ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
দুনিয়ার বুরায়ী বা খারাবী (৪৬)
, ২৭ শা’বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ৩০ তাসি’, ১৩৯২ শামসী সন , ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রি:, ১৩ ফালগুন, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেদিয়েছেন, যারা মহান আল্লাহ পাক উনার থেকে গাফিল হয়, মহান আল্লাহ পাক উনার নিদর্শন থেকে, আদেশ-নিষেধ থেকে গাফিল হয়ে যায়, তারা মহান আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাত, দীদার, যেটা পরকালের শ্রেষ্ঠ নিয়ামত, সেটা থেকে মাহরূম থাকবে। যেহেতু সে চাচ্ছে না এবং দুনিয়াবী জিন্দেগী নিয়ে সে সন্তুষ্ট এবং ইতমিনান, পরকাল ও দীদার সে চায় না, যে দীদারের জন্য সমস্ত মখলুক্বাত ব্যাকুল, যেটা উল্লেখ করা হয়েছে- জান্নাতের মধ্যে অনেক সুখ ভোগ রয়েছে, সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সুখ ভোগ যেটা, সেটা হচ্ছে- মহান আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাত, দীদার, দীদারে মাওলা। এজন্য অনেকে বলেছেন যে, জান্নাতে যদি কোন কিছু না থাকতো, একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার দীদার থাকতো, তাহলে সেটাই জান্নাতীদের জন্য যথেষ্ট ছিল।
আর জাহান্নামী যারা, তাদের জন্য কোন শাস্তির দরকার ছিলনা। তাদের সবচেয়ে বড় শাস্তি হচ্ছে- মহান আল্লাহ পাক উনার সেখানে দীদার নেই।
তাই যত হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা দোয়া করেছেন, চেয়েছেন, উনারা বলেছেন যে, মহান আল্লাহ পাক! আমরা মূলত জান্নাতের সুখ ভোগের জন্য জান্নাত চাচ্ছিনা, আমরা হাক্বীক্বত জান্নাত চাচ্ছি, আপনার সাক্ষাতের জন্য। আর জাহান্নামকে ভয় করিনা, পরওয়া করিনা, একমাত্র জাহান্নাম থেকে পানাহ চাচ্ছি, সেখানে আপনার দীদার নেই, সেজন্য।
সেটাই মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন, “মহান আল্লাহ পাক উনার থেকে যারা গাফিল, মহান আল্লাহ পাক উনার নিদর্শন থেকে যারা গাফিল, হুকুম-আহকাম থেকে গাফিল, তারা বদ আমলের কারণে জাহান্নামে যাবে।
হাক্বীক্বত তারা মহান আল্লাহ পাক উনার দীদার চায়না এবং পরকাল তারা চায়না এবং দুনিয়া নিয়ে তারা সন্তুষ্ট এবং ইতমিনান। দুনিয়া নিয়ে তারা সন্তুষ্ট এবং ইতমিনান। যেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
কাজেই প্রত্যেক ব্যক্তির জন্যই মহান আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাত তলব করা বা তালাশ করা ফরয-ওয়াজিব উনার অন্তর্ভুক্ত।
এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে, হাশরের ময়দানে মানুষ অনেক শ্রেণীর হবে, যারা মহান আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাত পাবেন, দীদার পাবেন। কিছু লোক থাকবেন, যাঁরা বৎসরে একবার মহান আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাত পাবেন। বৎসরে একবার মহান আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাত পাবেন। উনারা নিম্ন শ্রেণীর জান্নাতী।
এরপর যাঁরা বৎসরে দু’বার সাক্ষাত পাবেন, তারপর হচ্ছে- যাঁরা সপ্তাহে একবার সাক্ষাত পাবেন, এরপর আসবে যাঁরা দিনে একবার সাক্ষাত পাবেন, এরপর যাঁরা সকাল-বিকাল দু’বেলা সাক্ষাত পাবেন, আর তার উচ্চ শ্রেণীতে যাঁরা রয়েছেন, উনারা দায়েমীভাবে সর্বক্ষণ মহান আল্লাহ পাক উনার দীদারের মধ্যে মশগুল থাকবেন। সুবহানাল্লাহ!
সেটাই মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন-
إِنَّ الَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقَاءَنَا
অর্থাৎ যারা আমার সাক্ষাত চায়না, হাক্বীক্বত দুনিয়া নিয়ে তারা সন্তুষ্ট, ইতমিনান। তারা তাদের আমলের জন্য জাহান্নামে যাবে। আমার সাক্ষাত, আমার দীদার তারা কখনো পাবেনা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ছদক্বাতুল ফিতর উনার অকাট্য দলীল (১)
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি আদেশ মুবারক করেছেন-
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আকরামুল আউওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন খুলুকুন ‘আযীম উনার অধিকারী (৪)
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (৯)
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৪)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যে নিজে পর্দা করে না ও অধীনস্থদের পর্দা করায় না সে দাইয়ূছ
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (৮)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












