মুখরোচক টেস্টি সল্ট জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়ঙ্কর ও মারাত্মক হুমকি। বিভিন্ন দেশে টেস্টি সল্ট নিষিদ্ধ হলেও অনুমোদনের অজুহাতে এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা বিএসটিআই।
জনস্বাস্থ্যবিরোধী কোন কার্যক্রমে সরকার নীরব থাকতে পারেনা।
, ১৯ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ০৮ ছালিছ, ১৩৯১ শামসী সন , ০৭ আগস্ট, ২০২৩ খ্রি:, ২৩ শ্রাবণ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মন্তব্য কলাম
বিশেজ্ঞরা বলছে, এটি মানবদেহের জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর। মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট বা টেস্টিং সল্ট খাবার মুখরোচক বা মজাদার করার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। কৃত্রিম স্বাদ বর্ধনকারী উপাদানটির মধ্যে কোনো পুষ্টিমান নেই। এটি বেশি ব্যবহার করলে স্নায়ুতন্ত্রের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। বিজ্ঞানীরা একে ‘স্নায়ুবিষ’ বলে আখ্যায়িত করেছে।
গবেষণায় দেখা যায় বাজারে বিক্রি হওয়া পটেটো চিপসে মাত্রাতিরিক্ত টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করা হয়। এছাড়া চিকেন ফ্রাই থেকে শুরু করে শিশুদের সিরিয়াল, চকলেট, বেবি ফুড, সস, বিস্কুট, বিশেষ করে ক্র্যাকারস, সল্টেড ও ভেজিটেবল বিস্কুট, হরেক রকম স্যুপ, সালাদ ড্রেসিং, ফ্রাইড রাইস, ফ্রাইড প্রোন, প্রোন বল, সুইট অ্যান্ড সাওয়ার প্রোন, চিকেন ভেজিটেবল, ফিশ ভেজিটেবল, পিৎজা, স্যান্ডউইচ, নুডলস, হোটেল-রেস্টুরেন্টের রোস্ট, ফ্রাই, কারিসহ চায়নিজ সব খাবারে মাত্রাতিরিক্ত টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করা হয়। টেস্টিং সল্ট ভালো জিনিস নয়। যারা নিয়মিত এটি খায় তাদের জন্য মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। এটি বেশি ব্যবহার করলে স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে। এ ছাড়া মাথাব্যথা, বমিবমি ভাব, ঘুমঘুম ভাব, অনিন্দ্রা, খাবারে অরুচি, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, বুকের ব্যথা, দুর্বল লাগা, গলায় জ্বালা, পিপাসা বৃদ্ধি, কাজ করতে অনীহা, কানে ভোঁ-ভোঁ শব্দ করা, হার্টের সমস্যা, কিডনি ও ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগ হতে পারে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে টেস্টিং সল্ট নামের এই বিষ ক্রমাগতভাবে জনগণের শরীরে মিশে গিয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের সৃষ্টি করছে কিন্তু সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই বিষয়ে কার্যকর কোন ভ্রুক্ষেপই করছে না। অন্যদিকে, টেস্টিং সল্ট দেশে উৎপাদন ও বিপণন হয় বলে স্বীকার করেছে বিএসটিআই। তাদের বক্তব্য অনুসারে- বিএসটিআই ১৫৪টি পণ্যের দেখভাল করে থাকে। এর মধ্যে টেস্টিং সল্ট আইটেমটি নেই। আর মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য নয়। আইনগতভাবে এটি উৎপাদন ও বিপণন কাজে বাধা দেয়ার এখতিয়ার বিএসটিআইয়ের নেই। এটি আমদানি, উৎপাদন ও বিপণনে বিএসটিআইয়ের কোনো অনুমোদন নিতে হয় না। ফলে বিএসটিআই এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। অর্থাৎ বাংলাদেশে এই টেস্টি সল্ট আমদানি, উৎপাদন ও বিপনন করা হয় সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে অর্থাৎ মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট নামে। বিএসটিআই এর মতে, যেহেতু বিএসটিআইএর অনুমোদন নিতে হয়না টেস্টি সল্ট তৈরী করতে- তাই এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনা বিএসটিআই। আর এর মাধ্যমে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য অধিদপ্তরের সক্রিয়তা ও দায়িত্বশীলতা কতটা নি¤œমানের। যেখানে স্পষ্ট ও প্রকাশ্যে ক্ষতিকর বিষ টেস্টি সল্ট বাজারে বিক্রি হচ্ছে এবং দেশের জনগনের স্বাস্থ্যগত মারাত্মক ক্ষতি করে যাচ্ছে সেখানে শুধুমাত্র আইনের মধ্যে না পড়ায় সরকার থেকে কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছেনা।
বলাবাহুল্য, আমাদের সংবিধানে অনুচ্ছেদ নম্বর ১৫ এ বলা রয়েছে সরকার জনগনের খাদ্য চাহিদা নিশ্চিত করবে এবং ১৮-এ বলা রয়েছে - জনগণের পুষ্টির স্তর উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলিয়া গণ্য করিবেন। কিন্তু সরকার আজ সেখানে ব্যর্থ। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য নীতি-২০০৫-এ বিষাক্ত অথবা ক্ষতিকারক রাসায়নিকযুক্ত খাবার বিক্রি অথবা উৎপাদন বন্ধের জন্য বলা হয়েছে। আমদানি-রপ্তানি নীতি ২০০৬-এ সার্টিফিকেট এবং বিভিন্ন পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে। ১৯৫৯ সালের চঁৎব ঋড়ড়ফ ঙৎফরহধহপব কে পরির্বতন ও পরিবর্ধন করে যুগোপযোগী নতুন আইন ‘নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩’ সংসদে পাস হয়েছে। এই আইনে সর্বোচ্চ ৫ বছরের জেল ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তু এসবের কোনকিছু প্রয়োগ হচ্ছেনা। টেস্টি সল্টের মতো বিষ বাজারে অহরহ প্রচার ও প্রসার হয়ে নীরব ঘাতকের মতো জনগনের মানবদেহে প্রবেশ করছে।
উল্লেখ্য, জনস্বাস্থ্যের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরীর জন্য ক্যাম্পেইন করা সরকারের দায়িত্ব-কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। ইতোপূর্বে সরকার এডিস মশা, নিপা ভাইরাস, জিকা ভাইরাস, চিকুনগুনিয়া, পোলিও সম্পর্কে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্পেইন করেছে, সরকারি খরচে জনসচেতনতার ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু সরকার এই বিষ সদৃশ টেস্টি সল্টের বিরুদ্ধে কোন কার্যক্রম হাতে নিচ্ছেনা। যা অমানবিক। তাই সরকারের উচিত- অবিলম্বে স্বাস্থ্যে অন্যান্য ক্ষতিকর বিষয়ের এবং টেস্টি সল্ট বাজারে নিষিদ্ধ করা। টেস্টি সল্টের বিরুদ্ধে আলাদাভাবে সরকারি বাজেট বরাদ্দ করা, সতর্কতামূলক প্রচারণা চালানো। অন্যদিকে, যেসব মহল এই টেস্টি সল্ট দেশের মধ্যে উৎপাদন করছে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা। জনগণের কিডনী, স্নায়ুতন্ত্র, হার্ট, লিভার ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ রক্ষা করা তথা জনস্বাস্থ্য হেফাজত করা।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
অপসংস্কৃতি রোধ করতে হলে কথিত ফ্যাশন হাউজগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারত এবং পতিত আওয়ামীলীগ চাচ্ছে বাংলাদেশে তথাকথিত জঙ্গী তৎপরতা প্রমাণ করতে।
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়া শুরু করেছেন। বাতিল হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির’ সাথে ‘মহামান্য’ শব্দ ব্যবহারও।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় গত দশকগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বেতন, স্থায়ী খরচ এবং চলমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সামরিক আধুনিকায়ন, সমরাস্ত্র ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ২-৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমায় চললেই সে প্রজ্ঞা পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!!!!
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সরকারের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ কোটি টাকা
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












