ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত
ব্রিটিশ গুপ্তচরের স্বীকারোক্তি এবং ওহাবী মতবাদের নেপথ্যে ব্রিটিশ ভূমিকা (৩৯)
, ২৩ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৭ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৫ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ৩০ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) ইতিহাস
শয়তান যে মানুষকে নেক সুরতে ধোঁকা দেয়, এ বিষয়টি ভালভাবে অনুধাবন করেছিল শয়তানের অনুচর ইহুদী এবং খ্রিষ্টানরা। মুসলমানদের সোনালী যুগ এসেছিল শুধু ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণের ফলে। শয়তানের চর ইহুদী খ্রিষ্টানরা বুঝতে পেরেছিল মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ, অনৈক্য, সংঘাত সৃষ্টি করতে পারলেই ইসলামের জাগরণ এবং বিশ্বশক্তি হিসেবে মুসলমানদের উত্থান ঠেকানো যাবে। আর তা করতে হবে ইসলামের মধ্যে ইসলামের নামে নতুন মতবাদ প্রবেশ করিয়ে। শুরু হয় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা; যার মূলে থাকে খ্রিষ্টীয় ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ। জন্ম হয় ওহাবী মতবাদের। ওহাবী মতবাদ সৃষ্টির মূলে থাকে একজন ব্রিটিশ গুপ্তচর হেমপার। মিশর, ইরাক, ইরান, হেজাজ ও তুরস্কে তার গোয়েন্দা তৎপরতা চালায় মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার জন্য “Confession of British Spy and British enmity against Islam” গ্রন্থ হচ্ছে হেমপারের স্বীকারোক্তি মূলক রচনা। যা মূল গ্রন্থ থেকে ধারাবাহিকভাবে অনুবাদ প্রকাশ করা হবে। ইনশাআল্লাহ!
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
১০. সরকারী আমলাদের পাশে আমাদের নিজস্ব লোক বসাতে হবে এবং পর্যায়ক্রমে এ সকল লোকদের সচিব পর্যায়ে নিয়োগ দিতে হবে। যাদের মাধ্যমে আমরা আমাদের মন্ত্রণালয়ের অভিলাষগুলো পূরণ করবো। এ কাজ করার সহজ পদ্ধতি হচ্ছে দাস ব্যবসা অবলম্বন করা। প্রথমে আমাদের গুপ্তচরদের ভালভাবে প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং পরে তাদের দাস এবং রক্ষিতার ছদ্মবেশে পাঠাতে হবে। মুসলিম রাজন্যবর্গ বা আমলা স্থানীয় ব্যক্তিদের স্ত্রী, সন্তান এবং তাদের পরিচিত জনদের মাঝে এ সকল দাস বা রক্ষিতাদের বিক্রি করতে হবে। এভাবে যাদেরকে বিক্রি করা হবে তারা ধীরে ধীরে মালিকের হৃদয়ের কাছাকাছি পৌঁছবে এবং মুসলিম শাসকদের এমনভাবে ঘিরে থাকবে যেমন চুড়ি হাতের মধ্যে জড়িয়ে থাকে।
১১. আমাদের মিশনারী অঞ্চলের পরিধি বিস্তৃত করতে হবে যাতে সমাজের যে কোন শ্রেণী এবং পেশার লোকদের মধ্যে বিশেষত ওষুধ ব্যবসা, প্রকৌশল এবং হিসাব-নিকাশের কর্মকা-ে গভীরভাবে অনুপ্রবেশ করা যায়। আমাদের প্রকাশনা এবং প্রচারকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। চার্চ, স্কুল, হাসপাতাল, লাইব্রেরী, দাতব্য প্রতিষ্ঠানের নামের আড়ালে আমরা মুসলিম দেশগুলোতে আমাদের কর্মকা- চালিয়ে যাবো এবং যতদূর সম্ভব চতুর্দিকে এর বিস্তৃতি ঘটাতে হবে। বিনামূল্যে আমাদের লাখ লাখ খ্রিস্টান ধর্মের বই পুস্তক ছড়াতে হবে। ইসলামের ইতিহাসের পাশাপাশি আমাদের খ্রিষ্ট ধর্মের ইতিহাস এবং সরকারী আইন প্রকাশ করতে হবে। বিভিন্ন চার্চ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে পুরোহিত ও নান এর ছদ্মবেশে আমাদের এজেন্ট নিয়োগ দিতে হবে এবং ধর্মীয় আন্দোলনের নেতা হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। তারা একইসাথে ইসলাম জগতের সকল গতি প্রবাহ এবং আন্দোলনের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের রিপোর্ট করবে। তাছাড়া অধ্যাপক, বৈজ্ঞানিক এবং গবেষক ইত্যাদি নামের আড়ালে আমরা গড়ে তুলবো এক দল খ্রিস্টান বাহিনী যারা ইসলাসের বিকৃত বা নিশ্চিহ্ন করার তৎপরতা চালাবে। এরা ইসলামের জীবন পদ্ধতি, আচার-আচরণ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ সব আয়ত্ব করে ইসলামের বই-পুস্তক নষ্ট করবে এবং ইসলামী শিক্ষাকে নির্মূল করার চেষ্টা করবে।
১২. মুসলমান যুবক, বালক এবং মেয়েদের মনে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করতে হবে এবং ইসলামের ব্যাপারে তাদের মনে সন্দেহ জাগিয়ে তুলতে হবে। স্কুল, বই-পত্র, ম্যাগাজিন, খেলাধুলার ক্লাব গঠন, প্রকাশনা, সিনেমা, টেলিভিশন ইত্যাদির মাধ্যমে আমরা সম্পূর্ণরূপে তাদের অন্তর থেকে নৈতিক মূল্যবোধ সরিয়ে ফেলবো এবং আমাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এজেন্টরা এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। মুসলিম যুব সমাজকে ফাঁদে ফেলার জন্যে প্রয়োজনে গোপনে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে তার মাধ্যমে ইহুদী, খ্রিস্টান এবং অমুসলিম যুবকদের জ্ঞান দান এবং প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
১৩. গৃহযুদ্ধ এবং গণবিদ্রোহ সৃষ্টিকে উসকে দিতে হবে। মুসলমানদেরকে নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে ব্যস্ত রাখতে হবে। একইভাবে অমুসলিমদের সাথেও যুদ্ধে লিপ্ত রাখতে হবে যাতে তাদের শক্তি নষ্ট হয় এবং উন্নতি ও ঐক্য বজায় রাখা বাধাগ্রস্ত হয়। তাদের মানসিক উৎকর্ষতা এবং আর্থিক ক্ষমতার উৎস যেন সমূলে ধ্বংস হয়ে যায়। যুব ও কর্মশক্তিকে নষ্ট করে তাদের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের ব্যাপকতা সৃষ্টি করতে হবে।
১৪. তাদের অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে ক্ষতি সাধন করতে হবে। উপার্জনের সকল উৎস, কৃষি ক্ষেত্রে সেচ ব্যবস্থা, পানি সংযোগ এবং নদীর প্রবাহ এক কথায় সবকিছু নষ্ট করতে হবে। লোকজনদেরকে করতে হবে কর্মবিমুখ, অলস এবং ইবাদত-বন্দেগীর প্রতি অমনোযোগী। অলসদের জন্য খেলার মাঠ উন্মুক্ত করতে হবে। মাদক দ্রব্য এবং শরাব পান করাকে সহজতর করতে হবে।
দলীলসমৃদ্ধ, চমকপ্রদ এমন একটি কিতাব দেয়ায় আমি সচিবকে ধন্যবাদ না জানিয়ে পারলাম না।
লন্ডনে এক মাস থাকার পর মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে নির্দেশ দেয়া হলো ইরাকে গিয়ে নজদের ওহাবের সঙ্গে পুনরায় দেখা করতে। আমি যখন আমার মিশনে যাত্রা শুরু করবো তখন সচিব আমাকে বলেছিলো, “নজদের সেই ওহাবের ব্যাপারে কখনই উদাসীন থেকো না। এ যাবৎ গোয়েন্দাদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী বিষয়টি পুরোপুরি বোঝা গেছে যে, আমাদের উদ্দেশ্য চরিতার্থের জন্য ওহাবী নজদী অত্যন্ত উপযোগী গবেট প্রকৃতির এক লোক। ”
ভাষান্তর : আবুল বাশার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বিধর্মীরা যতটুকু সভ্যতা পেয়েছে তা মুসলিম শাসনামলেই আর বর্বরোচিত প্রথাসমূহ বন্ধ করেছিলেন মুসলিম শাসকরাই
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৪)
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিখ্যাত মুসলিম পর্যটক ইবনে বতুতার বর্ণনায় বাংলাদেশ
০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
উপমহাদেশে ব্রিটিশবিরোধী সুফি, ফকীর-দরবেশ বিদ্রোহের ইতিকথা
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (২)
৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (২)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৩)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (১)
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
শুধু স্পেন নয় ফিলিপাইনও ছিলো মুসলিম অধ্যুষিত, শাসিত বর্তমানে ফিলিপাইন হতে পারতো খ্রিস্টানের পরিবর্তে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ
২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুসলমানদের ক্ষমতা হারানোর কারণ: জ্ঞান চর্চা থেকে দূরে সরে আসা (২)
২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (২)
২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত ইসলামী ইতিহাসের স্বর্ণালী পুলিশ বিভাগের ইতিহাস (১)
১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












