সংকেতকে মুহূর্তের মধ্যে রিড করতে পারে।
- অন-বোর্ড কম্পিউটার: সেন্সর থেকে প্রাপ্ত তথ্য স্যুটটির মূল কম্পিউটারে যায়। কম্পিউটারটি মিলি-সেকেন্ডের মধ্যে হিসাব করে সৈনিকটি কোন দিকে কতটুকু বল প্রয়োগ করতে চাচ্ছেন।
- অ্যাকচুয়েটর ও হাইড্রোলিক্স: কম্পিউটারের নির্দেশ পাওয়ার সাথে সাথে স্যুেট থাকা হাইড্রোলিক পাম্প, ইলেকট্রিক মোটর এবং নিউমেটিক ভালভগুলো সচল হয়ে ওঠে এবং সৈনিকের হাত-পায়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে অতিরিক্ত যান্ত্রিক শক্তি জেনারেট করে। ফলে, একজন সৈনিক নিজের শক্তির ১০% ব্যবহার করে বাকি ৯০% শক্তি এক্সোস্কেলিটন থেকে পান।
এক্সোস্কেলিটনের বিভিন্ন ভেরিয়েন্ট :
রণক্ষেত্রে ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে এক্সোস্কেলিটন মূলত তিন ধরনের ভেরিয়েন্টে বিভক্ত:
১. লোয়ার-বডি এক্সোস্কেলিটন : এটি কোমর থেকে পা পর্যন্ত অংশকে আবৃত করে। এর মূল কাজ হলো সৈনিকের পিঠের ভারী লোড বা ব্যাকপ্যাকের পুরো ওজন সরাসরি মাটিতে স্থানান্তরিত করা। এটি পরিধান করে একজন সেনা সদস্য ৫০-৬০ কেজি ওজন নিয়ে ক্লান্ত না হয়ে মাইলের পর মাইল পাহাড়ি বা দুর্গম পথ পাড়ি দিতে পারেন।
২. ফুল-বডি কমব্যাট স্যুট : এটি মাথা থেকে পা পর্যন্ত পুরো শরীরকে রক্ষা করে। এতে ভারী বুলেটপ্রুফ আর্মার (বর্ম), নাইট-ভিশন হেলমেট এবং ইন্টিগ্রেটেড কমুনিকেশন সিস্টেম থাকে। এটি সৈনিককে বিধ্বংসী ফায়ারপাওয়ারের মুখেও টিকে থাকার অবিশ^াস্য আত্মরক্ষা ক্ষমতা দেয় এবং ভারী মেশিনগান একা হাতে অপারেট করার শক্তি জোগায়।
৩. প্যাসিভ ও লজিস্টিক এক্সোস্কেলিটন : এতে কোনো ব্যাটারি বা মোটর থাকে না, বরং এটি স্প্রিং এবং কাউন্টার-ব্যালেন্স মেকানিজম ব্যবহার করে কাজ করে। এটি মূলত সামরিক ঘাঁটিতে ভারী গোলাবারুদ ও লজিস্টিকস লোড-আনলোডের কাজে নিয়োজিত ক্রুদের পেশির ইনজুরি রোধে ব্যবহৃত হয়।
মুসলিম বিশে^র সহযোগিতা ও আমাদের কৌশল:
তুরস্ক বর্তমানে সামরিক ড্রোনের পাশাপাশি মিলিটারি এক্সোস্কেলিটন (যেমন: আসেলসান-এর তৈরি প্রকল্পসমূহ) গবেষণায় অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ সৈন্যের জন্য এই প্রযুক্তি পশ্চিমা বিশ^ থেকে চড়া মূল্যে কেনা প্রয়োজন নেই। তাই আঙ্কারার প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব এবং মুসলিম বিশে^র পেট্রো-ডলারের যৌথ অর্থায়নে বাংলাদেশে এই প্রযুক্তির যৌথ উৎপাদন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি হতে পারে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
প্রযুক্তির এই চরম উৎকর্ষের যুগে আমরা যদি প্রচলিত বাহিনী নিয়ে বসে থাকি, তবে তা হবে আত্মঘাতী।
মুসলিম বিশে^র প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় আমাদের ৫০ লক্ষ সৈন্যকে যদি এক্সোস্কেলিটনের ইস্পাত-কঠিন বর্মে সজ্জিত করা না যায়, তবে আধুনিক ড্রোন আর লেজারের যুগে এই বিশাল বাহিনী কেবলই শত্রুর কামানের খোরাক হবে; কারণ আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু রক্তগোশতের আবেগ দিয়ে নিখুঁত রোবোটিক বুলেট রুখে দেওয়া যায় না।
-মুহম্মদ শামসিত তাবরিজ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
৫১ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে ৫০ লক্ষাধিক নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত অপরিহার্যতা ও সামরিক রূপরেখা (পর্ব-১)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও আবহাওয়া রাডার অবকাঠামোর মহাপরিকল্পনা কেন জরুরি? (২য় পর্ব)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে কার স্বার্থে এই তথাকথিত জ্বালানি চুক্তি!
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রাকৃতিক উপায়ে শিশুর জন্ম বনাম অস্ত্রপচার নির্ভরতা সিজার বৃদ্ধির ছায়ায় হারিয়ে যাচ্ছে স্বাভাবিক জন্মলাভ (২)
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আস্তিনের বিষধর সাপ: দেশীয় মোসাদ, সিআইএ ও র-এর গুপ্তচরদের সমূলে উৎপাটন আজ সময়ের দাবি
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খাদ্য নিরাপত্তার নামে জাতিধ্বংস-জিএমও প্রত্যাখ্যানই একমাত্র পথ
২৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
গরুর গোশত নিয়ে উগ্রবাদী চক্রান্ত রুখে দাঁড়াতে হবে
২২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ইহুদি-কাফির ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার জিএমও- এটাকে প্রতিরোধ করা মুসলমানদের ঈমানী ফরজ দায়িত্ব
২১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
অস্ত্রপচার বৃদ্ধির ছায়ায় হারিয়ে যাচ্ছে স্বাভাবিক জন্মগ্রহণ (১)
২০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৭ই মে: বসনিয়ার মসজিদ দিবস এবং এক ঐতিহাসিক প্রতিরোধের স্মৃতি
১৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
জিএমও নিষিদ্ধ করুন- জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও প্রজন্মকে রক্ষা করুন
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র শরীয়ত উনার হুকুম হচ্ছে, বেওয়ারিশ কুকুর নিধন করা: বেওয়ারিশ কুকুরের আতঙ্ক: টিকা নিয়েও মিলছে না রক্ষা
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












