খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল উমাম,
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহামূল্যবান নছীহত মুবারক
(সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ মহাসম্মানিত ১২ই শরীফ)
, ১৮ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৩ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ১৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(৬ষ্ঠ পর্ব)
আবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাঠানো হইছে-
لِتُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ
যেন তোমরা ঈমান আনতে পারো যিনি খলিক, যিনি মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি এবং যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি। ঈমান আনাটা, উনার খেদমত মুবারক আনজাম দেয়া, ছানা-ছিফত করা, তা’যীম তাকরীম মুবারক করা, সবটাই। আর উনার যে বিষয়গুলি, এ বিষয়গুলি সব সময় আনজাম দেয়া।
এখন আমাদেরকে শ্রেষ্ঠ উম্মত করা হইছে-
كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ
যে আমাদেরকে শ্রেষ্ঠ উম্মত বানানো হইছে। তা আমাদের মধ্যে কি আছে শ্রেষ্ঠত্বের? আমাদের কোনো যোগ্যতা তো নাই। তারপরও আমাদের শ্রেষ্ঠ উম্মত বানানো হইছে; কেনো? একমাত্র নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত হওয়ার কারণে সুবহানাল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
এখন এই জন্য আমাদেরকে বলা হচ্ছে, তোমাদেরকে মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে মনোনীত করা হইছে, তো দায়িত্ব হচ্ছে- সৎ কাজে আদেশ করবে, বদ কাজে নিষেধ করবে, খালেছ ঈমান আনবে। এখন খালেছ ঈমান আনতে হলে বাইয়াত গ্রহণ করতে হবে, সবক নিতে হবে, যিকির-ফিকির করতে হবে। এরপরে যখন খালেছ ঈমানদার সে হবে তখন সে সৎ কাজে আদেশ করবে, বদ কাজে নিষেধ করতে পারবে; আর সৎ কাজের মধ্যে একটা বড় কাজ হলো, সুন্নত মুবারক পালন করা, ইত্তেবা করা আর বেদাত থেকে বদ কাজ হইলো বিরত থাকা, মানুষকে বিরত রাখা। এই কাজগুলি করতে হবে অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে বিষয়গুলি দিয়ে গেছেন; এখন কুরআন শরীফ দিয়ে গেছেন, হাদীছ শরীফ দিয়ে গেছেন, সুন্নত মুবারক দিয়ে গেছেন, এই বিষয়গুলির হক আদায় করা।
তা’লীম-তালকীন দরস তাদরীস যা আছে, সবটা করা। আর আসলে মূল যে বিষয় সেটা হইলো বান্দার জন্য, একদিকে যেটা আমি বললাম, যে যিকিরটা জারি করলে শরীরের মধ্যে, ২৪ ঘন্টা যিনি খলিক, যিনি মালিক, রব আল্লাহ পাক উনার স্বরণ হয়। এছাড়া কোনোদিন সম্ভব না, সুলতানুল আযকার ছাড়া। আর ঠিক একইভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিকিরটা জারি করতে হবে। তো উনার যিকির জারি করবে কিভাবে? উনার যিকিরটা জারি করতে অর্থাৎ উনার সুন্নত মুবারক এত্তেবা করার মাধ্যমে সুবহানাল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
এর মাধ্যম দিয়ে উনার যিকিরটা জারী করতে হবে। এখন সবসময় যদি সুন্নত মুবারক এত্তেবা কেউ করে, তাইলে তো প্রতি মুহূর্তেই সে স্বরণ করবে। চলা-ফেরা, উঠা-বসা, খাওয়া-দাওয়া; এক লোক শুয়ে থাকবে, সুন্নতী তর্জ্-তরীকায় শুয়ে রইলো, অযু করবে সে অনুযায়ী, ইস্তেঞ্জা করবে সে অনুযায়ী, খাওয়া-দাওয়া করবে সে অনুযায়ী, তার যা সাংসারিক কাজ-কাম যা করবে সব সুন্নত মুতাবেক করবে। তাহলে এর মাধ্যম দিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দায়েমী স্বরণে সে থাকবে।
এখন এই বিষয়গুলি বুঝার জন্য অন্তর এসলাহ হওয়া প্রয়োজন; গালিজযুক্ত অন্তর বিষয়গুলি অনুধাবন করতে পারবে না। আর অন্তর ইছলাহ করতে হলে বাদ ইশা-বাদ ফজর দরুদ শরীফ একশো-একশো পাঠ করতে হবে, পাছ-আনফাস জারি করতে হবে। পাছ আনফাস জারি হলে সবক নিতে হবে, যিকির-আযকার করতে হবে। আর নিয়মিত ছোহবত ইখতিয়ার করতে হবে। বছরে একবার-দুইবার ছোহবতে আসলে হবে না। তরতীব মত ঘনঘন ছোহবত ইখতিয়ার করতে হবে। যে যত ছোহবত ইখতিয়ার করবে তার জন্য এই সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ হোক আর এই সুন্নত মুবারক সবকিছুই সহজে বুঝা সম্ভব হবে।
কাজেই তোমরা ছোহবতে আসবে, নিজেরা আসবে, অধীনস্ত যারা আছে তাদেরকে নিয়ে আসবে। এটা মনে থাকে যেন। কিছুক্ষণ সময় কোন ওলীআল্লাহ উনার ছোহবতে থাকা একশত বছর কবুল এবাদত থেকেও সেটা ফযীলতপূর্ণ্। সুবহানাল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
সেটাই বলা হয়েছে-
صحبت صالح ترا صالح کند + صحبت طالح ترا طالح کند
বদ লোকের ছোহবতে থাকলে খারাপ হয়ে যায়।
এখন সবকগুলি করো, যিকির-ফিকির করো, ছোহবত ইখতিয়ার করো, আসা-যাওয়া করো। দুনিয়ার কাজ থাকবে, দুনিয়ার কাজ বাদ দেওয়া যাবেনা কিন্তু তোমার যখন চক্ষুটা বন্ধ হয়ে যাবে; তোমার কাজটা কিন্তু পরে থাকবে না আরেকজনে করবে। এখন একজন বাবা মনে করে সন্তানরা কি খাবে কি পড়বে সে মারা গেলে? কিন্তু দেখা যায় বাবা যা খাওয়াইতো-পড়াইতো তারচেয়ে ভালো খায়। অনেকরকম হয়। সেটাই তো রিযিক তো কুদরতী বিষয়। রিযিকটা কুদরতী বিষয় এটা কোনো ব্যক্তির সাথে সম্পৃক্ত না। এটা কুদরতী বিষয়।
যিনি খালিক, যিনি মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, মাহবুব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে রিযিকটা দান করেন সুবহানাল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
কাজেই এইজন্য যিকির-আযকার করো, মুত্তাকী হও, যেটা আল্লাহ পাক বলছেন-
وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ
যদি কেউ খালিছ ঈমানদার হতো, মুত্তাকী হতো, আমি তার আসমান-যমীনের সমস্ত বরকতের দরজাগুলি খুলে দিতাম। সুবহানাল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
কাজেই এটা মনে রাখতে হবে, এখন তোমরা এই মুত্তাকী হতে হলে সুন্নত মুবারকের ইত্তেবা করতে হবে এবং সমস্ত শরীরে যিকির জারি করতে হবে। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যদি হক মুবারক তুমি কিছুও আদায় করতে চাও তাইলে তোমার এই যিকির-ফিকির ছাড়া ও সুন্নত মুবারক ইত্তেবা ছাড়া কস্মিনকালেও হক আদায় করতে পারবে না।
কাজেই যিনি খালিক, যিনি মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক যেন হাকীকীভাবে আমাদেরকে উনাদের সমস্ত আদেশ-নিষেধ মুবারকগুলি যথাযথ পালন করে উনাদের হাকীকী রেজামন্দি-সন্তুষ্টি হাছিল করার যেন তওফিক দান করেন। (সমাপ্ত)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ছহিবুত তাকওয়া, ওলীয়ে মাদারযাদ, হাদিয়ে ইলাহী, কুতুবুল আলম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাফীউল উমাম আলাইহিস সালাম
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ছহিবুত তাকওয়া, ওলীয়ে মাদারযাদ, হাদিয়ে ইলাহী, কুতুবুল আলম, সাইয়্যিদুনা হযরত হাদীউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক নছীহত শরীফ
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত কিতাব পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা ৬,৬৬৬। আর এ মতটি বহুল প্রচলিত, মশহূর ও গ্রহণযোগ্য (২)
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত শাফীউল উমাম আলাইহিস সালাম
৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহামূল্যবান নছীহত মুবারক
৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছহিবুত তাকওয়া, ওলীয়ে মাদারযাদ, হাদিয়ে ইলাহী, কুতুবুল আলম, সাইয়্যিদুনা হযরত হাদীউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ
৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












