১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৩)
, ১১ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৭ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৬ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ১১ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
উনার সম্মানিত শায়েখ উনার স্বপ্ন মুবারক:
আল্লামা রুহুল আমীন বশীর হাটি রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার “কারামতে আহমদী” কিতাবের ২৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন, “হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি দিল্লী পৌঁছার সাত দিন আগে হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে দেখেন যে, তিনি দিল্লীর জামে মসজিদে মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক এনেছেন। চারদিক থেকে লোকজন উনার বরকতময় জিয়ারত মুবারক লাভের জন্য আসছে।
তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একটি লাঠি মুবারক হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে দিয়ে বললেন, আপনি এটি নিয়ে মসজিদের দরজায় বসেন, আর যে আমার সাক্ষাত মুবারকের জন্য আসে তার পরিচয় আমাকে জানান। আমি যাকে অনুমতি দিবো তাকে আপনি আমার সাক্ষাত মুবারকে নিয়ে আসবেন; আর যাকে নিষেধ করবো তাকে আনবেন না। অতঃপর তিনি লাঠি খানা নিয়ে মসজিদের দরজায় দাঁড়ালেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আদেশ মুবারক অনুযায়ী কাজ করলেন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুমতি মুবারক সাপেক্ষে বহু লোক এইভাবে উনার দীদার মুবারক লাভে ধন্য হলো। সকাল বেলা হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এই স্বপ্নের ব্যাখ্যার জন্য সেই যামানার বিখ্যাত বুযূর্গ হযরত শাহ গোলাম আলী দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট জানতে গেলেন।
তিনি বললেন, এর ব্যাখ্যা হলো- হযরত সাইয়্যিদ হাসান রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি মুরীদানদেরকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিয়ারত মুবারক করিয়ে দিতেন। যা, আজ দেড়শত বৎসর হতে তা বন্ধ।
আমার মনে হচ্ছে, আপনার কোন উপযুক্ত মুরীদ দ্বারা তা আবার চালু বা প্রসারিত হবে। হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এই স্বপ্ন দেখার সাত দিন পর সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি দিল্লী পৌঁছে উনার নিকট বাইয়াত হন। সুবহানাল্লাহ!
তরীক্বাহ মশক করা ও নিছবত মুবারক হাছিল:
হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার সম্মানিত শায়েখ, হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট বাইয়াত হয়েই কঠিন রিয়াজত ও মাশাক্কাতে মশগুল হলেন। এ সম্পর্কে “ওয়াসীলে ওয়াজীর আলা তরীকুল বাশীর ওয়ান নাজির” এবং “সাওয়ানেহ আহমদী” কিতাবের ৫৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, এই সময় হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কঠিন রিয়াজত-মাশাক্কাতের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। বছরের পর বছর এক ওযু দিয়ে ইশা ও ফজর নামাজ আদায় করতেন অর্থাৎ সারা রাত বিনিদ্র অবস্থায় ইবাদত-বন্দেগী করতেন। এমনকি রাতের নামাজে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে উনার পা মুবারক ফুলে যেতো।
উনার তরীক্বাহর নিছবত হাছিল সম্পর্কে আল্লামা রুহুল আমীন বশীরহাটি রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘বিজ্ঞাপন রদ’ কিতাবের ২৫ পৃষ্ঠায় ও হযরত কারামত আলী জৈনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “যাদুত তাকওয়া” কিতাবে উল্লেখ করেছেন, হযরত আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ফয়েজের বরকতে হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত বাহাউদ্দীন নক্বশবন্দ বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এই দুইজন বুযূর্গের রূহ মুবারক বাতেনীভাবে উনার তরবিয়তের জন্য প্রকাশিত হলেন এবং একমাস পর্যন্ত এই দুইজন তরীক্বাহর ইমাম উনাকে সম্পূর্ণভাবে নিজেদের তরীক্বাহর দিকে নিছবত দিলেন। এক দিন উভয় রূহ মুবারক উনার নিকট প্রকাশিত হয়ে এক প্রহর পর্যন্ত উনার নফসের উপর সজোরে তাওয়াজ্জুহ্ দিলেন। এতে দুই খান্দানের নিছবত তিনি পেলেন।
চীশতিয়া তরীক্বাহর নিছবত হাছিল সম্পর্কে উক্ত কিতাবের ২৬ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে, একবার তিনি খাজা কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার কাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাযার শরীফে মোরাকাবায় বসলেন এবং মোরাকাবা হালতে তিনি উনার নিকট থেকে চিশতীয়া খান্দানের নিয়ামত লাভ করেন। এইভাবে মুজাদ্দেদিয়া, শাজালিয়া তরীক্বাহর নিছবত মুবারকও উনার হাছিল হয়।
-মুহাদ্দিস আহমদ হুসাইন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র “মাক্বামে মাহমূদ” উনার বেমেছাল তাফসীর বিষয়ে খারেজী জাহমিয়া ফিরকার মুখোশ উন্মোচন (৪)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রত্যেক মু’মিন মুসলমানকে কাফির-মুশরিকদের অনুসরণ থেকে দূরে থাকতে হবে
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৯)
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বেপর্দা হওয়া শয়তানের ওয়াসওয়াসাকে সহজ করার মাধ্যম
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক উনার আনুগত্যতার বেমেছাল দৃষ্টান্ত
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১)
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












