খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল উমাম,
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহামূল্যবান নছীহত মুবারক
(সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ মহাসম্মানিত ১২ই শরীফ)
, ১৭ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০২ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ৩১ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(৫ম পর্ব)
৫
আর এরপরে যেটা আলোচনা করা হইছে সেটা হলো- সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফে খরচ করা, এখন অনেক আলোচনা করা হয়েছে। এখন এটাতো অনেক ফযীলত; অনেক হাদীছ শরীফে আছে, যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তো বলেছেন,
مَنْ عَظَّمَ مَوْلِدِىْ وَهُوَ لَيْلَةُ اثْنَـىْ عَشَرَ مِنْ الشهر رَّبِيْع الْاَوَّلِ الشريف بِاتِّـخَاذِهٖ فِيْهَا طَعَامًا كُنْتُ لَهٗ شَفِيْعًا يَّوْمَ الْقِيَامَةِ
একটা হাদীছ শরীফে উনি বলছেন যে আমার বিলাদত শরীফ এই তারিখকে যে সম্মান করলো, যেটা এই সাইয়্যিদুশ শুহূর, শাহরুল আ’যম শরীফে উনার ১২ই শরীফ; কিভাবে? মেহমানদারি করার মাধ্যমে ওলীমা করে; ওলীমা করে ছানা-ছিফত মুবারক করে, যারা সম্মান করলো তাদের জন্য তিনি সুপারিশকারী হবেন ইহকাল-পরকাল সর্বকালে সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
আবার বলেছেন,
مَنْ اَنْفَقَ دِرْهَـمًا، مَنْ اَنْفَقَ دِرْهَـمًا فِـىْ مَوْلِدِىْ
আমার বিলাদত শরীফে এক দেরহাম মাত্র খরচ করলো اِكْرَامًا; اِكْرَامًا অর্থাৎ খুব মুহব্বতের সাথে আদবের সাথে শরাফতের সাথে খরচ করলো; তাহলে কি হবে? فَكَاَنَّـمَا اَنْفَقَ جَبَلًا مِّنْ ذَهَبٍ সে যেনفِـى الْيَتَامٰى فِـىْ سَبِيْلِ اللهِ، فَكَاَنَّـمَا اَنْفَقَ جَبَلًا مِّنْ ذَهَبٍ اَحْمَرَ، فِـى الْيَتَامٰى فِـىْ سَبِيْلِ اللهِ
অর্থাৎ যিনি খালিক, যিনি মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় এতিমের জন্য এক লাল পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ দান করলে যে ফযীলত; সেটা এক দেরহাম খরচ করলে সেটা সে লাভ করবে সুবহানাল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
খরচের অনেক কথা বলা হইছে, এখন খরচ করা উম্মতের জন্য এটা দায়িত্ব-কর্তব্য। এখন খরচটা করবে ওলীমা করে অর্থাৎ মেহমানদারির মাধ্যমে আর সে ওলীমার মাধ্যমে সেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক করবে, করে মানুষকে মেহমানদারি করবে। তাহলে এখানে এক দেরহাম খরচ করলে যিনি খালিক যিনি মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় এতিমদের জন্য এক লাল পাহাড় স্বর্ণ দান করলে যত ফযীলত ঠিক তার সমপরিমাণ সে ফযীলত লাভ করবে। সুবহানাল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
তাহলে কতটুকু খরচ করতে হবে? এখানে সময় দিতে হবে, মাল দিতে হবে, এটা মনে রাখবা। কাজেই প্রত্যেকের জন্য খরচ করা দায়িত্ব-কর্তব্য।
৬
আর সর্বশেষ যেটা আলোচনা করা হয়েছে, যে হকের বিষয়টা। এটাতো অনেক বড় বিষয়। এখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে হক মুবারক; এটা তো আর বান্দা কোনদিন আদায় করতে পারবে না। সাধারণভাবে বলা হয় যেটা মশহুর যে কথা সেটা হইলো, কোন বান্দা কখনই যিনি খালিক, যিনি মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনার হক কখনোই সে পরিপূর্ণ আদায় করতে পারবে না। আবার ঠিক একইভাবে কোন উম্মত কখনোই কোন রসূল আলাইহিস সালাম বা রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হক কখনোই পূর্ণ আদায় করতে পারবে না। আবার ঠিক কোন সন্তান কখনোই তার বাবা-মার সব হক আদায় করতে পারবে না। বিষয়গুলি খুব কঠিন বিষয়। তবে সে যে পারবে না সেজন্য সে করবে না তা না; তাকে কোশেশ করতে হবে, তার সাধ্য-সামর্থ্য অনুযায়ী।
এখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে হক মুবারক এটাতো একটা কল্পনাতীত বিষয়। এটা তো মানুষের পক্ষে চিন্তা-করাই কঠিন বিষয়। যেমন ওই আয়াত শরীফে বলা হচ্ছে-
قُلْ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِلَّا الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْبَى আপনি বলে দেন তোমাদের কাছে বিনিময় চাচ্ছি না তোমরা বিনিময় দিতে পারবে না। দেয়ার নিয়ত করাটা কুফরী হবে। কিন্তু তোমাদের কামিয়াবী হাসিল করতে হবে তাহলে হযরত আহলু বাইত শরীফ উনাদেরকে মুহব্বত করতে হবে সুবহানাল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
কাজেই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে হক মুবারক রয়েছে, এটার জন্য কোশেশ করতে হবে। উনার বলা হয়েছে এগুলি ছানা-ছিফত করতে হবে, তা’যীম-তাকরীম করতে হবে, খেদমত মুবারক আনজাম দিতে হবে। এখন এগুলির মাধ্যম দিয়ে যতটুকু সম্ভব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে সম্মান-ইজ্জত মুবারকটা সেটা প্রকাশ করা। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সরাসরি করেছেন।
এখন তো আর আমাদের পক্ষে সেটা করা সম্ভব না সরাসরি। তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে আদেশ মুবারক, নিষেধ মুবারক, উনার যা আমল মুবারক, সুন্নত মুবারক এই বিষয়গুলি পালন করা, প্রচার-প্রসার করা।
যেমন হাদীছ শরীফে যে বলা হইছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দোয়া করলেন, اللَّهُمَّ ارْحَمْ خُلَفَائِي আল্লাহ পাক! আমার খলীফাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। তো ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম জিজ্ঞাসা করলেন, খলীফা কারা? বললেন,
الَّذِينَ يَأْتُونَ مِنْ بَعْدِي، وَيَرْوُونَ أَحَادِيثِي وَسُنَّتِي، وَيُعَلِّمُونَهَا النَّاسَ
যারা আমার পরে আসবে এসে যারা হাদীছ শরীফ বর্ণনা করবে, সুন্নত মুবারক প্রচার করবে, মানুষকে তা’লীম দিবে, উনারা হচ্ছেন আমার খলীফা সুবহানাল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
আসলে এগুলি হচ্ছে বান্দার দায়িত্ব-কর্তব্য। আমাদের জন্য এটা ফরজে আইন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে খুশি করার জন্য এই সব আনজাম দেওয়া আমাদের জন্য ফরজে আইন। এখন সবটাই উনার হক। যিনি খালিক, যিনি মালিক, রব, আল্লাহ পাক উনার যেমন সব হক উনার; আমভাবে নামাজ-রোযা, যেটা ফরজ; এগুলি বলে আল্লাহ পাক উনার হক। আসলে সবগুলিই আল্লাহ পাক উনার হক আবার সবগুলিই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারই হক মুবারক।
কাজেই উনাকে সন্তুষ্ট করার জন্য যা প্রয়োজন সবটাই বান্দার করা দায়িত্ব-কর্তব্য। ঈমান আনা যেমন প্রয়োজন, ঠিক তার সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিও প্রয়োজন। সেটাই وَتُعَزِّرُوهُ وَتُوَقِّرُوهُ وَتُسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلًا খেদমত মুবারক আনজাম দেও, তা’যীম-তাকরীম করো, ছানা-ছিফত মুবারক করো। (পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় থাকুন)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ফাদ্বায়িলে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম (৪)
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
দ্বীন ইসলাম উনার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ৩ শ্রেণী
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন রোগই ছোঁয়াচে নয়,
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১২)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিধর্মী-অমুসলিমরা কখনো মুসলমানদের ভাই/বন্ধু নয়, বরং তারা মুসলমানদের চির শত্রু (৪র্থ পর্ব)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২৪)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












