ইতিহাস
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (২)
, ০২ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৪ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০৮ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) ইতিহাস
নিরাপত্তা বিভাগ ইসলামী সালতানাতের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হিসেবে গণ্য করা হয়। নিরাপত্তা প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব হলো- সকল পর্যায়ে শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা। আর এ কাজের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিবর্গ হবেন এমন সুশৃঙ্খল বাহিনী, যারা ব্যক্তি ও সমাজের যাবতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
.........................
উমাইয়া এবং আব্বাসীয় শাসনামলে নিরাপত্তা প্রধানের দায়িত্ব ও ক্ষমতা সম্প্রসারিত হয়। এদিকে ইঙ্গিত করেই ইবনে খালদুন বলেছেন, বাগদাদের আব্বাসীয় শাসনামলে, আল আন্দালুসে উমাইয়া শাসনামলে এবং মিশর ও মরক্কোয় মুসলমান শাসনের সময় অপরাধ তদন্ত করা এবং দ- প্রয়োগ করা, এগুলো ছিলো দ্বীনি অন্যান্য কর্তব্যের পাশাপাশি একটি শরঈ দায়িত্ব। ধীরে ধীরে এ দায়িত্বগুলো সম্প্রসারিত হয়। ফলে অপবাদ আরোপের মামলাও সেখানে স্থান পায়। অপরাধ প্রমাণিত হলে তা যথাযথভাবে কার্যকর করা হতো।
কোনো আসামী অপরাধ থেকে বিরত না হলে তাকে সাবধান করা বা সৎ পথে আনার চেষ্টাও করা হতো। আর এভাবেই হযরত খোলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের সময় থেকে নিয়ে উমাইয়া শাসনের সূচনা পর্যন্ত নিরাপত্তা প্রধানের উপর সালতানাতের অধ্যাদেশ কার্যকরের যে দায়িত্ব ছিলো তা সমৃদ্ধ হতে হতে একপর্যায়ে অপরাধ তদন্ত করা এবং দন্ড কার্যকর করা পর্যন্ত পৌঁছায়। এ কারণেই অপরাধীদের আবদ্ধ রাখতে এবং দুর্বৃত্ত ও বিদ্রোহীদের শায়েস্তা করতে কারাগার নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় ইসলামী সালতানাতগুলো। বাইতুল মালের অর্থায়নে এসব কারাগার নির্মিত হয়।
সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের অনিষ্ট হতে জনগণকে নিরাপদ রাখতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। শুধু তাই নয়, কারাবন্দিদের যাবতীয় খরচ ও দেখাশোনার সকল ব্যয় বহন করা হতো মুসলমান সালতানাতের পক্ষ থেকে। এমনকি আসামিদের জন্য পোশাক সরবরাহ করতে আব্বাসীয় শাসক হারুনুর রশিদের কাজি আব্দু ইউসুফ অনুরোধ করেন। গরমে আরামদায়ক সুতি কাপড়ের পোশাক এবং শীতে পশমের মোটা পোশাক। কারণ কারাদ- কার্যকরের পাশাপাশি বন্দিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাও ইসলামী সালতানাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আব্বাসীয় শাসকরা নিরাপত্তা প্রধান পদে সবসময় জ্ঞানী, পরহেজগার ও দন্ড কার্যকরে কোনো ভয় ও হুমকি-ধমকি প্রশ্রয় না দেয়া ব্যক্তিদের প্রাধান্য দিতেন।
তাবসিরাতুল হুক্কাম গ্রন্থে বর্ণিত আছে, বিখ্যাত নিরাপত্তা প্রধান ইবরাহিম ইবনে হুসাইন ইবনে খালিদ একবার মিথ্যা সাক্ষ্যদাতা এক আসামীকে সালতানাতের দরবার কক্ষের পশ্চিম পাশের মধ্যবর্তী ফটকের সামনে দাড় করিয়ে চল্লিশটি চাবুক মারেন এবং ঘোষণা দেন, এই হচ্ছে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার শাস্তি। এই নিরাপত্তা প্রধান ছিলেন একজন ন্যায়বান, সৎ, জ্ঞানী, বিদ্বান ব্যক্তি। ছিলেন ফকিহ ও তাফসির বিষয়ক আলেম। ষষ্ঠ আব্বাসীয় শাসক আল আমিন মুহম্মদের আমলে তিনি নিরাপত্তা মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ইমাম হযরত মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উস্তাদ হযরত মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সমসাময়িক ছিলেন। আব্বাসীয় শাসনামলে অনেক সেনানায়ক যুদ্ধক্ষেত্রে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। তেমনই একজন হলেন সেনাপতি আব্দুল্লাহ ইবনে তাহের ইবনে হুসাইন। যুদ্ধাভিযান পরিচালনা এবং তাতে অসামান্য বিজয় অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ উনাকে সালতানাতের রাজধানী বাগদাদের নিরাপত্তা মহাপরিচালকের দায়িত্ব প্রদান করে আব্বাসীয় শাসক মামুন।
অপরদিকে, যেসব নিরাপত্তা প্রধান সীমালঙ্ঘন করেছে, মুসলমান জনসাধারণের সাথে অবিচার করেছে, মাত্রাতিরিক্ত দ- প্রয়োগ করেছে, প্রমাণ ছাড়া ধরপাকড় করেছে, তাদের পদচ্যুত করতে বিন্দুমাত্র দেরি করা হয়নি। যেমন- চারিত্রিক অবনতি ও অবিচারে জড়িত থাকার অভিযোগে বাগদাদের নিরাপত্তা প্রধান মুহম্মদ ইবনে ইয়াকুতকে পদচ্যুত করে সকল দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যাহতি দেন আব্বাসীয় শাসক মুকতাদির বিল্লাহ। (অসমাপ্ত)
-মুহম্মদ শাহজালাল।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (১৪)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (৩য় পর্ব)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ফরাসী সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে হযরত শায়েখ সাইয়্যিদ আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং নববী মুহব্বতের দৃষ্টান্ত
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ: অভিশপ্ত ইহুদী মনস্তত্ব বিশ্লেষণ
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
যখন চট্টগ্রামের বন্দর থেকে শুরু হতো হজযাত্রা (৩)
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উসমানীয় সালতানাতে যেভাবে পবিত্র কুরবানীর ঈদ বিশেষভাবে উদযাপন করা হতো
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কুরবানীবিরোধী ও মুসলিম বিদ্বেষী জালিম শাসক গৌরগোবিন্দের করুণ পরিণতি
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
যখন চট্টগ্রামের বন্দর থেকে শুরু হতো হজযাত্রা (২)
২১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (২য় পর্ব)
২১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (৫ম পর্ব)
১৭ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
উসমানীয় শাসনের প্রতি ভারতের মুসলমানদের আত্মত্যাগ এবং সিঙ্গাপুর গণহত্যার করুণ ইতিহাস
১৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
‘গরুর গোস্তে রোগ আছে’ এই সংক্রান্ত বাতিল হাদীছ ও তার খন্ডনমূলক জবাব
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












