ইলমে তাছাওউফ
প্রত্যেক উম্মতকে শরীয়ত এবং তাছাওউফ দেয়া হয়েছে
, ২০ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৭ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৬ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ২২ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) ইলমে তাছাউফ
মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে বলেছেন-
لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا
অর্থ: আমি তোমাদের প্রত্যেককেই শরীয়ত এবং ত্বরিকত অর্থাৎ তাছাওউফ দিয়েছি। (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৮)
এ আয়াত শরীফে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রত্যেক উম্মতকে বা প্রত্যেক সম্প্রদায়কে বুঝিয়েছেন যে, হযরত আবুল বাশার আদম আলাইহিস সালাম উনার থেকে শুরু করে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর্যন্ত বর্ণনা করা হয়েছে যে, প্রত্যেক নবী এবং রসূল উনাদের প্রত্যেক উম্মতকে আমি শরীয়ত এবং তাছাওউফ দিয়েছি। ইলমুত তাছাওউফ যেটা রয়েছে, ত্বরীকত অর্থাৎ ইলমুল মা’রিফাত যেটা মহান আল্লাহ পাক উনার মা’রিফাত, মুহব্বত সেটা একইভাবে রয়েছে। আর যেটা শরীয়ত সেটা অবস্থাভেদে পরিবর্তন হয়েছে। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানায় এসে একটা স্থিতিশীলতা এসেছে। অর্থাৎ একই অবস্থায় ক্বিয়ামত পর্যন্ত চলতেই থাকবে এই শরীয়ত। কুরআন শরীফ, সুন্নাহ শরীফ, ইজমা শরীফ ও ক্বিয়াস শরীফ। কাজেই খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনিই সেটা বলেছেন, প্রত্যেকের জন্যই আমি দিয়েছি শরীয়ত এবং ত্বরীকত তথা তাছাওউফ। এটার ব্যাখ্যায় হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন-
مَنْ تَفَقَّهَ وَلَمْ يَتَصَوَّفْ فَقَدْ تفَسَّقَ. وَمَنْ تَصَوَّفَ وَلَمْ يَتَفَقَّهْ فَقَدْ تَزَنْدَقَ. وَمَنْ جَمَعَ بَيْنَهُمَا فَقَدْ تَحَقَّقَ.
হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, যে ফিক্বাহ শিখলো তাছাওউফ শিখলো না, সে হচ্ছে ফাসিক। সে একটা গুনাহগার। আর যে ব্যক্তি বলে আমি তাছাওউফ করি মা’রিফাত করে থাকি শরীয়তকে গুরুত্ব দেয় না, সে একটা যিন্দিক কাফির। আর যে দুটাকে জমা করলো সে হচ্ছে মুহাক্কিক। সে হক্কানী রব্বানী আল্লাহওয়ালা।
এর ব্যাখ্যায় হযরত গাউছুল আ’যম বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, সাধারণত মহান আল্লাহ পাক উনার যমীনে লোক হচ্ছে চার প্রকার। মানুষ হচ্ছে সাধারণভাবে চার প্রকার। প্রথম প্রকার হচ্ছে যাদের যাহিরও নেই বাতিনও নেই, যাদের যাহিরও পরিশুদ্ধ নয়, বাতিনও পরিশুদ্ধ নয় এরা বরবাদ। তবে যদি মহান আল্লাহ পাক তিনি এদের প্রতি রহমত বরকত নাযিল করেন হয়তো তারা নাজাত পেতে পারে। দ্বিতীয় প্রকার বলা হয়েছে, যাদের যাহির রয়েছে, বাতিন নেই, এরাও বরবাদ। যেহেতু তাদের বাতিন বা অন্তর বিশুদ্ধ নয়। এদেরকেও যদি মহান আল্লাহ পাক তিনি রহমত করেন, বরকত নাযিল করেন, তাহলে তারা হয়তো নাজাত পেতে পারে। তৃতীয় প্রকার বলা হয়েছে, যাদের যাহির নেই বাতিন রয়েছে, এরাও নাকিছ, অপূর্ণ। আর চতুর্থ প্রকার বলা হয়েছে, যাদের যাহির রয়েছে, বাতিনও রয়েছে,উনারাই হক্কানী, উনারাই নায়িবে নবী ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া। হযরত গাউছুল আ’যম সাইয়্যিদুল আউলিয়া বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মানুষকে চার প্রকারে ভাগ করেছেন। এরা হচ্ছে ঈমানদারদের মধ্যে। ঈমানদারদের মধ্যে চার প্রকার ভাগ করা হয়েছে। এরপরও প্রকার রয়েছে। যাহিরও নেই বাতিনও নেই কিন্তু তার ঈমানও না থাকে তাহলে অবশ্যই সে ধ্বংস বা হালাক। আর যার যাহির রয়েছে বাতিন নেই, সে ফাসিক। আশংকা রয়েছে তার। আর তৃতীয়ত বলা হয়েছে যার বাতিন রয়েছে, যাহির নেই। এখন যদি সে ঈমানদার হয়, তাহলে সে নাকিছ। সে পূর্ণতায় পৌঁছতে পারে কোশেশ করলে। আর যদি তার ঈমান না থেকে থাকে, তাছাওউফ দাবি করে থাকে সে যিন্দিক, সে কাফির, সে বরবাদ। আর যার যাহির বাতিন উভয়টাই রয়েছে, তার জন্য কামিয়াবী। এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যার যাহিরও নেই, বাতিনও নেই, যদি সে ঈমানদার না হয়, তাহলে তার এক হুকুম, আর যদি ঈমানদার হয়, তাহলে তার আরেক হুকুম।
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (১)
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার প্রতি ইমামুল মুসলিমীন, হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চূড়ান্ত আদবের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হক্কানী রব্বানী আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের শানে সবসময় সার্বিকভাবে হুসনে যন পোষণ করা আবশ্যক
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কৃপণতা জঘণ্যতম বদ খাছলত
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৭) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার সাথে তায়াল্লুক-নিসবত ব্যতীত মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে তায়াল্লুক-নিসবত মুবারক রাখার দাবি করা অবান্তর
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (১১)
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৬) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আদব রক্ষা করার গুরুত্ব
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
কৃপণতা জঘণ্যতম বদ খাছলত
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাওউফ উনাদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৫) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












