ইতিহাস
মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক হিসেবে ‘কুস্তি’ লড়াইকে যেভাবে ধরে রেখেছিলো উসমানীয়রা
, ২৭ শা’বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ৩০ তাসি’, ১৩৯২ শামসী সন , ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রি:, ১৩ ফালগুন, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) ইতিহাস
উসমানীয় সালতানাতের সুলতানগণ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারকসমূহ পালন এবং তা সালতানাতের সব জায়গায় বাস্তবায়নের চেষ্টা করতেন। এমনই একটি সুন্নত মুবারক হলেন কুস্তি লড়া। আবু দাউদ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রোকনা পালোয়ানকে কুস্তিতে ধরাশায়ী করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
এই মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক পালনার্থে উসমানীয় সুলতানরা জাকজমকের সাথে প্রতি বছর কুস্তি প্রতিযোগীতার আয়োজন করতেন। এককথায়, কুস্তিকে পবিত্র সুন্নত মুবারক হিসেবে নিজেদের মধ্যে ধারন করে নিয়েছিলো উসমানীয়রা। উসমানীয়দের যারা পূর্বপুরুষ উনারাও কুস্তিতে অনেক পারদর্শী ছিলেন। উসমানীয় সুলতানরা এবং তুর্কি সম্পদশালী মুসলমানরা কুস্তিতে ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। উসমানীয়দের শাসনাধীন বলকান থেকে শুরু করে উত্তর আফ্রিকা এমনকি পবিত্র মক্কা শরীফ এবং পবিত্র মদীনা শরীফ উনার অঞ্চলসমূহেও কুস্তি প্রশিক্ষণালয় খুলেছিলেন উসমানীয় সুলতানরা। প্রতি সপ্তাহে জুমুয়াবার বিভিন্ন অঞ্চলের কুস্তিগীরদের সমন্বয়ে প্রতিযোগীতার আয়োজন হতো। উসমানীয় সুলতানরা বলতেন, জুমুয়ার দিন যেহেতু ঈদের দিন সেহেতু আমরা কুস্তির মাধ্যমে এবং পবিত্র ইবাদতের মাধ্যমে এ দিন অতিবাহিত করবো। সুলতানরা কুস্তিগীরদের প্রশিক্ষণের খরচ ও খাবারের খরচ বহন করতেন। উসমানীয় সুলতান সুলায়মান আল কানুনী তিনি উনার শাসনামলে কুস্তিগীরদের জন্য দৈনিক ভাতার ব্যবস্থা করেছিলেন।
উসমানীয় সুলতানদের মধ্যে কুস্তি বেশি পছন্দ করতেন আল্লাহওয়ালা সুলতান মুরাদ আল রাবি। শারিরিকভাবে তিনি অনেক শক্তিশালী ছিলেন এবং নিজেও একজন কুস্তিগীর ছিলেন। তিনি প্রায়ই উনার দরবারশালার পাশা, আগা এবং কমান্ডারদের সাথে কুস্তি লড়তেন।
কুস্তিগীরদের প্রশিক্ষনের জন্য সালতানাতের অঞ্চলসমূহে যেসব প্রশিক্ষনকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিলো সেগুলো ‘টেক্কা’ নামে পরিচিত ছিলো। এসব প্রশিক্ষন কেন্দ্রে যে শুধু কুস্তিই শেখানো হতো তাই নয় বরং তীরন্দাজিও শেখানো হতো। পাশাপাশি, কুস্তিগীররা যাতে চারিত্রিকভাবেও উত্তম হয়ে উঠতে পারেন সেজন্য প্রশিক্ষনকেন্দ্রগুলোতে উসমানীয় সুলতানরা সুফি আলেমগণ উনাদের নিয়োগ দিয়েছিলেন। সুফি আলেমগণ কুস্তিগীরদের সম্মানিত ইবাদত-বন্দেগীর বিষয়টি তদারকি করতেন এবং পর্যাপ্ত নসীহত মুবারক করতেন।
কুস্তিগীরদের জন্য একটি শপথবাক্য তৈরী করে দিয়েছিলেন সুলতান মুরাদ আল রাবি। সেটি হলো ‘ ইয়া আল্লাহ পাক, ইয়া আল্লাহ পাক। সমস্ত মাখলুকাতের মালিক আপনি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দয়া মুবারক উনার ছায়া আমাদের মাথার উপর। আমাদেরকে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার উছীলায় শক্তি মুবারক হাদিয়া করুন। আমিন!
পরবর্তীতে উসমানীয় সালতানাত হারিয়ে যাওয়ার পর অনেক উসমানীয় মুসলমান সংস্কৃতিও হারিয়ে যায়। কিন্তু এখনো হারিয়ে যায়নি কুস্তি। পবিত্র সুন্নত মুবারক হিসেবে এখনো তুরস্কের সংস্কৃতিতে কুস্তির অনেক গুরুত্ব। তুরস্কের বিভিন্ন শহরে এখনো বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে কুস্তির আয়োজন করা হয়। যা তৈল কুস্তি বা কিরকপিনার নামে অভিহিত করা হয়।
-মুহম্মদ শাহজালাল।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলিম নির্যাতনের প্রতিশোধ হিসেবে বাংলার সুলতান যেভাবে নেপাল বিজয় করেছিলেন
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আধুনিক কাগজ শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা মুসলমানগণই
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মাদরাসা প্রতিষ্ঠা নিয়ে ইতিহাসের আলোকে কিছু সংক্ষিপ্ত তথ্য
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
তাতারস্তানে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম এবং মুসলমানদের স্বর্ণালী ইতিহাস
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিধর্মীরা যতটুকু সভ্যতা পেয়েছে তা মুসলিম শাসনামলেই আর বর্বরোচিত প্রথাসমূহ বন্ধ করেছিলেন মুসলিম শাসকরাই
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৪)
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিখ্যাত মুসলিম পর্যটক ইবনে বতুতার বর্ণনায় বাংলাদেশ
০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
উপমহাদেশে ব্রিটিশবিরোধী সুফি, ফকীর-দরবেশ বিদ্রোহের ইতিকথা
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (২)
৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (২)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৩)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (১)
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












