ইলমে তাছাওউফ
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৭) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
, ১৭ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৬ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৬ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ২৩ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) ইলমে তাছাউফ
উল্লেখ্য যে, আখেরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মাঝে মধ্যে কোন বিষয় ভালোভাবে বোধগম্য করানো কিংবা উক্ত বিষয়টির গুরুত্ব বুঝানোর উদ্দেশ্যে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে জিজ্ঞাসা করতেন। বিদায় হজ্জের দিন আরাফার ময়দানে খুতবা মুবারক দানকালে লক্ষাধিক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের প্রতি উদ্দেশ্য করে বলেন, “এটা কি মাস? আজকে কোন দিন? এটা কোন স্থান?” হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সেক্ষেত্রেও নীরবতার ভূমিকাই পালন করেছিলেন।
কারণ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এরূপ প্রশ্নের পিছনে বিরাট হিকমত নিহীত থাকে। যেহেতু তিনি শারে’ বা শরীয়ত প্রণেতা। কাজেই তিনি যদি প্রচলিত মাসের নাম পরিবর্তন করে বলেন, আজকে অমুক মাস, অমুক দিন তখন তাই হবে। সে কারণে এসব ক্ষেত্রে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা জাওয়াবে শুধু এতটুকুই বলতেন যে, মহান আল্লাহ পাক ও উনার মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারাই ভালো জানেন।
তবে কোন কোন সময় উনারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রশ্নের জাওয়াব দিতেন যা একান্তভাবেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জানতে চাইতেন।
উল্লেখ্য, কামিল শায়েখ তথা আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার মা’রিফাত-মুহব্বত ও গোপন রহস্যাদির ভান্ডার স্বরূপ। উনারা যখন কথা বলেন তখন তা সাধারণ পর্যায়ে থাকে না। উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতি জবান দিয়ে কথা বলেন। কাজেই উনাদের কথার তাছির সম্পূর্ণ আলাদা। যা মানুষের ক্বলবের উপর আছর করে এবং তা তার হিদায়েতের কারণ হয়ে থাকে।
আরো উল্লেখ্য, হক্কানী-রব্বানী আলিম বা কামিল শায়েখগণ ইলমে লাদুন্নীপ্রাপ্ত। কাজেই উনাদের কথার শান ও তাছির অন্য সকলের কথা থেকে অতি উচুঁ দরজার, যদিও তা সাধারণ বিষয়ে হয়ে থাকুক না কেন। কাজেই উনার নির্দেশ ছাড়া তথা বিনা অনুমতিতে কথা বললে তাতে ছন্দপতন ঘটে। কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলার রূহানী জবান থেকে সে নিজেও বঞ্চিত হয় এবং মানুষকে বঞ্চিত করে।
কাজেই কামিল শায়েখ উনার দরবার শরীফে যদি মাসয়ালা-মাসায়িল আলোচনা হয়, ইলিমের আলোচনা হয় তখন সর্বক্ষেত্রে নীরবতা অবলম্বন এবং গভীর মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করা ফায়দার কারণ। আর লৌকিকতা তথা কামিল শায়েখ উনার সামনে নিজের ইলিম জাহির করা নেহায়েত মূর্খতা। আদবের খেলাফ এবং ইলিমের অন্বেষণের পথেও বড় ধরনের অন্তরায়।
মূলতঃ কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলার সামনে নিজের ইলিম জাহির করার এটাই অর্থ যে, সে যা এতদিন শুনেছে বা শিখেছে তাতেই সে পরিতৃপ্ত। অথচ কাইয়ূমে আউওয়াল, হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, “যে তৃপ্ত সে বঞ্চিত, যে অতৃপ্ত সে প্রাপ্ত।”
স্বীয় কামিল শায়েখ উনার প্রতি এরূপ আক্বীদা-বিশ্বাস বদ্ধমূল হওয়া আবশ্যক যে, কামিল শায়েখ যা বলেন, যেভাবে বলেন তা মহান আল্লাহ্ পাক ও উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রুহানী নির্দেশ মুবারক পেয়েই বলে থাকেন। আর যেখানে কামিল শায়েখ নিজেই উপস্থিত এবং তিনি স্বয়ং আলোচনা করছেন সেখানে অন্য লোকের মাসয়ালার সমাধান দেয়ার আবশ্যকতা কোথায়?
এ প্রসঙ্গে একটি ওয়াকেয়া বলা হয়। হযরত আবূ সাঈদ রহমতুল্লাহি আলাইহি কোন দিনই উনার কামিল শায়েখ উনার সম্মুখে উচ্চ-বাচ্য করতেন না বা কোন কথা-বার্তা বলতেন না। শুধু নীরবে সব শুনতে থাকতেন। লোকজন এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলতেন, হযরত কামিল শায়েখ উনার সম্মুখে কথা না বলাই হলো ছওয়াবের কাজ। কেননা সমুদ্রের বর্তমানে নদীর কি গুরুত্ব আছে? তিনি আরো বলেন, খারকান শরীফে আগমন কালে আমি এক সাধারণ পাথর ছিলাম। কিন্তু আমার কামিল শায়েখ ছহিবে মিল্লাদুন্না ইলমা, সুলতানুল আরিফীন, ফখরুল উলামা ওয়াল মাশায়েখ, হযরত আবুল হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নেক দৃষ্টি, ফয়েজ ও বরকতে আমি মূল্যবান জিনিসে পরিণত হয়েছি। (তাজকিরাতুল আউলিয়া)
সুতরাং উনার সম্মুখে কথা বলা নির্বুদ্ধিতার পরিচয়। কারণ কামিল শায়েখ যদি তার কথা গ্রহণ না করেন তবে তার কোন মূল্যই থাকবে না। এজন্য বলা হয়, “বাদশাহ্র কথা, কথার বাদশাহ্।” (অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার প্রতি ইমামুল মুসলিমীন, হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চূড়ান্ত আদবের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হক্কানী রব্বানী আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের শানে সবসময় সার্বিকভাবে হুসনে যন পোষণ করা আবশ্যক
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কৃপণতা জঘণ্যতম বদ খাছলত
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার সাথে তায়াল্লুক-নিসবত ব্যতীত মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে তায়াল্লুক-নিসবত মুবারক রাখার দাবি করা অবান্তর
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (১১)
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৬) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আদব রক্ষা করার গুরুত্ব
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
কৃপণতা জঘণ্যতম বদ খাছলত
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাওউফ উনাদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৫) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৪) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৩) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’জীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












