মন্তব্য কলাম
লৌহকপাটের অন্তরালে রূহানী আর্তনাদ : কারাবন্দীদের দ্বীনি তালিম ও সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি ও ঈমানি ফরয
, ২৫ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৪ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ০১ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মন্তব্য কলাম
কারাগারের সেই স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে আজ হাজার হাজার বনী আদম বন্দি হয়ে আছে, যাদের রূহ আজ এক অদৃশ্য শৃঙ্খলে আবদ্ধ। অপরাধী হোক কিংবা নির্দোষ- প্রতিটি মানুষের ভেতরেই রয়েছে মহান আল্লাহ পাক উনার দেওয়া এক নূরী সত্তা, যা উপযুক্ত তালিম ও তালক্বীন পেলে পুনরায় হিদায়াতের পথে ফিরে আসতে পারে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আধুনিক কারাগারগুলো আজ কেবল শাস্তির গুদামে পরিণত হয়েছে, যেখানে মানুষের আত্মিক সংশোধনের চেয়ে শারীরিক লাঞ্ছনাই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজাতীয় ইহুদীবাদি দ-বিধির প্রভাবে আমরা ভুলে গেছি যে, কারাগার হওয়া উচিত ছিল এক একটি ‘রূহানী ইসলাহখানা’ বা সংশোধন কেন্দ্র।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বন্দি মানবেতর জীবন যাপন করছে। এই ভিড়ের মাঝে একজন বন্দি যখন তার দ্বীনি অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, তখন তার অপরাধী সত্তা আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ কারাগার থেকে বের হয়ে পুনরায় অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে, এর মূল কারণ হলো, সেখানে সহীহ দ্বীনি তালিমের অনুপস্থিতি। আত্মিক সুরক্ষা ও চারিত্রিক গঠনের এই অভাব মেটাতে গিয়ে সমাজ আজ এক গভীর নৈতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে।
কারাবন্দীদের অধিকার ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের পাশাপাশি তাদের জন্য সর্বজনীন রূহানী তালক্বীন দরকার। তা না হওয়ায় অনেক বন্দি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে অথবা চরমপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়-কারাগারে দক্ষ আলেম-ওলামাদের মজলিশ না থাকা, নিয়মিত কুরআন শরীফ, সুন্নাহ শরীফ -এর দরস না হওয়া এবং বন্দিদের প্রতি অমানবিক ও রূঢ় আচরণ। যখন একজন রক্ষক ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন সেই বন্দিশালা আর সংশোধন কেন্দ্র থাকে না, বরং তা ইহুদীবাদি জুলুমের আখড়ায় পরিণত হয়।
পবিত্র কুরআন শরীফ-উনাতে মুবারক ইরশাদ হয়েছেন, “তারা মহান আল্লাহ পাক উনার মহব্বতে অভাবী, ইয়াতিম ও বন্দিদের খাবার দান করে।” (পবিত্র সূরা দাহর শরীফ: আয়াত শরীফ নং ৮)। এই আয়াত মুবারক-এর হাক্বীকত হলো- বন্দিদের প্রতি দয়া ও সদ্ব্যবহার করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। অথচ আমাদের ব্যবস্থায় বন্দিদের সাথে পশুর চেয়েও অধম আচরণ করা হয়। তাদের রূহানী পিপাসা মেটানোর জন্য নেই কোনো নূরী আয়োজন। অথচ প্রয়োজন ছিল প্রতিটি কারাগারে এক একটি নূরী পাঠাগার এবং নিয়মিত যিকির-আযকারের মজলিস কায়েম করা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারাগারের অবকাঠামো উন্নয়নের চেয়ে বন্দিদের মনস্তাত্ত্বিক ও আত্মিক উন্নয়নের ওপর জোর দেয়া বেশি জরুরি। বিজাতীয় আর্দালিদের তৈরি করা আইনের মাধ্যমে কেবল মানুষের শরীরকে বন্দী করা যায়, মনকে নয়। মনকে জয় করতে হলে প্রয়োজন মুহব্বত ও দ্বীনি হেদায়েত। সরকারি সুযোগ-সুবিধার সঠিক বন্টন না হওয়ায় গরিব বন্দিরা চিকিৎসার অভাবে কারাগারেই তিলে তিলে মৃত্যুবরণ করছে, যা এক বাস্তব ঘটনা।
অথচ রূহানী হাক্বীকত ও ইসলামী ইনসাফের মানদ-ে কারাগার কোনো বিভীষিকাময় অন্ধকূপ নয়, বরং এটি হওয়া উচিত ছিল এক একটি ‘রূহানী ইছলাহখানা’ বা আত্মিক সংশোধন কেন্দ্র। পবিত্র দ্বীন ইসলামে অপরাধীকে কেবল সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করাই মূল লক্ষ্য নয়, বরং তার কলবে হিদায়াতের নূর প্রজ্বলিত করে তাকে একজন নেককার মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই হলো পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার নির্দেশ।
বিশেষ করে ‘রিমান্ড’ বা জিজ্ঞাসাবাদের নামে বর্তমানে যে পৈশাচিক নির্যাতন ও শারীরিক লাঞ্ছনা চালানো হয়, তা শরীয়ত মুবারক-এর দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম এবং জঘন্যতম গুনাহ। জিজ্ঞাসাবাদের নামে কোনো মানুষকে বিবস্ত্র করা, বৈদ্যুতিক শক দেওয়া কিংবা হাড়গোড় ভেঙে ফেলা- এসবই হলো ইহুদীবাদি শয়তানদের আবিষ্কৃত এক নব্য জাহিলিয়াত।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাতে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐসব ব্যক্তিকে শাস্তি দেন, যারা দুনিয়াতে মানুষকে কষ্ট দেয়।” (মুসলিম শরীফ)। সুতরাং রিমান্ডের দোহাই দিয়ে কোনো বন্দির ওপর জুলুম করা তো দূরের কথা, তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করাও শরীয়ত বহির্ভূত কাজ। অপরাধ প্রমাণের জন্য বৈজ্ঞানিক ও যুক্তিনির্ভর পদ্ধতি অবলম্বন না করে কেবল পেশী শক্তির মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায় করা এক ধরণের আগ্রাসনবাদী জুলুম, যার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ।
সরকারের তরফ থেকে কারাসংস্কারের কথা বলা হলেও, সেখানে দ্বীনি তালীমের বিষয়টি আজও উপেক্ষিত। বিজাতীয় এনজিওগুলোর কুপ্রভাবে অনেক ক্ষেত্রে বন্দিদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিশ^াস নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সাধারণ অপরাধী ও দুর্র্ধষ অপরাধীদের একসাথে রাখার ফলে সাধারণরা আরও বেশি অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছে। এই অব্যবস্থাপনা বন্ধ করা এখন জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই অপরিহার্য।
এ থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হচ্ছে-কারাগারগুলোকে হাক্বীকী অর্থে ‘রূহানী হাসপাতাল’ হিসেবে গড়ে তোলা। সেখানে নিয়মিত উলামায়ে কিরামদের মাধ্যমে তালিম-তালক্বীন নিশ্চিত করা, পুষ্টিকর খাবার ও উন্নত চিকিৎসা প্রদান এবং সর্বপ্রকার জুলুম বন্ধ করা। এটা তেমন কোনো কঠিন কাজ নয়, সরকার যদি বিজাতীয় ইহুদীবাদি আইনের পরিবর্তে ইনসাফভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা কায়েমে সচেষ্ট হয়, তবেই এটি সম্ভব।
-মুহম্মদ শামসিত তাবরিজ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সস্তা জনপ্রিয়তার বিপরীতে সস্তা জনরোষের পথেই কী হাটতে চায় সরকার? মাত্র ১০/১৫ হাজার কোটি টাকার জন্য ওয়াদা খেলাফ করে বিদ্যুতের দাম আবার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির আগুনে আরো ঘি ঢালছে সরকার। জনভোগান্তির জুলুম থেকে সরে আসতে হবে সরকারকে।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৮)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
১৯৯০ সালে কাঁচা চামড়া রফতানীর নিষিদ্ধ করণের প্রেক্ষাপট বর্তমানে নেই। এ মুহুর্তে কাঁচা চামড়া রফতানীর অনুমোদন বর্তমান সংকটকে অনেকটাই কমাতে পারে।
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কুরবানী আসে-যায় মৌসুমী কসাইরা অরক্ষা আর অবহেলাতেই থেকে যায়। তাদের অনেকে আহত হয়, পঙ্গু হয়, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়- মৌসুমী কসাইদের প্রশিক্ষণ ও পৃষ্টপোষকতার পাশাপাশি ঈদুল আদ্বহায় বিশেষ স্বাস্থসেবা চালু করা দরকার।
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
‘দ্যা গ্রেট রিসেট’ ও নমরুদী মশার প্রতিশোধের এক চরম ইহুদী-নাসারায়ী নীলনকশা!
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিদ্যুতের বিল বার বার বাড়ানো শোষক জমিদারি কায়দায় চক্র বৃদ্ধি হারে খাজনার চাবুক মারা অথচ বিদ্যুতে শুধু চুরি নয়, সব দিক থেকে সাগর চুরি হচ্ছে। সে চুরির ক্ষত পোষাতে জনগণের উপর খাজনা বৃদ্ধি করে চোরদের উৎসাহ ও প্রনোদনা এবং নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে।
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সে যুগেও হুসাইন আহমদকে ইহুদীদের দালাল, হিন্দুদের কংগ্রেসের পা চাটা- গোলাম প্রচারণা করা হলেও থানভী গংরা তা বুঝতে পারলো কৈ? আজকে পশ্চিমবঙ্গে হাজার হাজার মসজিদ ভাঙ্গা ও লাখ লাখ মুসলমানদের বাড়ী-ঘর ধ্বংস, হিন্দুত্ববাদ গ্রহণে বাধ্য করার মত মহা জুলুমের মূলে হোসেন আহমদের সর্ব ভারতীয় জাতীয়বাদ।
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আকাশের অতন্দ্র প্রহরী: বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও আবহাওয়া রাডার অবকাঠামোর মহাপরিকল্পনা কেন জরুরি? (১ম পর্ব)
২৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর ২০২৫) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসীম উদ্দিনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
২২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কিন্তু গতকাল গুগল, ফেইসবুকে অসংখ্য আইডি থেকে প্রচারিত- ‘তারেক রমমান নারিকেল দ্বীপ (সেন্টমার্টিন দ্বীপ) আমেরিকাকে দিয়ে দিয়েছেন নারিকেল দ্বীপ এখন মার্কিন ঘাটি হবে’- ইত্যকার প্রচারণা দেশবাসীকে হতভম্ব করছে। সর্বপোরি সরকারের দলীয় বা প্রশাসনের তরফ থেকে এটাকে গুজব না বলায়- হতাশা চরম আকার ধারণ করেছে।
২২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বর্বর আম্রিকা আর সন্ত্রাসী ইসরাইলের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রাখছে সংযুক্ত আরব আমিরাত কিন্তু মুসলিম দেশ ইয়েমেন থেকে শুরু করে সোমালিয়া-লিবিয়া হতে সুদানে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ চালিয়ে রাখছে আরব-আমিরাত ভয়াবহ মানবেতর সংকটে সুদান, সহিংসতা-রোগ-দুর্ভিক্ষে দিশাহারা মানুষ সুদানের রক্তপাত বন্ধে মুসলিম বিশ্বকে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে এক্ষুনি
২১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে এক শতাংশ ছাড়! এ কেমন কালোচুক্তি? প্রকৃতপক্ষে গোলামীর চুক্তি
২০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












