হিজরী দশম শতকের মহান মুজাদ্দিদ, হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী বা জীবনী মুবারক (৩)
, ১৮রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১০ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৮ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২৪ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
উস্তাদের প্রতি আস্থা:
হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হুসনুল মুহাদ্বারাহ গ্রন্থে নিজ উস্তাদের একটি ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, আল্লামা তকীউদ্দীন শিবলী রহমতুল্লাহি আলাইহি শেফা শরীফ গ্রন্থের পাদটীকায় মি’রাজের ঘটনা প্রসঙ্গে হযরত আবুল জামরা রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত একটি হাদীছের উৎস সুনানে ইবনু মাজাহ-তে উল্লেখ করেছেন। আমি বারংবার সুনানে ইবনু মাজাহ অনুসন্ধান করেছি কিন্তু এ হাদীছটি আমি সুনানে ইবনু মাজাহ শরীফে পেলাম না। পরবর্তীতে মু’জামুস ছাহাবা লি ইবনু কানে’ঈ শরীফ অনুসন্ধান করে এ হাদীছ শরীফটি পেয়ে গেলাম।
আমি আমার উস্তাদ হযরত শায়েখ শিবলী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে গিয়ে এ ব্যাপারটি উনাকে বললাম। তিনি শুধুমাত্র আমার কথা শুনে উনার পান্ডুলিপি থেকে সুনানে ইবনু মাজাহ মুছে দিয়ে মু’জামুস ছাহাবা লি ইবনু কানে’ঈ লিখে দিলেন। এর ফলে আমার অন্তরে উস্তাদের প্রতি সম্মান আরও বেড়ে গেলো আর আমি নিজেকে খুবই তুচ্ছ মনে করলাম।
আমি বললাম, প্রিয় উস্তাদ! বিশ্লেষণের জন্য আপনি কিছু সময় অপেক্ষা করতে পারতেন। তিনি বললেন, আমি আমার লিখিত বাক্য ইবনু মাজাহকে পরিবর্তন করতে একটি স্বচ্ছ দলীলের অনুসরণ করেছি। আমি আমার উস্তাদের ওফাতের সময় পর্যন্ত উনার সাথে অবস্থান করলাম। (ইমাম সুয়ূতী, হুসনুল মুহাদ্বারাহ, ১/২৮৯ পৃষ্ঠা)
আমি আল্লামা জালালুদ্দীন মহল্লী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে সপ্তাহে দু’বার যেতে লাগলাম এবং উনার প্রণীত তাফসীর গ্রন্থ যা জালালাইন শরীফ নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে সেটি পূর্ণাঙ্গ করলাম। (ড. সাইয়্যিদ বদিউল লাহম, ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী ওজুদিহি ফিল হাদীছিহি ওয়া উলুমিহি, ১১৭ পৃষ্ঠা, দারুল কুতাবা’আ, দামেস্ক, সিরিয়া, ১৪১৫ হিজরী)
তিনি আরো বলেন, আমি আল্লামা শায়েখ মহিউদ্দীন কাফিজী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খেদমতে ১৪ বছর অবস্থান করেছি এবং উনার নিকট থেকে তাফসীর, নীতিশাস্ত্র, আরবী ভাষা ও আরবী অলংকার শাস্ত্র ইত্যাদির জ্ঞান অর্জন করেছি এবং তিনি ছাড়াও আল্লামা শায়েখ সাইফুদ্দীন হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পাঠদানের তা’লীমগাহেও যেতাম এবং উনার কাছ থেকে তাফসীরে কাশ্শাফ ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ ও পাদটীকাসহ তালখীসুল মাফাতিহ এবং আদুদ ইত্যাদি অধ্যায়ন সম্পন্ন করেছি। ইলিম অর্জনের জন্য উনার সাথে সিরিয়া, হেজাজ, ইয়েমেন, হিন্দুস্থানসহ পাশ্চাত্যের অনেক দেশও সফর করেছি। (ইমাম সুয়ূতী, হুসনুল মুহাদ্বারাহ, ১/২৮৯-২৯০ পৃষ্ঠা)
দুই লক্ষ হাদীছ শরীফের হাফেজ:
হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “দুই লক্ষ হাদীছ শরীফ আমার মুখস্থ আছে। যদি এর চেয়ে অধিক হাদীছ শরীফ আমি পেতাম তাহলে তাও মুখস্থ করে নিতাম।” সুবহানাল্লাহ! (কাওয়াকিবুস সায়িরাহ, ১/২২৯ পৃষ্ঠা ক্রমিক: ৪৬১ {ইমাম সুয়ূতীর জীবনী})
একবার হজ্জে গিয়ে যমযমের পানি পান করে তিনি দোয়া করলেন, “আয় মহান আল্লাহ পাক! ফিক্হ শাস্ত্রে আমাকে সিরাজুদ্দীন বুলকাইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হাদীছ শাস্ত্রে ইমাম ইবনু হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মর্যাদা দান করুন।” (ইমাম সুয়ূতী, হুসনুল মুহাদ্বারাহ, ১/২৯০ পৃষ্ঠা)
উনার প্রণীত হুসনুল মুহাদ্বারায় বর্ণিত উনার একথা থেকে এ দোয়া কবুল হওয়ার বিষয়টি অনুমান করা যেতে পারে; হুসনুল মুহাদ্বারায় তিনি বলেন, সাতটি বিষয়ে আমাকে পরিপূর্ণ দক্ষতা প্রদান করা হয়েছে- (১) তাফসীর, (২) হাদীছ (৩) ফিক্হ (৪) নাহু (৫) ইলমুল মা’আনী (তথা আরবী অলংকার শাস্ত্রের একটি শাখা) (৬) ইলমুল বদী (আরবী অলংকার শাস্ত্রের একটি শাখা) (৭) ইলমুল বয়ান।
আমি এ শাস্ত্রসমূহকে আরববাসী এবং বিশুদ্ধভাষীদের পদ্ধতিতে গ্রহণ করেছি এবং দার্শনিক ও অনারবদের পদ্ধতি থেকে নিজেকে দূরে রেখেছি এবং ফিকহ শাস্ত্র ছাড়া ওই শাস্ত্রগুলোতে যে দক্ষতা আমার অর্জিত হয়েছে, অন্যান্য ব্যক্তিরা তো দূরের কথা আমার উস্তাদগণের মধ্য থেকেও সেই স্থান পর্যন্ত পৌঁছেনি, অবশ্য ফিকহ শাস্ত্র সম্পর্কে আমি এ কথা বলতে পারবো না। কেননা এ শাস্ত্রে আমার উস্তাদ তিনি হযরত শায়েখ বুলকাইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চেয়ে অধিক ব্যাপক ধারণা এবং অন্তর্দৃষ্টি ও দূরদর্শিতার অধিকারী ছিলেন।
উল্লেখিত সাতটি শাস্ত্র ছাড়া উছুলে ফিক্হ (ইসলামী আইনের নীতিমালা শাস্ত্র) ইলতুল জাদাল (ন্যায় শাস্ত্র), ইলমুস সরফ (শব্দ প্রকরণ শাস্ত্র) ইলমুল ইনশা (বর্ণ প্রকরণ শাস্ত্র) ইলমুল ক্বেরাত (পঠন শাস্ত্র) এবং ইলমুত তীব (চিকিৎসা শাস্ত্র) আমি কোন শিক্ষকের কাছে পড়িনি। (ইমাম সুয়ূতী, হুসনুল মুহাদ্বারাহ, ১/২৯০ পৃষ্ঠা)
এক স্থানে তিনি এভাবে বলেন, তখন প্রাচ্য থেকে প্রতিচ্য পর্যন্ত বিশ্বের মধ্যে এমন কোন ব্যক্তি ছিলেন না যিনি হাদীছ শাস্ত্র এবং আরবী ভাষায় হযরত খিজির আলাইহিস সালাম উনি ছাড়া আমার চেয়ে অধিক জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তবে কোন কুতুব বা কোন ওলী ছাড়া। (মাওলানা ড. মুহম্মদ আসিম আযমী, মুহাদ্দিসীনে ইযাম হায়াত ওয়া খিদমাত, ৬০৫ পৃষ্ঠা) (অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৫)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৬)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
কদমবুছী করা খাছ সুন্নত মুবারক
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত হযরত ইমাম পরিবার আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে অবরোধ ও ফোরাত নদীর পানি পান করতে বাধা প্রদান
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১০)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাফরমানীমূলক কাজ
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কারবালার ঘটনার জন্য মালউন ইয়াযিদ লানতুল্লাহি আলাইহি দায়ী এবং সে কাফির (২)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












