সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ছদক্বাতুল ফিতর উনার অকাট্য দলীল (১)
, ১৬ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৬ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৬ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২১ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সালাফী লা’মাযহাবীরা পবিত্র ছদক্বাতুল ফিতর বিষয়ে সম্মানিত হানাফী মাযহাব উনার বিরোধিতা করে। তারা বলে হানাফী মাযহাবে নাকি মনগড়া ফিতরার বিধান রয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ফিতরার বিষয়ে ছহীহ কোন হাদীছ শরীফ নাকি নাই। নাউযুবিল্লাহ। এছাড়া তাদের আপত্তিসমূহ নিম্নরূপ:
১) অর্ধ সা’ গম বা আটা দিয়ে ফিতরার কোন দলীল নেই।
২) টাকা দিয়ে ছদক্বাতুল ফিতর আদায় করা যাবে না সরাসরি খাদ্যদ্রব্য দিতে হবে।
৩) স্থানীয় এলাকার ফসল দিয়ে ছদক্বাতুল ফিতর আদায় করতে হবে, যেমন বাংলাদেশের জন্য চাউল।
ওহাবী লা’মাযহাবীদের এসকল চরম মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্যের জবাব ধারাবাহিকভাবে দেয়া হলো-
(১) এক সা’ গম বা আটা সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দলীল:
عَنْ حَضْرَتَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي صُعَيْرٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ" صَاعٌ مِنْ بُرٍّ أَوْ قَمْحٍ عَلَى كُلِّ اثْنَيْنِ صَغِيرٍ أَوْ كَبِيرٍ حُرٍّ أَوْ عَبْدٍ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى أَمَّا غَنِيُّكُمْ فَيُزَكِّيهِ اللَّهُ وَأَمَّا فَقِيرُكُمْ فَيَرُدُّ اللَّهُ عَلَيْهِ أَكْثَرَ مِمَّا أَعْطَاهُ
অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ ইবনু আবূ সু’আইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ছোট, বড়, স্বাধীন, গোলাম, পুরুষ অথবা নারী প্রত্যেক দুইজনের উপর এক সা’ গম (ফিতরা) নির্ধারিত। মহান আল্লাহ পাক তোমাদের ধনীদেরকে এ দ্বারা পবিত্র করবেন এবং তোমাদের দরিদ্রদেরকে মহান আল্লাহ পাক তাদের দানের চাইতে অধিক দিবেন। (সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুয যাকাত: হাদীছ ১৬১৯)
كنا نؤدي زكاة الفطر على عهد رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مدين من قمح، بالمد الذي تقتاتون به.
অর্থ: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বলেন, যে মুদ (পাত্র) দ্বারা তোমরা খাদ্যবস্তু গ্রহণ করে থাকো এমন দুই মুদ (আধা সা) গম আমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানায় ছদক্বাতুল ফিতর আদায় করতাম। (মুসনাদে আহমদ ৬/৩৪৬)
পবিত্র হাদীছ শরীফখানা ছহীহ এবং এ সনদটি হাসান। সালাফী মুরুব্বী নাসীরউদ্দীন আলবানী স্বীকার করেছে যে, এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সনদ ছহীহ বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ উনার শর্তে উত্তীর্ণ, ছহীহ।
ইমাম হযরত তহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি এ পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করার পর বলেন-
فهذه أسماء تخبر أنهم كانوا يؤدون في عهد النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زكاة الفطر مدين من قمح، ومحال أن يكونوا يفعلون هذا إلا بأمر رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، لأن هذا لا يؤخذ حينئذٍ إلا من جهة توقيفه إياهم على ما يجب عليهم من ذلك.
অর্থ: হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানায় হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা ছদক্বাতুল ফিতর দিতেন আধা সা গম। এ তো সম্পূর্ণ অসম্ভব যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান নির্দেশ মুবারক ছাড়া উনারা এই কাজ করতেন। কারণ সম্মানিত দ্বীন উনার বিষয়ে উনাদের কর্তব্য কি তা জানার একমাত্র সূত্র নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শিক্ষা ও নির্দেশনা মুবারক। (শরহে মা’য়ানিল আছার ২/৪৩: হাদীছ ৩১১৪)
أن النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بعث مناديا ينادي في فجاج مكة: ألا إن صدقة الفطر واجب على كل مسلم، ذكر أو أنثى، حر أو عبد، صغير أو كبير، مدان من قمح، أو صاع مما سواه من الطعام.
অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একজন ঘোষক প্রেরণ করলেন তিনি যেন পবিত্র মক্কা শরীফ উনার পথে পথে এ ঘোষণা করেন যে- জেনে রেখো! প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, গোলাম-স্বাধীন, ছোট-বড় প্রত্যেকের উপর ছদকায়ে ফিতর অপরিহার্য। দুই মুদ (আধা সা) গম কিংবা এক সা অন্য খাদ্যবস্তু। (জামে তিরমিযী ১/৮৫)
فرض رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زكاة الفطر مدين من حنطة.
অর্থ: হযরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছদক্বাতুল ফিতর নির্ধারণ করেছেন দুই মুদ (আধা সা) গম। (মারাসীলে আবু দাউদ: ১৬ পৃষ্ঠা)
আল্লামা ইবনে আবদুল হাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সনদ দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট ও ছহীহ।
أمر رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ في صدقة الفطر بصاع من شعير أو مدين من قمح.
অর্থ: হযরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত কাসেম ও সালেম রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আদেশ মুবারক করেছেন ছদক্বাতুল ফিতরে এক সা যব বা দুই মুদ (আধা সা) গম আদায় করার। (শরহু মাআনিল আছার ১/৩৫০)
(চলবে....)
-খাজা মুহম্মদ নূরউদ্দীন পলাশ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহান আল্লাহ পাক তিনি আদেশ মুবারক করেছেন-
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আকরামুল আউওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন খুলুকুন ‘আযীম উনার অধিকারী (৪)
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (৯)
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৪)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যে নিজে পর্দা করে না ও অধীনস্থদের পর্দা করায় না সে দাইয়ূছ
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (৮)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মসজিদে ইবাদত করতে বাধা দেয়া বা মসজিদ উচ্ছেদ করা কুফরী
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












