ইতিহাস
সম্মানিত ইসলামী সভ্যতা উনার অনন্য বিচারিক ব্যবস্থা ‘আল হিসবাহ’ উনার ইতিকথা (৪)
, ১৩ই রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৭ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৬ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ২২ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) ইতিহাস
সমাজ থেকে সকল অবিচার, অনাচার, অপরাধ দূর করে মুসলমানদের মধ্যে নৈতিকতার প্রচার প্রসারের জন্যই সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার সময়ে তৈরী করা হয়েছিলো একটি বিচারিক ব্যবস্থা। যার নাম হলো ‘আল হিসবাহ’। আল হিসবাহ’র দায়িত্বশীলগণকে বলা হতো মুহতাসিব।
মুসলমানদের জন্য কল্যাণকর সকল প্রকার উদ্যোগ গ্রহণে সচেষ্ট ছিলেন মুহতাসিবগণ। এ ব্যাপারে অনেক রচনা ও পুস্তকও সংকলন করা হয়েছে। এর চেয়েও আকর্ষণীয় বিষয় হলো, কিছু সূক্ষ্ম বিষয়, যেগুলো সাধারণত কারও চোখে পড়ে না, কেউ গুরুত্ব দেয় না সেসব বিষয়কেও মুহতাসিবগণ গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়েছেন। যার মাধ্যমে আমাদের এই চিরন্তন সভ্যতার উন্নতি ও উৎকর্ষের দিকটি ফুটে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় ইতিহাসবিদ জিয়াউদ্দিন ইবনুল ইখওয়া একজন মুহতাসিব যেসব নিয়ম ও বিধান সমাজে প্রয়োগ করবেন সে বিষয়ে একটি সাধারণ নির্দেশনা প্রদান করেন। ইতিপূর্বে এরকম দিক নির্দেশনা অন্য কারও লেখায় পাওয়া যায়নি।
খাদ্যসামগ্রী ও রুটি প্রস্তুতকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারি করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, মুহতাসিব নির্দেশ দেবেন তারা যেন চুলার উপরে ছাদ খোলা রাখে। যাতে ধোঁয়া বের হওয়ার পর্যাপ্ত জায়গা থাকে। প্রতিবার রুটি তৈরির আগে রান্নাঘর ঝাড়– দেবে এবং পরিস্কার রাখবে। আটা বা ময়দা মাখার পাত্রটি প্রতিবার ধৌত করবে এবং সবসময় পরিচ্ছন্ন রাখবে। সেজন্য খেজুর গাছের পাতা দিয়ে তৈরি একপ্রকার ছোট চাটাই ব্যবহার করবে, তার মাঝে প্রতিটি খামির মাখার পাত্রের জন্য স্থাপিত থাকবে দুটি শক্ত কাঠ। পায়ের সাহায্যে বা হাটু মাড়িয়ে বা কনুই দিয়ে কেউ যেন খামির তৈরি না করে। কারণ এতে খাদ্যদ্রব্যের অপমান হয়। এরকম করলে কালের নিচের বা শরীরের যেকোনো জায়গা থেকে সেখানে ঘাম না পড়তে পারে। খামির তৈরির সময় যেন আস্তিন ছাড়া জামা ব্যবহার করে। যাতে আস্তিন খুলে গিয়ে খামিরা স্পর্শ না করে। আর খামিরা যেন আবৃত থাকে। কেউ হাচি দিলে বা কথা বললে নাক বা মুখের ময়লা বা থুথু গিয়ে যেন সেখানে না পড়ে। আর খামির তৈরির সময় অবশ্যই মাথায় সাদা কাপড় বেধে নেবে, যেন মাথার ঘাম খামিরে না পড়ে।
প্রসঙ্গত, একেবারে সূচনা লগ্ন থেকেই ইসলামী সভ্যতা সকল পেশার মানুষের উপর নজরদারি অব্যাহত রেখে মুসলমানদের কল্যাণ নিশ্চিত করেছেন। যার মাধ্যমে পরিষ্কার হয়ে ওঠে যে, এই সভ্যতা জনকল্যাণ ও মানবাধিকার রক্ষা করেছে। জনগণের সুখ ও শান্তির জন্য সকল উপকরণ নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, ইবনুল ইখওয়ার দেওয়া এসব জোরালো নির্দেশনা হালের অনেক মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ট রাষ্ট্রের জন সেবাতেও খুঁজে পাওয়া যায় না। বরং আজকের মুসলমান উম্মাহ পরিচ্ছন্নতার ও শিষ্টাচারের সকল কায়দা-কানুন গ্রহণ করছে ইউরোপীয় কৃষ্টি ও পশ্চিমা সভ্যতা থেকে। যারা কিছুকাল আগেও গোসল করতে জানতো না। শরীর পরিস্কার রাখতে জানতো না। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতাকে পাপ মনে করতো।
মরক্কো ও স্পেনেও মুসলমান শাসনের সূচনাসময় থেকে মুহতাসিবের পদ বিদ্যমান ছিলো। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সেখানকার মুহতাসিবগণ শিশুদের সাহায্যে ধোঁকাবাজ ব্যবসায়ীদের খুঁজে বের করতেন। যেমন- একজন ব্যবসায়ীর কাছে একজন শিশুকে পাঠাতেন কিছু পণ্য কেনার জন্য। এরপর পরীক্ষা করতেন সেই পণ্যের মাপ ও ওজন যথাযথ কিনা। এভাবেই অন্য মানুষের সঙ্গে তার বিশ্বস্ততা ও লেনদেনের বিষয়টি অনুমান করে নিতেন। হেরফের হলে কঠোর শাস্তি প্রয়োগ করতেন। একাধিকবার প্রতারণার বিষয়টি প্রমাণিত হলে এবং বার বার প্রহার ও বাজারে লোকদের সামনে শাস্তি দেয়ার পরও সে সংশোধিত না হলে তাকে শহর থেকে বিতাড়িত করতেন। (সমাপ্ত)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলিম নির্যাতনের প্রতিশোধ হিসেবে বাংলার সুলতান যেভাবে নেপাল বিজয় করেছিলেন
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আধুনিক কাগজ শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা মুসলমানগণই
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মাদরাসা প্রতিষ্ঠা নিয়ে ইতিহাসের আলোকে কিছু সংক্ষিপ্ত তথ্য
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
তাতারস্তানে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম এবং মুসলমানদের স্বর্ণালী ইতিহাস
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিধর্মীরা যতটুকু সভ্যতা পেয়েছে তা মুসলিম শাসনামলেই আর বর্বরোচিত প্রথাসমূহ বন্ধ করেছিলেন মুসলিম শাসকরাই
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৪)
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিখ্যাত মুসলিম পর্যটক ইবনে বতুতার বর্ণনায় বাংলাদেশ
০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
উপমহাদেশে ব্রিটিশবিরোধী সুফি, ফকীর-দরবেশ বিদ্রোহের ইতিকথা
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (২)
৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (২)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৩)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (১)
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












