ইতিহাস
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৪)
, ২৩ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৪ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২৯ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) ইতিহাস
নিরাপত্তা বিভাগ ইসলামী সালতানাতের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হিসেবে গণ্য করা হয়। নিরাপত্তা প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব হলো- সকল পর্যায়ে শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা। আর এ কাজের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিবর্গ হবেন এমন সুশৃঙ্খল বাহিনী, যারা ব্যক্তি ও সমাজের যাবতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
মুসলমান সালতানাতগুলোর বেশিরভাগ অঞ্চলেই নিরাপত্তা প্রধানের উপস্থিতি ছিলো। অঞ্চলভেদে উনাদের ভিন্ন ভিন্ন নামে ডাকা হতো। আফ্রিকায় নিরাপত্তা প্রধানকে বলা হতো হাকিম। মামলুক সালতানাতের শাসনামলে বলা হতো ওয়ালি। আর মিশরে এই পদটি ছিলো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। সেখানে নিরাপত্তা প্রধান ছিলেন উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি। গভর্নরের অনুপস্থিতিতে তিনিই নামাযের ইমামতি করতেন। দান-ছদকা ও সালতানাতের অনুদান বিতরণসহ অনেক কাজ তিনিই সম্পাদন করতেন।
মিশরের নিরাপত্তা বিভাগের কার্যালয় ছিলো জামে আল আসকার নামক এক মসজিদের পাশেই। মিশরে পুলিশ প্রধানের পদকে বলা হতো শরতহুল আলিয়া। সেখানে এই রীতি প্রচলিত ছিলো যে, নিরাপত্তা প্রধান প্রতিনিধিদের থেকে নিত্যদিনের সংবাদপ্রবাহ জানতেন। সালতানাতে কেউ ইন্তেকাল করেছেন কিনা, বড় কোনো আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে কিনা সে সম্পর্কে প্রতিনিধিগণ নিরাপত্তা প্রধানকে অবহিত করতেন। এরপর সুন্দরভাবে প্রতিবেদন তৈরি করে প্রতিদিন সকালে সুলতানের কাছে পৌঁছানো হতো আর তিনি অবগত হতেন।
শুধু তাই নয়, নিরাপত্তা প্রধানগণ সে আমলে কোমরের দিকে বিশেষ এক ধরনের লম্বা তরবারি বহন করতেন। বিশেষ এই তরবারির নাম ছিলো ‘তাবারযিন’।
অপরদিকে আল আন্দালুসিয়ার ইসলামী সালতানাতে নিরাপত্তা প্রধানের দুটি পৃথক বিভাগ ছিলো। একটি বিভাগকে বলা হতো ‘শরতহুল কুবরা’। সুলতানের নিকটস্থ লোক, দরবারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, নেককার-পরহেজগার লোক উনাদের আইনি অধিকারের বিষয়টি দেখাশোনার দায়িত্ব ছিলো এই বিভাগের। এই বিভাগের পক্ষ থেকে দরবারের প্রধান ফটকে একটি আসন থাকতো। শুধু উযিল বা হাজিবদেরই দরবারকক্ষে ঢুকতে দেয়া হতো। কোনো সন্দেহ নেই এ ধরণের পৃথক বিভাগ গঠন প্রমাণ করে যে, ইসলামী সভ্যতা সবসময় শরীয়ত এবং ন্যায়বিচারকে যথাযথ মর্যাদা দান করতে সক্ষম হয়েছে। এতে কে গরীব, কে ধনী, কে শাসক আর কে আম মুসলমান তা পৃথক করে দেখা হয়নি।
আর দ্বিতীয় বিভাগকে বলা হতো শরতহুল ছোগরা। এই বিভাগটি ছিলো সাধারণ মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উনাদের মাঝে আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার দায়িত্বে। আন্দালুসে নিরাপত্তা প্রধানের উপাধি ছিলো সাহিবুল মাদিনা।
উল্লেখ্য, সম্মানিত ইসলামী সভ্যতা একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ গঠনমূলক সভ্যতা। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুসলমান সালতানাগুলোতে যে নিরাপত্তা প্রধানের পদ ছিলো তা অন্যান্য সকল গোষ্ঠীগুলো থেকে আলাদা ও সমৃদ্ধশীল ছিলো। এমনকি অমুসলমানরাও মুসলমানদের এই বিচারব্যবস্থা থেকে কায়দা-কানুন চুরি করে বর্তমানে নিজেদের নামে তা চালিয়ে দিচ্ছে। নিজেদের প্রবর্তক দাবি করছে। নাউযুবিল্লাহ! (সমাপ্ত)
-মুহম্মদ শাহজালাল।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি অনন্য খুছুছিয়ত মুবারক আর বাবুল ইলমী শানে মহীয়ান
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (৪র্থ পর্ব)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (১৪)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (৩য় পর্ব)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ফরাসী সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে হযরত শায়েখ সাইয়্যিদ আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং নববী মুহব্বতের দৃষ্টান্ত
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ: অভিশপ্ত ইহুদী মনস্তত্ব বিশ্লেষণ
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
যখন চট্টগ্রামের বন্দর থেকে শুরু হতো হজযাত্রা (৩)
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উসমানীয় সালতানাতে যেভাবে পবিত্র কুরবানীর ঈদ বিশেষভাবে উদযাপন করা হতো
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কুরবানীবিরোধী ও মুসলিম বিদ্বেষী জালিম শাসক গৌরগোবিন্দের করুণ পরিণতি
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
যখন চট্টগ্রামের বন্দর থেকে শুরু হতো হজযাত্রা (২)
২১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (২য় পর্ব)
২১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (৫ম পর্ব)
১৭ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












