সারাদেশে চলছে ভুয়া প্রকল্প ও ভুয়া বিলের ছড়াছড়ি তথা সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে হাজার রকমের দুর্নীতি (৪৪২)
, ৩০ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ২০ ছানী, ১৩৯১ শামসী সন , ১৯ জুলাই, ২০২৩ খ্রি:, ০৪ শ্রাবণ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মন্তব্য কলাম
উচ্চশিক্ষায় মানোন্নয়ন
প্রকল্প শেষে গবেষণা উপকরণও অকেজো!
দেশের উচ্চশিক্ষার টিচিং-লার্নিং ও গবেষণার গুণমান উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সামগ্রিক শিক্ষার অভিজ্ঞতা ও ফলাফল উন্নত করার লক্ষ্যে হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (হেকেপ) নেওয়া হয়েছিল। ১ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৯ সাল থেকে ১০ বছর পর্যন্ত এটি চলে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে গবেষণা সহযোগিতাকে উৎসাহিত করা, গবেষণা প্রকল্পের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবরেশন, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতকে উদ্ভাবনের অগ্রভাগে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তবে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টে অদক্ষতা ও মনিটরিং ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় টেকসই উপায়ে প্রকল্পটি পরিচালিত হয়নি। এতে প্রকল্পের উদ্দেশ্য অনেকাংশে ব্যাহত হয়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তথ্য সহজে পাওয়ার জন্য ওয়েবভিত্তিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনা তথ্য সিস্টেম, বিশ্বখ্যাত ইবুক, জার্নাল সহজে ও সাশ্রয়ী উপায়ে পাওয়ার উদ্দেশ্যে ইউজিসি ডিজিটাল লাইব্রেরি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সেলফ অ্যাসেসমেন্ট ত্বরান্বিত করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক গুণমান নিশ্চিতকরণ সেল স্থাপন করা হলেও এগুলোর কার্যকারিতা বর্তমানে প্রশ্নবিদ্ধ।
এ বিষয়ে আইএমইডি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ভারত ও পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্রমবর্ধমান উন্নতি হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা লক্ষ করা যায়নি। অথচ হেকেপ প্রকল্পের ফান্ডের অর্থ টিচিং-লার্নিং ও গবেষণায় ব্যবহারের ফলে এর প্রভাব হিসেবে তা হওয়া স্বাভাবিক ছিল।
প্রকল্পের আওতায় শতকোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব তৈরি করা হয়। প্রকল্প শেষে দেখা যায়, যন্ত্রপাতি বা উপকরণের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রায় এক-তৃতীয়াংশের কার্যকারিতা হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি অ্যান্ড অবস্টেট্রিক্টস বিভাগের এনিমেল রিসার্চ কেন্দ্রে স্পার্ম কালেকশনের জন্য গরুর শেড করা হলেও প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অংশ খালি রয়েছে। কিছুসংখ্যাক উপকরণ অল্প সময়ের ব্যবধানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। হাই-পারফরম্যান্স ইক্যুইপমেন্টের ক্ষেত্রে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রায় একই অবস্থা।
আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোনো বিভাগে প্রয়োজনের তুলনায় কম গবেষণার উপকরণ, ল্যাব দেওয়া হয়। আবার কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগে প্রয়োজনের বেশি গবেষণার উপকরণ, ল্যাব দেওয়া হয়েছে। এসব ল্যাব ও উপকরণ ব্যয়বহুল হওয়ায় তা এককভাবে কোনো বিভাগের পক্ষে এর ব্যয়ভার বা রক্ষণাবেক্ষণ পরিচালন সম্ভব নয় বলে মনে করছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। থ্রিডি প্রিন্টারসহ মূল্যবান যন্ত্রপাতি অল্পসময়েই অকেজো হয়ে গেছে।
আইএমইডি তাদের প্রতিবেদনে বলছে, প্রকল্পের আওতায় প্রদানকৃত গবেষণা উপকরণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অকেজো কিংবা পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, উপকরণ গুণমান ভালো হলে দীর্ঘ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ইক্যুইপমেন্টের একটি অংশ অকেজো রয়েছে। ১৭টি যানবাহনের (প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস) মধ্যে ইউজিসি ব্যবহৃত পাঁচটি বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
জুতা রপ্তানিতে সরকারি প্রণোদনা:
২২৩ কোটি টাকা হাতাল এপেক্স
দেশের শীর্ষস্থানীয় চামড়াজাত সামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারি রপ্তানি প্রণোদনার ২২৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড নিজেদের শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা দিয়ে প্রণোদনা নিলেও দেশের বাজারে পণ্য বিক্রি করেছে।
কিন্তু সেই তথ্য গোপন করে প্রতিষ্ঠানটি প্রণোদনার টাকা তছরুপ করেছে বলে এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের ২০২৩ সালে প্রকাশিত নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রণোদনার টাকা আত্মসাতের এই ঘটনা ঘটেছে ২০১৬-১৭ থেকে ২০২০-২১ পর্যন্ত এই পাঁচ অর্থবছরে। দেশের তৈরি চামড়াজাত সামগ্রী রপ্তানি উৎসাহিত করতে সরকার ২০০০ সাল থেকে মোট রপ্তানির ১০ শতাংশ প্রণোদনা দিয়ে আসছে।
নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড তাদের কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের শতভাগ রপ্তানি না করে দেশীয় বাজারে বিক্রি করেছে, যা রপ্তানি প্রণোদনার টাকা পাওয়ার শর্তের পরিপন্থী।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি রপ্তানি প্রণোদনার টাকা নেওয়ার সময় দাবি করেছে, এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড ও ইউনিট-২ নামে দুটি জুতার কারখানা আছে। এই দুই কারখানার একটি থেকে দেশে এবং আরেকটি থেকে বিদেশে পণ্য বাজারজাত করে থাকে। তবে কারখানা দুটির জয়েন্ট স্টক রেজিস্ট্রেশন বুকস অব অ্যাকাউন্টিং এবং বার্ষিক প্রতিবেদন একই। এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড দেশীয় বাজারে পণ্য বিক্রি করে, তাই প্রতিষ্ঠানটিকে শতভাগ রপ্তানিকারক হিসেবে গণ্য করা যায় না। সে জন্য ২০১৬-১৭ থেকে পাঁচ অর্থবছরে এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডকে দেওয়া প্রণোদনার টাকা ফেরত দিতে সুপারিশ করা হয়েছে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড রপ্তানি প্রণোদনার টাকা নিয়েছে ইস্টার্ণ ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক থেকে। রপ্তানির ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থবছরে ইস্টার্ণ ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান কার্যালয় থেকে ৩৬ কোটি ৪৮ লাখ ৩৮ হাজার ৫৮৯ টাকা উত্তোলন করা হয়। অন্যদিকে ২০১৬-২০ থেকে চার অর্থবছরে ১৮৬ কোটি ১৭ লাখ ৫ হাজার ৩৪ টাকা নেওয়া হয় সিটি ব্যাংক লিমিটেডের গুলশান শাখা থেকে। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চার অর্থবছরে তুলে নেওয়া টাকার মধ্যে ৪২ কোটি ২৩ লাখ ২৭ হাজার ৫৩৪ টাকা উত্তোলন করা হয় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে। পরের অর্থবছরে এপেক্স ফুটওয়্যার তুলে নেয় ৪৭ কোটি ৪১ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩৯ কোটি ৮০ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫৬ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী যে তন্ত্রের উপর নির্ভর করে, যে প্রশাসনের উপর নির্ভর করে, যে আর্থ-সামাজিক আবহের উপর নির্ভর করে দুর্নীতি বন্ধ করতে চায় তাতে রয়েছে গলদ, অপূর্ণতা ও ভ্রান্তি।
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যমীনে এবং পানিতে যা ফিতনা-ফাসাদ রয়েছে সবই মানুষের হাতের কামাই।” অপরদিকে সবকিছুর সমাধান সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই এই পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে আমি সবকিছু বর্ণনা করেছি।”
অর্থাৎ কেবলমাত্র পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের মধ্যস্থিত হুকুম-আহকাম মুতাবিক চললেই দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল সম্পূর্ণ সম্ভব। কিন্তু দেশের সরকার তা কবে বুঝবে? জনগণই বা কবে উপলব্ধি করবে? (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
অপসংস্কৃতি রোধ করতে হলে কথিত ফ্যাশন হাউজগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারত এবং পতিত আওয়ামীলীগ চাচ্ছে বাংলাদেশে তথাকথিত জঙ্গী তৎপরতা প্রমাণ করতে।
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়া শুরু করেছেন। বাতিল হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির’ সাথে ‘মহামান্য’ শব্দ ব্যবহারও।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় গত দশকগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বেতন, স্থায়ী খরচ এবং চলমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সামরিক আধুনিকায়ন, সমরাস্ত্র ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ২-৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমায় চললেই সে প্রজ্ঞা পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!!!!
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সরকারের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ কোটি টাকা
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












