পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (৯)
, ১৬ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৬ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৬ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২১ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মলমের বর্ণনা:
এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ফার্মাসিউটিক্যাল সেমিসলিড (semisolid) প্রিপারেশন্সসমূহের মধ্যে রয়েছে, মলম (ointments), পেষ্ট (paste), ক্রীম (পৎবধস), ইমালশন (emulsion), জেল (gel) ইত্যাদি। এ সবগুলো মাধ্যমই ত্বকে ওষুধ প্রয়োগের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে খুব অল্পসংখ্যক মাধ্যম দ্বারা মিউকাস মেমব্রেনে, যেমন রেকটাল টিস্যূ (recral tissue), বাক্কাল টিস্যূ (buccal tissue), ইউরিথ্রাল মেমব্রেন (urethral membrane), কানের বাইরের ত্বকে, নাকের মিউকোসাতে এবং চোখের কর্ণিয়াতে ওষুধ দেয়া হয়। মিউকাস মেমব্রেনে ওষুধ প্রবেশ করলে, তা রক্তে ছড়িয়ে যায় কিন্তু শরীরের সাধারণ ত্বক তুলনামূলকভাবে মিউকাস মেমব্রেনের চেয়ে কম ওষুধ প্রবেশের যোগ্যতা রাখে।
ত্বকের মধ্য দিয়ে ওষুধের প্রবেশ পথটি বর্ণনার পূর্বে আমরা একটু ত্বক নিয়ে আলোচনা করবো। এনাটমী অনুযায়ী ত্বকের অনেক স্তর রয়েছে, তবে প্রধাণতঃ তিনটি।
১. এপিডার্মিস স্তর (The Epidermis)
২. ডার্মিস স্তর (The Dermis)
৩. ত্বকের চর্বির স্তর (Subcutaneous fat layer)
এদের মধ্যে সবচেয়ে বাইরের অংশটিকে বলা হয় ষ্ট্রেটাম করনিয়াম অথবা হর্নি স্তর (Stratum corneum or horû layer)। ষ্ট্রেটাম কর্নিয়ামের নীচে রয়েছে, এপিডার্মিস এবং এপিডার্মিসের নীচে রয়েছে ডার্মিস অথবা কোরিয়াম (Dermis or Corium)।
জানা গেছে- “Once a substance passes through the statum corneum, there is appraently no significant further hindrance to penetration of the remaining epidermal layers and corium, there is then ready entry into the circulation via the capillaries.”
অর্থাৎ যদি ত্বকে ওষুধ প্রয়োগ করা হয় এবং তা কোনভাবে ষ্ট্রেটাম করনিয়াম ভেদ করে, তবে পরবর্তীতে এপিডার্মাল এবং কোরিয়াম স্তর ভেদ করে যেতে উল্লেখযোগ্য কোন বাধা নেই এবং সহজেই কৈশিক নালীর মাধ্যমে রক্ত স্রোতে মিশে।
ত্বকের মধ্য দিয়ে ওষুধ প্রবেশের ব্যাপারে Biopharmaceutics -এ বলা হয়েছে- “In general, drug absorption from dermal vaginal, rectal, perenteral or gastrointestinal absorption sites into systemic circulation occurs by a passive diffusion across biologic membrane. These membranes from lipoidal barriers that seperate the bodyÕs interior from its exterior environment.”
অর্থাৎ “ত্বকের মধ্য দিয়ে এবং আরো কয়েকটি মাধ্যম দিয়ে (উল্লেখ্য) রক্তে ওষুধের শোষণ ঘটে জৈবিক ঝিল্লির মধ্য দিয়ে পরোক্ষ ব্যাপনের দ্বারা এবং এ সকল ঝিল্লিসমূহ তৈলাক্ত প্রতিবন্ধকতা (অর্থাৎ চর্বি জাতীয় স্তর) তৈরী করে, যা শরীরের ভেতরের অংশ থেকে বাইরের অংশকে আলাদা করে।”
জৈবিক ঝিল্লি (biologic membrane) সম্পর্কে আরো বলা হয়েছে- “Biologic membranes, being lipoidal in nature, are usually more permeable to lipid soluble substances. Transport across these membranes therefore depends, in part, on the lipid solubility of the diffusing species. Lipid solubility of a drug is determined by the presence of non polar groups in the structure of the drug molecule as well as ioni“able groups that are affected by local pH.”
অর্থাৎ জৈবিক ঝিল্লি হচ্ছে চর্বি জাতীয় ঝিল্লি এবং যার মধ্য দিয়ে চর্বিতে দ্রবীভূত হওয়ার গুণসম্পন্ন ওষুধ প্রবাহিত করা যায় এবং এ সকল ঝিল্লির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার যোগ্যতার উপর নির্ভর করে এবং একটি ওষুধের চর্বি দ্রাব্যতা নির্ধারিত হয় সাধারণত ওষুধের অণুর মধ্যে নন-পোলার গ্রুপের উপস্থিতির ওপর এবং পাশাপাশি যেগুলো আয়নিক অবস্থায় ভেঙ্গে যায় এবং pH দ্বারা প্রভাবিত হয় তার উপর।
তাহলে এ পর্যন্ত আমরা যে ধারণা পেলাম, তা হচ্ছে-
১. সেমিসলিড (semisolid) প্রিপারেশন্সসমূহের মধ্যে যেমন, মলম (ointments), ক্রীম (cream), জেল (gel) ইত্যাদি শরীরে প্রয়োগ করলেই তা শরীরের শোষিত হবে না। কেননা কোল্ড ক্রীম, ভেনিশিং ক্রীম এগুলোও স্থানীয়ভাবে ব্যবহৃত হয় এবং সেমিসলিড (semisolid) প্রিপারেশন।
২. রক্তে শোষনের জন্য প্রয়োজন জায়গা নির্বাচন করা যেমন রেকটাল টিস্যূ (recral tissue), বাক্কাল টিস্যূ (buccal tissue) ইত্যাদি।
৩. ওষুধের গুণাগুণের উপর। অর্থাৎ ত্বকে তৈলাসক্ত (lipophilic) ওষুধ প্রয়োগ করলে বেশী মাত্রায় শোষিত হয়। কেননা জৈবিক ঝিল্লি দিয়ে সহজেই প্রবেশ করে। সাধারণ ত্বকের মধ্য দিয়েও প্রবেশ করতে পারে, তবে সে সম্পর্কে বলা হয়েছে-
“Since skin on various portions of the body has been shown to have different permeability characteristics for a given drug, selection of a site of application is important. The rate of penetration depends on diffusion of drug in the vehicle to the skin surface, surface pH considerations and diffusion through the stratum corneum and supportive tissues, sweat glands, sebaceous glands or aqueous channels.”
অর্থাৎ যেহেতু একটি প্রয়োগকৃত ওষুধের শরীরের ত্বকের বিভিন্ন স্থানে অনুপ্রবেশের যোগ্যতা রাখে, সেহেতু ওষুধ প্রয়োগের জায়গা নির্বাচন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কি মাত্রায় ত্বকে প্রবেশ করবে, তা নির্ভর করে ত্বকে ওষুধের প্রবেশের যোগ্যতার উপর, ত্বকের pH -এর উপর এবং ষ্ট্রেটাম করনিয়াম এবং সহায়ক কলা (supportive tissue)-এর উপর। ওষুধ লোমকুপ দ্বারা, ঘামের রন্ধ্র দ্বারা, সিবসিয়াস গ্রন্থি দ্বারা প্রবেশ করতে পারে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ছদক্বাতুল ফিতর উনার অকাট্য দলীল (১)
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি আদেশ মুবারক করেছেন-
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আকরামুল আউওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন খুলুকুন ‘আযীম উনার অধিকারী (৪)
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৪)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যে নিজে পর্দা করে না ও অধীনস্থদের পর্দা করায় না সে দাইয়ূছ
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (৮)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মসজিদে ইবাদত করতে বাধা দেয়া বা মসজিদ উচ্ছেদ করা কুফরী
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












