মন্তব্য কলাম
সমতলে প্রতি বিঘা জমিতে ভুট্টা হয় ২৫ থেকে ৩০ মন। চরাঞ্চলে উৎপন্ন হয় ৩৫ থেকে ৪০ মন। প্রতি বিঘা জমির ভুট্টা বিক্রি করে কৃষক পান ৩০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা। বর্তমানে দেশের ফিড খাতের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকায়। দেশে ভুট্টার বাজার মূলতঃ প্রাণিখাদ্য বা ফিডশিল্প ঘিরেই গড়ে উঠেছে।
, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মন্তব্য কলাম
বিশ্বে ভুট্টা চাষের সর্বোচ্চ ফলন পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ হতে পারে প্রথম।
পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা করলে দেশে ৭৫ লাখ হেক্টরের চেয়ে বেশি জমিতে ভুট্টা আবাদ সম্ভব।
সম্ভব দেশীয় চাহিদার ১৬ লাখ ভোজ্যতেলের পুরোটাই ভুট্টা থেকে উৎপাদন।
৬০ হাজার কোটি টাকার ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণের পর বিদেশে রপ্তানী করে আরো সমৃদ্ধি আনার জন্য ভুট্টা চাষে সর্বাত্মক পৃষ্ঠপোষকতা করতে সরকারের সক্রিয়তা ছিল একান্তভাবে কাম্য।
কিন্তু মার্কিনী এজেন্টরা এদেশের পাকা ভুট্টার ক্ষেতে মই দিতে চায়।
তারা ভুট্টা চাষ বাধাগ্রস্থ করতে চায়।
নীলকরদের মত ভুট্টা চাষ বাদ দিয়ে উদ্যোক্তার নামে ক্ষুদ্র ঋণের ফাঁদে জর্জরিত করতে চায়।
দেশে দুর্ভিক্ষ আনতে চায়। দেশে গৃহযুদ্ধ লাগাতে চায়।
দেশকে সিরিয়া, লিবিয়া, ইরাক বানাতে চায়।
ঈমানদার মুসলমান সব বেঈমানদের হাত থেকে বাঁচতে চায়।
ভুট্টা এখন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে। দিন দিন এই ফসলের চাষ বাড়ছে এবং এর উৎপাদনেও এসেছে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে প্রায় ৫ লাখ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছিল এবং উৎপাদন হয়েছিল ৪৭ লাখ টনের মতো। সেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এসে ভুট্টার আবাদি জমি ২৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪২ হাজার হেক্টরে, আর উৎপাদন পৌঁছেছে ৬৮ লাখ ৮৪ হাজার টনে। এসব সরকারী হিসেবে প্রকৃত হিসেব আরো বেশী।
সরকার ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৬ লাখ ৫১ হাজার হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭১ লাখ ৬০ হাজার টন। দেশে এখন বছরে ভুট্টার চাহিদা ৭০ থেকে ৭৫ লাখ টনের মতো, যার একটি বড় অংশ ব্যবহৃত হয় পোলট্রি, গবাদিপশু ও মাছের খাদ্য তৈরিতে। ফলে ভুট্টা খাদ্য নিরাপত্তা এবং প্রাণিখাদ্য শিল্প এই দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ভুট্টা চাষ বাড়ার মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে এর লাভজনকতা, সহজ চাষপদ্ধতি এবং উচ্চ ফলনশীলতা। ধানের তুলনায় ভুট্টা চাষে পানির প্রয়োজন কম, পরিচর্যা সহজ, আর ফলনও বেশি। সেই সঙ্গে দেশে পোলট্রি ও পশুপালন শিল্পের ক্রমবর্ধমান চাহিদা কৃষকদের ভুট্টা চাষে আরও আগ্রহী করে তুলেছে।
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গত এক দশকে দেশে ভুট্টার উৎপাদন দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে যেখানে উৎপাদন ছিল ২৭ লাখ ৫৯ হাজার টন, সেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ লাখ ৮৪ হাজার টনে। এমনকি ২০২০-২১ অর্থবছরেও উৎপাদন ছিল ৫৬ লাখ ২৭ হাজার টন। তবে চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে উৎপাদন কিছুটা কমে ৬৬ লাখ টনের আশেপাশে দাঁড়িয়েছে।
উৎপাদনের পাশাপাশি আবাদি জমির পরিমাণও ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে যেখানে ভুট্টার আবাদ হতো ২ দশমিক ৮৩ লাখ হেক্টরে, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৭৮ লাখ হেক্টরে।
ভুট্টার আমদানির দিকেও নজর দিলে ইতিবাচক পরিবর্তন চোখে পড়ে। এক সময় আমদানির উপর অনেকটাই নির্ভর করতে হতো। ২০২০-২১ অর্থবছরে আমদানি ছিল ২১ লাখ ১৪ হাজার টন। অথচ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে হয়েছে সাড়ে ৪ লাখ টনের মতো।
দেশে ভুট্টার বাজার মূলতঃ প্রাণিখাদ্য বা ফিডশিল্প ঘিরেই গড়ে উঠেছে। গত দেড় দশকে দেশে পোলট্রি ও পশুপালন শিল্পে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। ফিড কারখানাগুলো খামারিদের বাকিতে খাদ্য সরবরাহ করে এই শিল্পকে প্রসারিত করতে সাহায্য করছে। বর্তমানে দেশের ফিড খাতের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকায়। সব মিলিয়ে বলা যায়, ভুট্টা এখন শুধু একটি ফসল নয় বরং এটি দেশের কৃষি, শিল্প ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।
ভুট্টা চাষ এখন বাংলাদেশের কৃষকদের জন্য একটি লাভজনক ও টেকসই কৃষি উদ্যোগ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে। ধান বা গমের তুলনায় ভুট্টার গড় ফলন অনেক বেশি। বর্তমানে প্রতি হেক্টরে ভুট্টার গড় ফলন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ থেকে ১২ টন, যা অন্যান্য খাদ্যশস্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তবে ভালো ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই ফলন আরও বাড়ানো সম্ভব। শুধু ফলনেই নয়, উৎপাদন ব্যয় এবং আয়ের তুলনাতেও ভুট্টা চাষ অধিক সুবিধাজনক।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে, ভুট্টা চাষে আয় ও বিনিয়োগের অনুপাত বা বেনিফিট-কস্ট রেশিও (ইঈজ) এখন প্রায় ১ দশমিক ২৯। যা প্রমাণ করে যে, এটি কৃষকদের জন্য অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত লাভজনক। একর প্রতি আয়ের হার উৎপাদন খরচের তুলনায় বেশি হওয়ায় কৃষকেরা আগের চেয়ে বেশি মুনাফা পাচ্ছে।
সমতলে প্রতি বিঘা জমিতে ভুট্টা হয় ২৫ থেকে ৩০ মন। চরাঞ্চলে উৎপন্ন হয় ৩৫ থেকে ৪০ মন। প্রতি বিঘায় ভুট্টা উৎপাদনে খরচ হয় ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা জমির ভুট্টা বিক্রি করে কৃষক পায় ৩০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা।
ভুট্টার চাষে শ্রম ও সময়ের প্রয়োজনও কম। এটি একটি স্বল্পকালীন ফসল, ফলে কৃষকরা একই বছরে একাধিক ফসল ঘুরিয়ে নিতে পারে। একই জমিতে ধান, আলু বা সরিষা ফসলের সঙ্গে ঘুরিয়ে ভুট্টা চাষ করা যায়, যা জমির উর্বরতা রক্ষায় সাহায্য করে এবং ফসলের বৈচিত্র্য আনে।
এটির আরেকটি বড় দিক হলো এর বহুমুখী ব্যবহার। শুধু পশুখাদ্য নয়, এটি থেকে স্টার্চ, ভুট্টার তেল, সিরাপ, পানীয়, বিস্কুট, সুজি, নুডলসসহ নানা ধরনের খাদ্যপণ্য তৈরি হয়। শিল্প খাতেও এর ব্যবহার বাড়ছে যেমন: বায়োফুয়েল, কাগজ, প্লাস্টিক, ওষুধ ও রঙ তৈরির কাজে।
ভুট্টা উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে এর আমদানি নির্ভরতা কমে এসেছে, যা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখছে। একদিকে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে, অন্যদিকে দেশীয় শিল্পের কাঁচামাল ঘাটতি পূরণ হচ্ছে। সবদিক বিবেচনায় বলা যায়, বর্তমান কৃষি ব্যবস্থায় ভুট্টা চাষ একটি কার্যকর ও লাভজনক সিদ্ধান্ত। কৃষক, ব্যবসায়ী ও শিল্প-তিন পক্ষেরই লাভ নিশ্চিত হচ্ছে এই ফসলে। যথাযথ সরকারি সহায়তা, মানসম্পন্ন বীজ সরবরাহ এবং বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটলে ভুট্টা বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।
কৃষকেরা এখন ভুট্টা উৎপাদনকে ব্যবসা হিসেবে দেখছে। তাই উত্তরাঞ্চলে গমের জমিতে ভুট্টা চাষ বাড়ছে। দেশে আমদানি করা উচ্চফলনশীল ভুট্টার জাতগুলো বেশি জনপ্রিয়। আমাদের নিজস্ব দুটি জাত থাকলেও সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা যথেষ্ট বীজ সরবরাহ করতে পারছি না।
আবদুল্লাহ আল মামুন, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, গবেষণা বিভাগ, বিডব্লিউএমআরআই।
এ খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, নগদ অর্থে বাজার থেকে শতভাগ ভুট্টা কিনে নিচ্ছে ফিড কারখানাগুলো। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে এখন নিবন্ধিত ফিড মিল বা প্রাণিখাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৩০০। এ খাতের সংগঠন ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি বলেন, ‘আমরা এখন শতভাগ ভুট্টা নগদ টাকায় কিনে নিচ্ছি।
মূলত ধান, সবজি ও মাছের মতো বাংলাদেশে ভুট্টা উৎপাদনে ঘটেছে এক নীরব বিপ্লব।
দেশে প্রাণিখাদ্যের বাজার বছরে ১৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। মাছ, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগির উৎপাদন বাড়ায় ভুট্টার চাহিদাও বাড়ছে। প্রাণিখাদ্য তৈরির বড় অংশই আসে ভুট্টা থেকে। এর মধ্যে মুরগির খাদ্য তৈরিতে ৫৫ শতাংশ ভুট্টার দরকার হয়। এ হার গবাদি পশুর খাদ্যে ৩০ শতাংশ এবং মাছের ক্ষেত্রে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ। এ তিন খাতে বছরে ৫০ থেকে ৫৫ লাখ টন ভুট্টার চাহিদা রয়েছে।
বিদেশেও ভুট্টা রফতানির সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। গত অর্থবছরে নেপালে ১ কোটি ৭২ লাখ ডলার বা ১৪৬ কোটি টাকা মূল্যের ভুট্টা রফতানি হয়েছে বাংলাদেশ থেকে। ভুট্টা রফতানির জন্য আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং কৌশলসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে হয়। এসব কর্মকান্ড সঠিকভাবে করা সম্ভব হলে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের ভুট্টার চাহিদা ও রফতানি বাড়বে। কৃষকও পণ্যটির ন্যায্যমূল্য পেয়ে লাভবান হবেন।
গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্যে জানা যায়, উন্নত বিশ্বে ভুট্টা থেকে স্টার্চ, ইথানল, জৈব জ্বালানি, তেল উৎপাদনসহ রয়েছে আরও বহুমুখী ব্যবহার। বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় ৫২টি দেশে ভুট্টা থেকে উৎকৃষ্ট মানের ভোজ্যতেল উৎপাদিত ও ব্যবহৃত হয়। ভুট্টার তেল স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিসমৃদ্ধ। এতে কোনো আমিষ বা শর্করা নেই, শতকরা ১০০ ভাগই চর্বি বিদ্যমান যার পুষ্টিমান অন্যান্য তেলের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি।
জানা গেছে, ভুট্টা তেলে বিদ্যমান সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড ও অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলের সমপরিমাণ। ভুট্টা তেলে ভিটামিন ই (টোকোফেরল)-এর পরিমাণ সূর্যমুখী তেলের চেয়ে বেশি। বিশেষত ভুট্টার তেলে ভিটামিন কে (১.৯ মাইক্রো গ্রাম) রয়েছে যেখানে সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলে তা অনুপস্থিত।
সরকারী হিসেবে, ভুট্টার উৎপাদন ক্রমশ বাড়ছে। বর্তমানে দেশে ভুট্টা চাষের মোট আবাদি জমি প্রায় ৬ লাখ হেক্টর। কিন্তু দৈনিক আল ইহসানের গবেষণা মতে দেশে ভুট্টা চাষের মোট আবাদী জমি খুব সহজেই ৭৫ লাখ হেক্টর জমিতে উন্নীত করা সম্ভব। ইনশাআল্লাহ!
বর্তমানে বছরে দেশে উৎপাদিত প্রায় ৭০ লাখ টন ভুট্টা থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন ভুট্টার তেল আহরণ করা সম্ভব। যার বাজার মূল্য প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। সে হিসেবে ৭৫ লাখ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ থেকেই দেশের প্রয়োজনীয় ১৬ লাখ ভোজ্য তেল উৎপাদন সম্ভব। ইনশাআল্লাহ! যার মূল্যমান ৬০ হাজার কোটি টাকা।
সঙ্গতকারণেই সরকারের জন্য উচিত ছিলো- ভুট্টা চাষের আধুনিক প্রযুক্তি, পোকামাকড় ও রোগবালাই দমন, ফসল সংগ্রহ ও সংরক্ষণের উপর আরও বেশি করে কৃষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। বিশেষ করে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাতের বীজ ব্যবহারে কৃষকদের সহায়তায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন ও বেসরকারি বীজ বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে জোরালো ভূমিকা রাখা। দেশের ভুট্টা উৎপাদন এলাকাগুলোতে ভুট্টা থেকে তেল, স্টার্চ, প্রাণিখাদ্য ও মাছের খাবার তৈরির প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে তোলা। উৎপাদন মৌসুমে বিদেশ থেকে ভুট্টা আমদানি বন্ধ রেখে কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা। দেশের চরাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকার পতিত জমিতে ভুট্টা চাষ সম্প্রসারণ করা। আর এতে করে দেশের প্রয়োজনীয় ৬০ হাজার কোটি টাকার ভুট্টার তেলই নয় বরং লাখ লাখ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে যুক্ত হতো। ইনশাআল্লাহ!
কিন্তু তা না করে মার্কিনীদের এজেন্ট তাবেদার অন্তর্বর্তী সরকার পাকা ধানে মই দেয়ার মতই পাকা ভুট্টায় মই দেয়া শুরু করেছে
দেশের কৃষক ও কৃষি যদি সমৃদ্ধ হয়
তাহলে তাদের ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবসা চলবে না।
দেশে কৃষক ও কৃষি যদি সমৃদ্ধ হয়
তাহলে দেশে দুর্ভিক্ষ আনা যাবে না। দুর্ভিক্ষ না আনলে
মার্কিনী এজেন্ডা সহজে বাস্তবায়ন হবে না।
তাই মার্কিন তাবেদার সরকার
বার বার চাইছে
বিভিন্ন ভাবে চাইছে
নানা ষড়যন্ত্র করছে
দুর্ভিক্ষ আনার।
দেশের সমৃদ্ধি কৃষকের হাসি
তাদের ভালো লাগে না।
ভুট্টায় কৃষক ও দেশের ভাগ্যবদল
তাদের সহ্য হয় না।
তাই ভুট্টার উপর আঘাত।
সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সংশ্লিষ্টরা বলেছে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে এ বছর থেকে ভুট্টাচাষে প্রণোদনা বন্ধ করে দিতে বলা হয়েছে।
কৃষককে ভুট্টাচাষে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের চর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক জানায়, গত বছর প্রায় ১৪ হাজার বিঘায় ভুট্টা চাষের প্রদর্শনী ছিল তাদের। চলতি বছর ভুট্টায় কোনো প্রদর্শনী দেয়া হয়নি। ভুট্টার পরিবর্তে তার প্রকল্প থেকে এবার প্রায় দেড় হাজার বিঘায় চীনাবাদাম চাষে প্রদর্শনী ধরা হয়েছে।
জানা যায়, শুধু চর প্রকল্প নয়, ডিএইর আরো প্রকল্প থেকে ভুট্টা চাষে প্রদর্শনী দেয়া হতো। কিন্তু এবার সব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
ভুট্টা চাষে নিরুৎসাহিত কর্মসূচী মূলত তেমনই যেমনটি করেছিলো ইংরেজ নীলকররা।
দেশের সোনালী কৃষি বাদ দিয়ে নীল চাষে বাধ্য করা।
ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর নতুন বংশাবদরা
তেমনি ভুট্টা চাষ বাদ দিয়ে চাচ্ছে
কৃষি বাদ দিয়ে
কৃষকদের উদ্যোক্তার নামে ক্ষুদ্র ঋণের ফাদে জর্জরিত করা।
জনগণের উচিৎ এখনি সজাগ ও সক্রিয় হওয়া ইনশাআল্লাহ।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপনীয় বাণিজ্য চুক্তি: জনগণের অজান্তে জিএমও খাদ্য অর্থাৎ বিষ ও রোগ জীবাণু ঢোকানোর ষড়যন্ত্র
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
“সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস” ব্যক্ত করার সরকারকে অবিলম্বে কুরআন শরীফে হারাম ঘোষিত শুকরের গোশত আমদানীর বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে হবে ইনশাআল্লাহ।
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
দেশি আম বাজারে আসার আগেই শুরু হয়েছে কথিত কেমিক্যাল অপপ্রচার : দেশীয় ফলের বিরুদ্ধে বিদেশী দালাল চক্রের এই অপপ্রচার রুখতে হবে।
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘ইউনিসেফ’ এর ভয়ংকর তৎপরতা। বাংলাদেশের শিশু ও শিক্ষার্থীদের পশ্চিমা দাস বানানোর প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ইউনিসেফ। (১)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উচ্চ আদালতে ‘ডেড ল’ বা অকার্যকর ঘোষিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০’ পুণঃবহালের অপচেষ্ঠা চলছে। উচ্চ আদালত, সেনাবাহিনী এবং সরকারের উচিত দেশবিরোধী এই চক্রান্ত ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া। (৩)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
৭১ এ তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধীতার নামে। তবে তারা ২০২৬- এ আমেরিকার আধিপত্যবাদী বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় নামছে না কেন?
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মৃত আইন- “পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি-১৯০০”: অখ-তার পথে এক ঔপনিবেশিক কাঁটা
১০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার বরকতে- দেশের বুকে স্থলে, নদীতে, পাহাড়ে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে, বঙ্গোপসাগরে রয়েছে বিপুল পরিমাণ মহামূল্যবান ইউরেনিয়াম। বাংলাদেশের ইউরেনিয়াম অনেক বেশী গুণগত মান সম্পন্ন ভারতসহ দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের কারণেই তা উত্তোলন হচ্ছে না। হিন্দুস্থান টাইমস ও কুখ্যাত প্রথম আলো তথা ভারত আমেরিকার কুচক্রীরা একযোগে ষড়যন্ত্র করছে। জনগণকে জনসচেতন হতে হবে ইনশাআল্লাহ। (৩য় পর্ব)
০৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
প্রধানমন্ত্রীকে সাবধান থাকতে হবে- তার মন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের দ্বারা যেনো দেশের ভাবমর্যাদা নষ্ট না হয়! বি.এন.পি ক্ষমতায় আসলেই দেশ, সন্ত্রাসবাদের ঝুকিতে পড়ে এই ধরণের প্রচারণার জন্য তথ্য উপদেষ্টার, ‘দেশে সন্ত্রাসবাদ আছে’- এই মিথ্যা উক্তিই কী যথেষ্ট নয়?
০৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আত্মঘাতী ঋণের কঠিন শর্তের বেড়াজালে আটকে যাচ্ছে সরকার। দেশবাসী কেনো নির্বিকার?
০৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পূর্ব তিমুর কেনো মুসলমানদের হারানো ভূমি? পূর্ব তিমুরের ঘটনা কী শিক্ষা দেয়। উপজাতিরা কেনো খ্রীস্টান হয়? উপজাতিরা কেনো মুসলমান হয় না? কেনো কঠিন হয়রানির মুখোমুখি হয়। স্বাধীন জুমল্যান্ড তথা খ্রীস্টান রাজ্য বানানোর বিপরীতে ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানকে গর্জে উঠতে হবে ইনশাআল্লাহ।
০৭ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ইউনুসের দেশদ্রোহীতার বয়ান : এক সাংবাদিকের জবানবন্দি (৩)
০৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












