ইলমে তাছাওউফ
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৪৬)
শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
, ০৮ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০১ সাবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ১৫ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) ইলমে তাছাউফ
হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা হাক্বীক্বত গোপন রেখেই মুরীদের আত্মার চিকিৎসা করে নানাভাবে তা’লীম-তরবিয়ত দান করেন। আর সেক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যাবতীয় নিয়ামত লাভের উপযোগী করে নিয়ামত দানে পুঞ্জিভূত করে থাকেন।
সুতরাং, কামিল শায়েখ বা উলিল আমরগণ যে বিষয়ে আদেশ-নিষেধ করুন না কেন তা সঠিকভাবে পালন করাই হচ্ছে পূর্ণ আনুগত্যতার বহিঃপ্রকাশ। কেননা আখেরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে যখন যে বিষয়ে যেভাবে আদেশ দিতেন উনারা তা সেভাবেই পালন করতেন। চাই তা বোধগম্য হোক বা না হোক। পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে-
عَنْ حَضْرَتْ مُعَاذَةَ الْعَدَوِيَّةِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهَ، أَنَّها قَالَتْ لام المؤمنين الثالثة الصديقة عليها السلام، مَا بَالُ الْحَائِضِ تَقْضِي الصَّوْمَ ولاَ تَقْضِي الصَّلاَةَ ؟ فَقَالَتْ: كَانَ يُصِيبُنَا ذَلِكَ فَنُؤْمَرُ بِقَضَاءِ الصَّوْمِ وَلاَ نُؤْمَرُ بِقَضَاءِ الصَّلاَةِ
অর্থ: “মহিলা তাবেয়ী হযরত মুয়াজাহ আদাউইয়া রহমতুল্লাহি আলাইহা হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি একবার হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, স্বাভাবিক মাজুরতা সম্পন্না স্ত্রীলোক রোযা কাযা করে কিন্তু নামাজ কাযা করে না, তার কি শান বা কারণ? তখন হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, আমাদের কাছে এরূপই পৌঁছেছে যে, আমরা রোযা কাযা করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি কিন্তু নামাজ কাযা করার আদিষ্ট হয়নি। (যখন যেরূপ আদিষ্ট হয়েছি তখন সেরূপই আমল করেছি, কোন কারণ তালাশ করিনি)।” (মুসলিম শরীফ, মেশকাত শরীফ /১৭৮)
মূলতঃ শরীয়তের কোন আমলের ক্ষেত্রে কারণ তালাশ করা জায়েয নেই। অনুরূপ উলিল আমর বা কামিল শায়েখ উনার কোন আদেশ-নিষেধের কারণ তালাশ করা মুরীদের জন্য উচিত নয়। ইহাই তার জন্য অধিক ফায়দার কারণ এবং অভিষ্টলক্ষ্যে পৌঁছার সহজ পথ। যেহেতু সব বিষয় সর্বদা সকলের নিকট বোধগম্য হয় না। অনেক বিষয় এমন আছে যা সুক্ষ¥তার কারণে অনুধাবন করা দূরূহ হয়ে পড়ে। কাজেই সর্বক্ষেত্রে কামিল শায়েখ যা আদেশ করবেন তা হুবহু পালন করার কোশেশ করবে। কেননা, মহান আল্লাহ পাক উনার ওলীগণ মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি পরিপূর্ণ আত্মসমর্পিত, উনার মুহব্বত-মা’রিফাতের সমুদ্রে অবগাহিত। উনারা একান্তভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার মতে মত এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পথে পথ। উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুবারক ব্যতীত তথা পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসের খেলাফ কোন আমল করেন না বা করার নির্দেশ দেন না। কাজেই শরয়ী আহকামের খেলাফ কোন আমল উনাদের দ্বারা সংঘটিত হওয়ার কল্পনাও করা যায় না। দুনিয়াবী ভোগ-বিলাস, চাক-চিক্য হতে উনারা বহু উর্ধ্বে।
দুনিয়ার নানাবিধ আরাম-আয়েশ, মায়া-মুহব্বত, উনাদেরকে আক্রান্ত করতে পারে না। আফদ্বালুল আউলিয়া, ইমামে রব্বানী, হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “আমাকে হাজার বছর যদি দুনিয়াতে রাখা হয় তবুও দুনিয়া আমাকে স্পর্শ করতে পারবে না।”
সাইয়্যিদুল আউলিয়া, গাউছুল আ’যম, হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “আমি স্বেচ্ছায় কিছু বলি না বা করি না। বরং মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার মুখে কথা বলে থাকেন এবং তিনি যা করতে বলেন তাই করি।
আর মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম মুবারকে উনাদের এ কথার সত্যায়ন পাওয়া যায়। পবিত্র হাদীছে কুদসীতে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন-
لاَ يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ فَإِذَا أَحْبَبْتُهُ كُنْتُ سَمْعَهُ الَّذِي يَسْمَعُ بِهِ وَبَصَرَهُ الَّذِي يُبْصِرُ بِهِ كُنْتُ لِسَانَهُ الَّذِي يَنْطِقُ بِهِ وَيَدَهُ الَّتِي يَبْطِشُ بِهَا وَرِجْلَهُ الَّتِي يَمْشِي بِهَا وَإِنْ سَأَلَنِي لَأُعْطِيَنَّهُ
অর্থ: “বান্দা অতিরিক্ত আমল (সুন্নত মুবারক উনার আমল) করতে করতে আমার এতটুকু নৈকট্য লাভ করে যে, আমি তাকে মুহব্বত করি। আমি যখন তাকে মুহব্বত করি তখন আমি তার কান হই, সে আমার কুদরতী কানে শুনে। আমি তার চোখ হই, সে আমার কুদরতী চোখে দেখে। আমি তার জবান হই, সে আমার কুদরতী জবানে কথা বলে। আমি তার হাত হই, সে আমার কুদরতী হাতে ধরে। আমি তার পা হই, সে আমার কুদরতী পায়ে চলে। তখন সে আমার কাছে যা চায় তা আমি তাকে দান করি।”
উল্লেখ্য যে, বান্দা কখনও মহান আল্লাহ পাক হন না। আবার মহান আল্লাহ পাক তিনিও কখন বান্দা হন না। অর্থাৎ বান্দা মহান আল্লাহ পাক উনার অনুগত হতে হতে এমন এক পর্যায়ে উপনীত হয় যে, তখন তার কান, চোখ, জবান, হাত ও পা ইত্যাদি সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এমনকি সে নিজেও কখনও মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম মুবারকের খেলাফ কোন কাজ করে না বা আদেশ করেন না।
সুতরাং এই শ্রেণীর ওলীআল্লাহগণ যখন যা আদেশ-নিষেধ করবেন তখন তা যথাযথ পালন করবে। (অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭২)
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭১)
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭০)
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৯)
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (৬)
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৮)
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৭)
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৬)
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ (৫)
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












