ফতওয়া:
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৮)
, ০৩ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৭ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) ফতওয়া বিভাগ
হযরত তাবেঈনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারাও মূর্তি ধ্বংস করেছেন
দলীল
এ ছাড়াও উমাইয়া শাসক ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিকের শাসনকালে মুসলিম ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাপতি বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত কুতাইবা ইবনে মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জিহাদ ও সন্ধির মাধ্যমে মুশরিকদের নিকট থেকে সমরকন্দ বিজয় করেন। উক্ত শহরে একটি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ এবং মিম্বার তৈরির পর তিনি শহরে প্রবেশ করেন।
فَصَلَّى فِي الْمَسْجِدِ وَخَطَبَ وَتَغَدَّى وَأُتِيَ بِالْأَصْنَامِ الَّتِي لَهُمْ فَسُلِبَتْ بَيْنَ يَدَيْهِ وَأُلْقِيَتْ بَعْضُهَا فَوْقَ بعضٍ حَتَّى صَارَتْ كَالْقَصْرِ العظيم ثم أمر بتحريقها فتصارخوا وتباكوا وَقَالَ الْمَجُوسُ إِنَّ فِيهَا أَصْنَامًا قَدِيمَةً مَنْ أحرقها هلك وجاء الملك غورك فَنَهَى عَنْ ذَلِكَ وَقَالَ لِحضرت قُتَيْبَةَ رحمة الله عليه إِنِّي لَكَ ناصح فقام حضرت قتيبة رحمة الله عليه وأخذ في يده شعلة نار وقال أنا أحرقها بيدي فَكِيدُونِي جَمِيعا ثُمَّ لا تنظرون ثم قام إليها وهو يكبر الله عز وجل وَأَلْقَى فِيهَا النَّارَ فَاحْتَرَقَتْ
‘তারপর তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক-এ ছালাত আদায় করেন, খুতবা দেন ও খাদ্য গ্রহণ করেন। অতঃপর সমরকন্দের মুশরিকদের মূর্তিগুলো উনার সামনে উপস্থিত করা হলো এবং সেগুলোকে স্তুপ করে রাখা হলো। মূর্তির সংখ্যা এত বেশি ছিলো যে, স্তুপটি একটি বিরাট প্রাসাদের রূপ ধারণ করলো। তারপর তিনি এগুলোকে পুড়িয়ে ফেলার জন্য নির্দেশ মুবারক দেন। তখন তারা ক্রন্দন ও বিলাপ করতে লাগলো। এক অগ্নিপূজারী বললো, ‘এগুলোর মধ্যে একটি পুরানো মূর্তি রয়েছে। যে ব্যক্তি এই মূর্তিটিকে পুড়াবে, সে ধ্বংস হয়ে যাবে।’ সমরকন্দের বাদশাহ্ গাওরাক এগিয়ে আসলো এবং এই কাজ করতে নিষেধ করলো। আর হযরত কুতাইবা ইবনে মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে সে বললো, ‘আমি আপনার শুভাকাক্সক্ষী, আপনি এরূপ কাজ করবেন না।’ তখন হযরত কুতাইবা ইবনে মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি দাঁড়ালেন ও অগ্নিশিখা হাতে নিলেন এবং বললেন, ‘আমার নিজের হাতে মূর্তিটিকে পুড়াবো, তোমরা সকলে মিলে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করো, তোমাদেরকে বেশি সময় দেওয়া হবে না।’ তারপর তিনি মূর্তিটির কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন এবং “আল্লাহু আকবার” বললেন ও মূর্তিটির উপর অগ্নিশিখা ফেলে দিলেন। তারপর মূর্তিটি পুড়ে গেল। সুবহানাল্লাহ! (আল বিদায়াহ্ ওয়ান নিহায়াহ্ ৯/৮৬)
অথচ বর্তমানে ওলামায়ে সূ’রা এখন মুশরিকদের মূর্তি হেফাযতের লক্ষ্যে মন্দিরে যেয়ে মূর্তি পাহারা দিচ্ছে এবং হিন্দুদের পূজার বিষয়ে উৎসাহ প্রদান করছে। ওলামায়ে সূ’দের এই আমল দ্বারা তারা কি এটাই সমস্ত বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিচ্ছে না যে, আসলে তারা মুসলমান নয়; তারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত নয় তাই তারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং উনার আদেশ মুবারক মানে না। কারণ প্রকৃতপক্ষে তারা হচ্ছে মূর্তিপূজারী ও মুশরিক। সম্মানিত শরীয়ত উনার ফতওয়া অনুযায়ী তারা প্রত্যেকেই মূর্তিপূজারী ও মুশরিক হয়ে এবং কাট্টা কাফির ও কাট্টা মুরতাদ হয়েছে এবং তাদেরকে যারা অনুসরণ করছে এবং করবে তাদের প্রতিও একই হুকুম বর্তাবে এবং যারা তাদের কুফরী সম্পর্কে দ্বিমত পোষণ করবে তাদের প্রতিও একই হুকুম বর্তাবে। এদের ইমামতিতে নামাজ পড়া যায়েজ নেই। কারণ এরা মুরতাদ ও কাফির হয়ে গেছে। কেউ যদি তাদের পিছনে নামাজ পড়ে তাহলে তার নামাজ কখনোই হবে না। তাকে নামাজ অবশ্যই দোহরায়ে পড়তে হবে। অন্যথায় সে শুধুমাত্র নামাজ তরকের গুনাহে গুনাহগারই হবে না বরং সেও মুরতাদ ও কাফির হবে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৭)
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৬)
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৭)
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৬)
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৫)
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৫)
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৪)
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৪)
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৩)
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭২)
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৪)
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭১)
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












