ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত
ব্রিটিশ গুপ্তচরের স্বীকারোক্তি এবং ওহাবী মতবাদের নেপথ্যে ব্রিটিশ ভূমিকা (৩২)
, ২৬ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২২ রবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ০৬ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) ইতিহাস
শয়তান যে মানুষকে নেক সুরতে ধোঁকা দেয়, এ বিষয়টি ভালভাবে অনুধাবন করেছিল শয়তানের অনুচর ইহুদী এবং খ্রিষ্টানরা। মুসলমানদের সোনালী যুগ এসেছিল শুধু ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণের ফলে। শয়তানের চর ইহুদী খ্রিষ্টানরা বুঝতে পেরেছিল মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ, অনৈক্য, সংঘাত সৃষ্টি করতে পারলেই ইসলামের জাগরণ এবং বিশ্বশক্তি হিসেবে মুসলমানদের উত্থান ঠেকানো যাবে। আর তা করতে হবে ইসলামের মধ্যে ইসলামের নামে নতুন মতবাদ প্রবেশ করিয়ে। শুরু হয় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা; যার মূলে থাকে খ্রিষ্টীয় ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ। জন্ম হয় ওহাবী মতবাদের। ওহাবী মতবাদ সৃষ্টির মূলে থাকে একজন ব্রিটিশ গুপ্তচর হেমপার। মিশর, ইরাক, ইরান, হেজাজ ও তুরস্কে তার গোয়েন্দা তৎপরতা চালায় মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার জন্য “Confession of British Spy and British enmity against Islam” গ্রন্থ হচ্ছে হেমপারের স্বীকারোক্তি মূলক রচনা। যা মূল গ্রন্থ থেকে ধারাবাহিকভাবে অনুবাদ প্রকাশ করা হবে। ইনশাআল্লাহ!
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
(হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে, যে মহিলা (স্ত্রী) শরীয়তের পরিপূর্ণ অনুসরণ করেন, তিনি বেহেশতের এক নিয়ামত। অপরদিকে যে মহিলা তার নফসের অনুগত এবং শরীয়তের খিলাফ চলে কুফরী, শেরেকী করে সে শয়তানের রজ্জু বা রশি অর্থাৎ তার মাধ্যম দিয়ে শয়তান কুফরী, শেরেকী ও গুমরাহী ওয়াসওয়াসা দেয়।
মেয়ে জাতি শয়তানের আশ্রিতা এটা কাট্টা মিথ্যা কথা। এরকম কোন হাদীছ শরীফ নেই। গরীব অবিবাহিতা এবং বিধবা মহিলার ক্ষেত্রে তার পিতা তার ভরণ পোষণের দায়িত্ব নেবে। যদি তার পিতা না থাকে অথবা পিতা খুবই গরীব হয় তখন তার অন্য মাহরাম আত্মীয়গণ দায়িত্ব পালন করবে। যদি মাহরাম আত্মীয় না থাকে তবে খলীফা বা সরকারের তরফ থেকে ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে। একজন মুসলিম মহিলা কখনই জীবিকার জন্য বেপর্দা হয়ে কাজ করবে না। ইসলামী শরীয়াহ পুরুষের উপর মহিলার সকল দায়িত্ব ন্যাস্ত করেছে। সেদিক থেকে সম্পত্তির উত্তরাধিকার একমাত্র পুরুষদের জন্য নির্ধারিত হবার কথা ছিলো কিন্তু আল্লাহ রব্বুল আলামীন এত মহান যে তিনি ভাইয়ের অর্ধেক সম্পত্তি বোনদের জন্য নির্ধারিত করেছেন।
স্বামী তার স্ত্রীকে ঘরে বা বাইরে কোথাও উপার্জন করার জন্য বাধ্য করতে পারবে না। কিন্তু কোন মহিলা যদি কাজ করতে চায়, তার স্বামীর অনুমতিতে করতে পারবে তবে সম্পূর্ণ পর্দার মধ্যে থেকে এবং সেখানে কোন পুরুষের উপস্থিতি থাকতে পারবে না এবং এই ক্ষেত্রে উপার্জিত অর্থ স্ত্রীরই থাকবে। কেউ তার অর্জিত আয় এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি কিংবা মোহরানার অর্থ ছেড়ে দেবার জন্যে জোর খাটাতে পারবে না। এমনকি সে তার উপার্জনের টাকা ঘরের কিংবা ছেলে-মেয়ের প্রয়োজনেও খরচ করতে বাধ্য নয়।
স্বামীর জন্য ফরজ সংসারের সকল প্রয়োজন মেটানোর। আজকের কম্যুনিষ্ট শাসনে, নারী-পুরুষ সকলকে শুধু খাদ্যের প্রয়োজনে খাটতে হয়। খ্রিস্টান জগতে, তথাকথিত মুক্ত বিশ্বে এবং এমনকি কিছু নাম মাত্র মুসলিম দেশেও মহিলারা পুরুষের পাশাপাশি ক্ষেতে, খামারে, শিল্পে, কারখানায় কাজ করছে এই নীতিতে যে, জীবন সকলের জন্য সমান। যা কাট্টা হারাম। খবরের কাগজে প্রায়শই দেখা যায় বিবাহিত জীবনে তাদের অধিকাংশই সুখী নয় ফলে আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা স্তুপ হচ্ছে।
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা বর্ণনা করে গেছেন তা প্রধানত তিনভাগে বিভক্ত। (ক) প্রথমত ওহী। ওহী সরাসরি আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে নাযিলকৃত। ওহীসমূহ কুরআন মজিদে লিপিবদ্ধ হয়েছে। )
১৪। পানির অভাবে অপরিচ্ছন্নতা সৃষ্টি হয়। সেজন্য বিভিন্ন পর্যায়ে পানি সরবরাহ বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করতে চেষ্টা করবে।
মুসলমানদের শক্তিকে ধ্বংস করে দেবার জন্য বইটিতে নীচের মতামতগুলো প্রকাশ করা হয়েছে-
১. স্বগোত্রীয় প্রীতি এবং জাতিগত অহংকার সম্পর্কে মুসলমানদের উগ্র এবং অন্ধ স্বদেশ প্রেমে এমনভাবে উম্মাদ করতে হবে যাতে প্রাক ইসলামিক যুগের বীরত্বের প্রতি পুনঃ মনোনিবেশ করে। মিশরে ফিরআউনের যুগ, ইরানের ম্যাগী সময়কাল, ইরাকের ব্যাবিলনীয় সময়, অটোম্যানদের আঠিলা চেঙ্গিস যুগের অরাজক অবস্থা পুনঃজাগরিত হয়।
(তারা এ বিষয়ে একটা লম্বা তালিকা প্রণয়ন করেছে। )
২. গোপনে বা প্রকাশ্যে নীচের অপকর্মগুলো অবশ্যই করতে হবে। শরাব, জুয়া, ব্যাভিচার, শুকরের গোশত খাওয়া এবং খেলাধুলার দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা। এসব করতে গিয়ে মুসলিম দেশগুলোর খ্রিস্টান, ইহুদী, ম্যাগিয়ান এবং অন্যান্য অমুসলিমদের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজে লাগাতে হবে। আর এ কাজে যারা নিয়োজিত থাকবে তাদেরকে কমনওয়েলথ মন্ত্রণালয়ের কোষাগার থেকে বেশি পরিমাণ বেতন প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. জিহাদ সম্পর্কে তাদের মনে সংশয়ের বীজ বপন করতে হবে। তাদেরকে বুঝাতে হবে জিহাদ ছিলো একটা সাময়িক হুকুমমাত্র যা বর্তমানে অচল হয়ে গেছে।
৪. শিয়াদের মন থেকে এ ধারণা দূর করে দিতে হবে যে, কাফিররা মন্দ নয়। সেজন্যে পবিত্র কুরআন শরীফের আয়াত উদ্ধৃত করবে যেমন “আজ তোমাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করা হলো। আহলে কিতাবদের খাদ্য তোমাদের জন্য হালাল এবং তোমাদের খাদ্য তাদের জন্য হালাল। তোমাদের জন্যে হালাল সতী-সাধ্বী মুসলমান নারী এবং তাদের সতী-সাধ্বী নারী যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তোমাদের পূর্বে। ” (সূরা মায়িদা শরীফ, আয়াত শরীফ ৫)
ভাষান্তর : আবুল বাশার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
আমিরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার নৌবাহিনী গঠন এবং বিজিত এলাকার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত নিযামুদ্দিন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাজার শরীফ প্রাঙ্গণে বসন্ত পঞ্চমী উৎসবের বানোয়াট ইতিহাসের ব্যবচ্ছেদ
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অশ্লীল চিত্র দেখা ও তৈরিতে যে সমস্ত বিধর্মী রাষ্ট্র শীর্ষে...
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বিধর্মীদের কুকীর্তিগুলো লিখিত রূপ দেয়নি কোনো লেখক, ফলে তাদের অপকীর্তিগুলো মুসলমানদের জানার আড়ালেই থেকে যাচ্ছে
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিধর্মী-কাফির, মুশরিকরা কতবেশি বিদ্বেষ পোষণ করে তার একটি উদাহরণ
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্তমান মুসলিম দেশগুলোর বিধর্মীপ্রীতিতে মত্ত শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এক ছোট্ট কুটিরে খুঁজে পেলেন গরিব কিন্তু বেমেছাল তাক্বওয়াধারী এক পুত্রবধু
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ইলম মুবারক
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি অনন্য খুছুছিয়ত মুবারক আর বাবুল ইলমী শানে মহীয়ান
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (৪র্থ পর্ব)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (১৪)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (৩য় পর্ব)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












