পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (৮)
, ১৫ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৫ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৫ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২০ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রগের বর্ণনা:
৫. টেনডন (Tendon): এটা পেশীর প্রান্তীয় অংশ যা দ্বারা গোশতপেশী সাধারণতঃ অস্থির সহিত সংযুক্ত থাকে। টেনডন মূলতঃ পেশীরই পরিবর্তিত রূপ- শরীরের বাইরে থেকে যাকে শক্ত দড়ির মত মনে হয়।
৬. স্নায়ু (Nerve): যা মানবদেহের অনুভূতি বহনকারী স্নায়ুতন্ত্র (Nervous System)-এর একটি বিশেষ অংশ। এটা দেখতে এবং আকার আকৃতিতে সাদা রং-এর দড়ির মত। এর অভ্যন্তর ভাগও ফাঁপা নয়।
৭. স্নায়ুরজ্জু (Spinal Cord): এটিও স্নায়ুতন্ত্রেরই একটি অংশ যা মেরুদ-ের অভ্যন্তরে অবস্থিত।
এটি মস্তিষ্কের সাথে শরীরের অভ্যন্তরস্থ দূরবর্তী স্নায়ূসমূহকে সংযোগকারী। স্নায়ুরজ্জু আসলে বহু সংখ্যক স্নায়ুর সমষ্টি। তবে এর অভ্যন্তরভাগে সরু একটি নালী আছে, যার ভিতর দিয়ে সেরিব্রো-স্পাইনাল ফ্লুইড (Cerebro-Spinal Fluid ev CSF) নামক পানির মত স্বচ্ছ তরল পদার্থ মস্তিষ্ক থেকে স্নায়ুরজ্জুর নিম্ন প্রান্ত পর্যন্ত চলাচল করে।
৮. কণ্ঠনালী বা শ্বাসনালী (Trachea): গলার সম্মুখভাগে অবস্থিত দেখতে প্রায় বাঁশের আকৃতির, যার মধ্যভাগ ফাঁপা এবং ভিতর দিয়ে বাতাস চলাচল করে। মানবদেহের শ্বাসতন্ত্র (Respiratory System)-এর অন্যতম প্রধান অংশ হিসাবে এটি কাজ করে থাকে।
৯. খাদ্যনালী (Esophagus/Oesophagus): শ্বাসনালীর ঠিক পশ্চাতেই অবস্থিত। মানবদেহের পরিপাকতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসাবে মুখ ও পাকস্থলীকে সংযোগ করে থাকে।
১০. শুক্ররজ্জু (Spermatic Cord): অন্ডকোষকে পেটের সাথে সংযোগকারী নালী যা শুক্রনালী, ধমনী, শিরা লসিকা নালী ও স্নায়ু ইত্যাদির সমন্বয়ে গঠিত। উল্লেখ্য, সাধারণতঃ মানুষ রগ বলতে উপরোক্ত দশটির যে কোন একটি বা একাধিকটিকে বুঝিয়ে থাকে (যেমন- রগে টান পড়া, রগ কেটে দেয়া, রগ ফুলে যাওয়া, রগ ছিড়ে যাওয়া, রগ টনটন করা, রগ দপদপ করা) যদিও চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় রগ বলতে যেখানে যেটি প্রযোজ্য সুনির্দিষ্টভাবে সেটিকেই বোঝানো হয়ে থাকে।
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, রগ সম্পর্কে ইমদাদুল ফতওয়ার উক্ত বক্তব্যও ভুল। কারণ চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে এমন কোন শিরা বা রগ পাওয়া যাবে না, যার দ্বারা রক্ত চলাচল করে না। আর কোন ওষুধই রক্তের সাথে মিশে গিয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় না বরং রক্তে ওষুধের উপস্থিতি থাকে এবং তা সহজেই মগজে পৌঁছে যায়।
সুতরাং উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা এটাই প্রমাণিত হলো যে, ইনজেকশন সম্পর্কে ইমদাদুল ফতওয়ার উপরোক্ত বক্তব্য মোটেও শুদ্ধ হয়নি। মূলকথা হলো- ইনজেকশন নিলে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। কারণ ইনজেকশনের দ্বারা ব্যবহৃত ওষুধ মগজে পৌঁছে থাকে।
ইমদাদুল ফতওয়ার অন্যত্র আরো বলা হয়েছে-“ফক্বীহ্গণ সাধারণতঃ জখমে (আঘাত প্রাপ্ত স্থানে) ওষুধ দেয়াকে রোযা ভঙ্গের কারণ বলেননি। বরং جائفہ (জায়িফা অর্থাৎ যে জখম পাকস্থলী পর্যন্ত পৌঁছেছে) অথবা امہ (আম্মাহর অর্থাৎ যে জখম মগজ পর্যন্ত পৌঁছেছে) তার শর্ত দিয়েছেন। কেননা তাদের মতে এ দু’ধরণের জখমের দ্বারা ওষুধ মগজ অথবা পেটের মধ্যে পৌঁছে থাকে। নচেৎ ওষুধ অন্যান্য জখমের দ্বারা শিরার ভিতরে পৌঁছে থাকে।”
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার আলোকে খ-নমূলক জাওয়াব: বাস্তবে জায়িফা এবং আম্মাহ্ এর মত জখম প্রাপ্ত রোগীর মৃত্যুর প্রহর গোনা ছাড়া স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব নয় এবং এ রকম রোগীর চিকিৎসা শুধুমাত্র শয্যায় রেখেই সম্ভব।
পরবর্তীতে বলা হয়েছে- “নতুবা ওষুধ অন্যান্য জখমের দ্বারা শিরার ভেতরে পৌঁছে যায়।” অর্থাৎ তারা জায়িফা এবং আম্মাহ্কে অন্যান্য জখমের সঙ্গে পার্থক্য করেছে, তারা বুঝাতে চেয়েছে- জায়িফা এবং আম্মাহ্তে ওষুধ প্রয়োগ করলে সরাসরি মগজে এবং পাকস্থলীতে পৌঁছায় এবং তা রোযা ভঙ্গের কারণ। কিন্তু অন্যান্য জখমে ওষুধ প্রয়োগ করলে তা মগজে বা পেটে পৌঁছায় না, শুধু শিরায় পৌঁছায়, তাই সেখানে ওষুধ প্রয়োগ করা রোযা ভঙ্গের কারণ নয়। কিন্তু মূলতঃ যে কোন জখমেই ওষুধ প্রয়োগ করা হোক না কেন (শুষ্ক পাউডার বা মলম) তা যদি শিরায় পৌঁছে, তবে তা মগজে সহজেই পৌঁছে যাবে।
আর ইমদাদুল ফতওয়ার উক্ত বক্তব্যে যেহেতু উল্লেখ করা হয়েছে যে, “নতুবা ওষুধ অন্যান্য জখমের দ্বারা শিরার ভিতর পৌঁছে থাকে।” সেহেতু শিরার ভিতর পৌঁছার কারণে মগজেই পৌঁছাবে। অতএব জখমের মধ্যে ওষুধ দিলেও রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে ফিক্বাহর কিতাবে উল্লেখ করা হয় যে-
بِاَنْ دَاوَى الْـجَائِفَةَ وَالْاٰمَةَ فَاِنْ دَاوَاهَا بِدَوَاءِ يَابِسٍ لَا يُفْسِدُ لِاَنَّه لَـمْ يَصِلْ اِلَى الْـجَوْفِ وَلَا اِلَى الدِّمَاغِ وَلَوْ عَلِمَ اَنَّهٗ وَصَلَ يُفْسِدُ فِى قَوْلِ اَبِـىْ حَنِيْفَةَ وَاِنْ دَاوَاهَا بِدَوَاءِ رَطْبٍ يُفْسِدُ عِنْدَ اَبِـىْ حَنِيْفَةَ.
অর্থ: “জায়িফা ও আম্মাতে যে ওষুধ দেওয়া হয়, উক্ত ওষুধ যদি শুকনা হয়, তবে রোযা ভঙ্গ হবে না। কেননা উক্ত ওষুধ পেট অথবা মগজে পৌঁছে না। আর যদি জানা যায় যে, উক্ত ওষুধ মগজ অথবা পেটে পৌঁছে, তবে ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মতে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। আর ওষুধ যদি ভিজা হয়, তবেও ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মতে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে।” (বাদায়ে, হিদায়া, আলমগীরি, আইনুল হিদায়া, মাবসূত লিস সারাখসী ইত্যাদি)
মূলকথা হলো- যেকোন জখম দ্বারা যেকোন ওষুধ প্রবেশ করানো হোক না কেন, যদি জানা যায় যে, তা মগজ অথবা পেটে পৌঁছেছে, তবে অবশ্যই রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে।
আর চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে যেহেতু জখমে ওষুধ প্রয়োগ করালে তা রক্তের স্রোতে পৌঁছে যায় এবং রক্ত স্রোতের মাধ্যমে মগজে পৌঁছে যায়, সেহেতু জখমে ওষুধ দিলেও রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৪)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যে নিজে পর্দা করে না ও অধীনস্থদের পর্দা করায় না সে দাইয়ূছ
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মসজিদে ইবাদত করতে বাধা দেয়া বা মসজিদ উচ্ছেদ করা কুফরী
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র সূরা দুখান শরীফে বর্ণিত লাইলাতুম মুবারকাই হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত; যে রাত্রি মুবারকে সমস্ত প্রজ্ঞাময় বিষয়সমূহের ফায়ছালা করা হয় (৬)
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (৭)
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ক্বমীছ বা জামা নিছফে সাক্ব পর্যন্ত প্রলম্বিত হওয়া সম্মানিত সুন্নত মুবারক
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা অবশ্যই সত্যের মাপকাঠি; অস্বীকারকারীরা কাট্টা কাফির (১২)
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












