মন্তব্য কলাম
সংবিধান, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিরোধী আপত্তিকর শব্দ প্রকাশের বিপরীতে মহান আল্লাহ পাক উনার ‘কুদরত’ ও ‘রহমত’ এ ছিফত মুবারক দ্বয়ের ব্যাপক প্রচলন ঘটাতে হবে
, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মন্তব্য কলাম
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ১৮ (১) ধারায় বর্ণিত হয়েছে- ‘মদ্য ও অন্যান্য মাদক পানীয় এবং স্বাস্থ্যহানিকর ভেষজের ব্যবহার নিষিদ্ধ করণের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন। ’ ১৮ (২) ধারায় বর্ণিত রয়েছে পতিতাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
সংবিধানের ২৩ নং ধারায় বলা হয়েছে- ‘রাষ্ট্র জনগণের সংস্কৃতির ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার রক্ষণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন। ’ বলাবাহুল্য সংবিধানের এই তিনটি অনুচ্ছেদের একটিও বর্তমানে আদৌ কার্যকর হচ্ছে না। বরং রাষ্ট্রের প্রচ্ছন্ন পৃষ্ঠপোষকতায় মিডিয়া আজ অবলীলাক্রমে এমন সব শব্দ আওড়িয়ে যাচ্ছে, পত্রিকায় প্রকাশ করে যাচ্ছে যা ৯৮ ভাগ অধিবাসী মুসলমানের জন্য চরম-পরম ক্ষোভের। আজ রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় পত্রিকায় প্রকাশ্যে পত্রস্থ হচ্ছে ‘বিশ্বের সেরা যৌন আবেদনময়ী’, ‘যৌনকর্মী’, ‘সেলিব্রেটি’, ‘র্যাম্প মডেল’, ‘ক্যাটওয়াক’, ‘সেক্স সিম্বল’, ‘আইটেম গার্ল’ ইত্যাদি সব বিবস্ত্রপনা সম্পৃক্ত শব্দ। তার বিপরীতে ৯৮ ভাগ মুসলমানের জন্মগত ও স্বভাবজাত যে শব্দসমূহ পরিচিত ও বহুল প্রচলিত হবার কথা ছিল তার কোন ব্যবহার আজ নাই বললেই চলে। অথচ ৯৮ ভাগ মুসলমানের স্বভাবগতভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার ‘কুদরত’ ও ‘রহমত’ ছিফত এর সাথে সম্পৃক্ত হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল। বেশী বেশী উচ্চারিত হওয়ার কথা ছিল। সমাজ জীবনে সর্বত্র প্রতিফলিত হওয়ার দরকার ছিলো।
উল্লেখ্য, মহান আল্লাহ পাক উনার আটটি জাতি ছিফতের মাঝে ‘কুদরত’ অন্যতম। মহান আল্লাহ পাক উনার ইলিম এবং ‘কুদরতের’ দ্বারা তিনি সমস্ত সৃষ্টি জগতের সাথে বিরাজমান। মহান আল্লাহ পাক উনার মা’রিফাত লাভ, এবং উনার মনোনীত দ্বীন ইসলাম পালনে কুদরত সম্পর্কিত ইলিম অনিবার্য। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বিবিধ অনুষঙ্গ অনুধাবনে যেখানে সাধারণ বর্ণনার অসামঞ্জস্য দেখা দেয়, কুদরতের বিশ্বাসই সেখানে সমাধান ব্যক্ত করে। সন্দেহবাদীদের থেকে উত্থাপিত সংশয়মূলক জিজ্ঞাসা “বাঘ-কুমিরের পেটে কেউ গেলে, তার সুওয়াল-জাওয়াব হবে কি করে? প্লেন ক্র্যাশ হয়ে মারা গিয়ে ছাইয়ে পরিণত হলে অথবা মিশরের পিরামিডে শায়িত মৃতদেহের সুওয়াল-জাওয়াব হবে কি করে?”
এসব ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারকের ধারণার অবকাশই সকল জিজ্ঞাসাকে প্রশমিত করে।
উল্লেখ্য, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বার্থে, মুসলমানদের কল্যাণার্থে মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত জাহিরের ঘোষণা রয়ে গেছে। কিন্তু খোদায়ী কুদরত সম্পর্কে কার্যতঃ মুসলমানদের মাঝে কাঙ্খিত ইয়াক্বীনের ঘাটতি প্রকট। বিশেষতঃ নামধারী উলামাদের কার্যকলাপে এ শুন্যতা করুণভাবে দৃশ্যমান।
ইসলামী আন্দোলন দাবী করলেও তারা চলমান প্রবাহের গ-ীর বাইরে উঁকি দিতে পারেনি। বরং মনগড়া ব্যাখ্যার দ্বারা তারা শ্বাশত দ্বীন ইসলাম উনাকে কাঁট-ছাট করে তথাকথিত আধুনিকীকরনের প্রচেষ্টায় লিপ্ত।
তারা আজ ছবি তোলা, বেপর্দা হওয়া, মাওসেতুং-এর লংমার্চ, গান্ধীর হরতাল, ধর্ম রক্ষার জন্য খ্রিস্টানদের ব্লাসফেমী আইন ও মৌলবাদ দাবী এবং ইসলামী খিলাফতের জন্য ইহুদী-নাছারার অনুকরণে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার নামে হারাম নির্বাচন ভিত্তিক ভোট ব্যবসার রাজনীতি করছে।
বলার অপেক্ষা রাখেনা, এ সবই হচ্ছে স্পষ্টতঃ মহান আল্লাহ পাক উনার ‘কুদরতী’ ক্ষমতার প্রতি তাদের অবিশ্বাসের প্রমাণ। অথচ মহান আল্লাহ পাক উনার ‘কুদরতে’ বিশ্ব রাজনৈতিক পটেও যে অবলীলাক্রমে কী পরিবর্তন ঘটতে পারে সারা বিশ্বে কমিউনিজমের পতন তারই প্রকৃষ্ট প্রমাণ। এছাড়া এ যুগেও ছবির ভিত্তিতে পরিচালিত মিডিয়াকে ব্যবহার না করেও কুদরতীভাবে কিরূপ প্রচার-প্রসার হওয়া সম্ভব সাইয়্যিদুনা হযরত ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার কা’বা শরীফ পুনঃনির্মাণকালে জনশুন্য ময়দানে দেয়া আযানের জবাবে লক্ষ-কোটি হাজীর হজ্জে যোগদান তারই প্রমাণ। ‘পূর্ণ শরীয়তের উপর দায়িম-ক্বায়িম থাকলে মহান আল্লাহ পাক তিনি যে কুদরতী মদদ করবেন ও খাছ রহমত নাযিল করবেন’- এ আক্বীদার অভাবই আজকে বিজাতীয় পথে চলার মূল কারণ।
উল্লেখ্য, মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতী মদদ উনার প্রতিই হবে যার প্রতি রয়েছে উনার রহমত। মূলতঃ বান্দা সবচেয়ে বেশী যে জিনিসটির মুখাপেক্ষী সেটি হল আল্লাহ পাক উনার ‘রহমত’। ‘রহমত’ শব্দটি পবিত্র কুরআনে কারীমায় সরাসরি ৭৯ বার এবং বিভিন্নভাবে ২৫৮ বার এসেছে। মহান আল্লাহ পাক উনার রহ্মত নাযিলের ফলেই ফসল হয়, বৃষ্টি নামে, ঝিনুকের ভিতরে মুক্তা হয়, মানুষের ছূরত সুন্দর হয়। মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত পেলেই মানুষ হিদায়েত পায়।
আল্লাহ পাক উনার রহমত যাঁদের উপর পড়ে কেবল মাত্র উনারাই হাদী হতে পারেন। কারণ মহান আল্লাহ পাক উনার রহমতে উনাদের দিল কোমল হয়। যা মানুষের হেদায়েতের জন্য অনিবার্য শর্ত। মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “আল্লাহ পাক উনার রহমতেই আপনি তাঁদের জন্য কোমল হৃদয় হয়েছেন, পক্ষান্তরে আপনি যদি রূঢ় ও কঠিন হৃদয় হতেন তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। ” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫)
উল্লেখ্য, যারা জাহিরী মালানা তাদের দিলে খোদার রহমতের অভাব থাকার কারণে তারা মানুষের হিদায়েতের জন্য উপযোগী নয়। বরং যাঁরা ওলীআল্লাহ উনারাই রহমতের ধারক-বাহক বিধায় সে কাজের উপযোগী। মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত আল্লাহওয়ালাগণ উনাদের নিকটবর্তী। ” (পবিত্র সূরা আরাফ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৬)
মূলতঃ মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত ও রহমতের সাথে নিবিড় সম্পৃক্ততা মহান আল্লাহ পাক উনার জাত-পাক উনার পরিচয় তথা মা’রিফাত লাভের মাধ্যমেই সম্ভব।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ সম্পোর্কোন্নয়ন কেন শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তিতে? অনন্য উচ্চতায় উঠা এ সম্পর্ক কেন ইসলামী মূল্যবোধ ও মুসলিম ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে উজ্জীবিত হবে না? (১ম পর্ব)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন ও কৌশলগত স্বনির্ভরতা: বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ পদাতিক বাহিনীর জন্য ৩য় প্রজন্মের এটিজিএম রোডম্যাপ (পর্ব ৭)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্বে তৈরী পোশাক রফতানীতে প্রথম বাংলাদেশ কেনো তুলা আমদানীতেও প্রথম? নামে তুলা উন্নয়ন বোর্ড থাকলেও স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত তুলা চাষে কোনো উন্নয়নই নেই অপার সম্ভাবনা থাকলেও দেশে তুলা উৎপাদনে সরকারী কোনো তৎপরতা নেই অথচ ১৬৫০ থেকে ১৭৫০-এই ১০০ বছরে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোই বাংলা থেকেই ৩ লাখ গজ থেকে ৩ কোটি গজ কাপড় রপ্তানি করেছে। এই বিপুল উৎপাদনে এই বাংলাদেশই কীভাবে তুলার যোগান দিল?
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্বে তৈরী পোশাক রফতানীতে প্রথম বাংলাদেশ কেনো তুলা আমদানীতেও প্রথম? নামে তুলা উন্নয়ন বোর্ড থাকলেও স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত তুলা চাষে কোনো উন্নয়নই নেই অপার সম্ভাবনা থাকলেও দেশে তুলা উৎপাদনে সরকারী কোনো তৎপরতা নেই
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দেশের ৪ কোটি মানুষ না খেয়ে থাকে। অথচ বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার শস্য নষ্ট হয় খাদ্য অপচয় রোধ করতে ‘নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই’- পবিত্র কুরআন শরীফ উনার এই নির্দেশ সমাজের সর্বাত্মক প্রতিফলন ব্যতীত কোনো বিকল্প নেই।
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
অলস জমিদারের কায়দায় বসে বসে তালুক বিক্রী করে খাওয়ার মতই জ্যামিতিক হারে ঋণ বাড়িয়ে চলছে সরকার ২০২৮-২৯ অর্থবছর ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়। দুর্নীতি বন্ধের পাশাপাশি উৎপাদন বাড়ানো রফতানী বৃদ্ধি ও বহুর্মুখীকরণ করার উদ্যম নেই সরকারের দেশ জাতিকে করে যাচ্ছে সুদী মহাজনদের কাছে জিম্মি ও বিক্রী।
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১৩)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ঋণ নির্ভর বাজেট প্রণয়ন না করে রফতানী বহুর্মুখীকরণের দ্বারা সমৃদ্ধ বাজেট প্রণয়ন খুব সহজেই সম্ভব। কাঁঠাল উৎপাদনে বাংলাদেশ প্রথম হলেও রফতানীতে তলানীতে। কাঁঠাল রফতানী করেও বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব।
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনীর অপ্রতিরোধ্যকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির বিবরণ (পর্ব ৬)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনীর অপ্রতিরোধ্যকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির বিবরণ (পর্ব- ৫)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (২য় পর্ব)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বাংলাদেশের মহাকাশ প্রতিরক্ষা কৌশল: ৫০ লক্ষাধিক বহরের সমন্বিত বাহিনীর জন্য কৃত্রিম উপগ্রহ প্রযুক্তির রূপরেখা (পর্ব-৪)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












