৩০ বছরে কাঁধে নিয়েছেন দুই হাজার মরদেহ
, ০৯ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৪ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৩ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ০৮ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পাঁচ মিশালী
এভাবেই প্রায় তিন দশক ধরে মানুষের শেষযাত্রার নীরব সঙ্গী হয়ে আছেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চুনিয়াপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমান।
গত প্রায় ৩০ বছরে আনুমানিক দুই হাজার মরদেহ বহন করেছেন তিনি। মৃতদেহ বহন করেই শুধু জীবিকা নির্বাহ করেন না, পাশাপাশি জীবিত যাত্রীও বহন করেন ভ্যানে। তবে অদ্ভুত এক বাস্তবতা হলো, জীবিত যাত্রী বহন করতেই এখন তার বেশি ভয় লাগে!
মিজানুরের ভাষায়, “প্রথম প্রথম ভয় লাগতো। এখন আর ভয় লাগে না। এখন ভয় লাগে ভ্যানে যখন জীবিত মানুষ বহন করি তখন। মৃত মানুষকে নিয়ে কোনো ভয় করে না।”
একসময় পরতেন পুলিশের পোশাক:
মিজানুরের জীবন শুরু হয়েছিলো অন্যরকম স্বপ্ন নিয়ে। ১৯৭৯ সালে কুষ্টিয়া মুসলিম হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন তিনি। দুই বছর পর, ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে কনস্টেবল পদে যোগ দেন।
তখন তার পরনে ছিলো পুলিশের পোশাক, হাতে ছিলো দায়িত্ব, সামনে ছিলো নিরাপদ ভবিষ্যতের স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। মিজানুরের দাবি, প্রায় ১০ বছর চাকরি করার পর ১৯৯১ সালে তৎকালীন কমান্ডিং অফিসারের সঙ্গে মতানৈক্যের জেরে চাকরি হারান তিনি।
চাকরি হারানোর সঙ্গে সঙ্গে যেন একের পর এক দরজা বন্ধ হতে থাকে তার সামনে।
কুষ্টিয়ার হাউজিং এলাকায় থাকা পৈতৃক বাড়িটিও বিক্রি করতে হয়। চাকরি হারানোর পর প্রথম স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে চলে যান বাবার বাড়িতে। জীবিকার তাগিদে তখন মিজানুরের সামনে আর তেমন কোনো পথ খোলা ছিলো না। অবশেষে হাতে তুলে নেন ভ্যানের হ্যান্ডেল।
১৯৯৪ সালে মিরপুর থানা থেকে একটি মরদেহ ডোমঘরে নিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে তার জীবনের নতুন এক অধ্যায়ের শুরু। সেই শুরু আর থামেনি।
মিরপুর থানা কিংবা আশপাশের এলাকায় পুলিশের মাধ্যমে কোনো মরদেহ উদ্ধার হলেই প্রয়োজন পড়ে তার ভ্যানের। দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, হত্যাকা- কিংবা অন্য কোনো ঘটনায় উদ্ধার হওয়া মরদেহ পুলিশের প্রক্রিয়া শেষে মর্গে পৌঁছে দেওয়া, আবার কখনো মর্গ থেকে স্বজনদের কাছে নিয়ে যাওয়া-সবই করেছেন তিনি।
পরিচয়হীন মরদেহ হলে দায়িত্বটা আরও দীর্ঘ হয়। বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের জন্য কবরস্থান পর্যন্তও মরদেহ বহন করেছেন তিনি।
মিজানুরের নিজের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৩০ বছরে তিনি আনুমানিক দুই হাজার মরদেহ বহন করেছেন। মরদেহ পরিবহনের ক্ষেত্রে কখনো ৭০০, কখনো ১ হাজার, আবার কখনো ৩ হাজার টাকা পেয়েছেন তিনি।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
খুশিতেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো তার!
২২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ধরা পড়লো সৌরজগতের সমান রহস্যময় ‘ব্ল্যাক হোল স্টার’
২২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সূর্যের রহস্য উন্মোচনে নতুন দিগন্ত
২০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
গ্যাস সংকট: ইন্ডাকশন চুলা কেনার আগে ১০ বিষয়ে জানা জরুরি
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট হাঁটলে শরীরে কী ঘটে?
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
যে কারণে বিশ্বজুড়ে পুরোনো বইয়ের বাজার অস্বাভাবিক চাঙা
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
চোখের পলক পড়ার উপকারিতা
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
চোখের পলক পড়ার উপকারিতা
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
২২ কেজির ধাতিনা ভোল, দাম ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মানব মস্তিষ্কের গতিতে কাজ করতে সক্ষম কম্পিউটার চিপ, দাবি গবেষকদের
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
জন্ডিস হলে কি ঝাল-মসলা খাওয়া বন্ধ করতে হয়?
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
একটি গ্রামে মাত্র দুটি পরিবার, ১০৭ একরে ১২ মানুষের বসবাস
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












