ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত
ব্রিটিশ গুপ্তচরের স্বীকারোক্তি এবং ওহাবী মতবাদের নেপথ্যে ব্রিটিশ ভূমিকা (৩১)
, ১৯ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৫ রবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৮ ভাদ্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) ইতিহাস
শয়তান যে মানুষকে নেক সুরতে ধোঁকা দেয়, এ বিষয়টি ভালভাবে অনুধাবন করেছিল শয়তানের অনুচর ইহুদী এবং খ্রিষ্টানরা। মুসলমানদের সোনালী যুগ এসেছিল শুধু ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণের ফলে। শয়তানের চর ইহুদী খ্রিষ্টানরা বুঝতে পেরেছিল মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ, অনৈক্য, সংঘাত সৃষ্টি করতে পারলেই ইসলামের জাগরণ এবং বিশ্বশক্তি হিসেবে মুসলমানদের উত্থান ঠেকানো যাবে। আর তা করতে হবে ইসলামের মধ্যে ইসলামের নামে নতুন মতবাদ প্রবেশ করিয়ে। শুরু হয় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা; যার মূলে থাকে খ্রিষ্টীয় ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ। জন্ম হয় ওহাবী মতবাদের। ওহাবী মতবাদ সৃষ্টির মূলে থাকে একজন ব্রিটিশ গুপ্তচর হেমপার। মিশর, ইরাক, ইরান, হেজাজ ও তুরস্কে তার গোয়েন্দা তৎপরতা চালায় মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার জন্য “Confession of British Spy and British enmity against Islam” গ্রন্থ হচ্ছে হেমপারের স্বীকারোক্তি মূলক রচনা। যা মূল গ্রন্থ থেকে ধারাবাহিকভাবে অনুবাদ প্রকাশ করা হবে। ইনশাআল্লাহ!
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
৮। নিষ্ঠুরতাকে উৎসাহিত করার জন্য নিম্নোক্ত বক্তব্য দেবে।
(ক) ইসলাম হচ্ছে শুধু ইবাদতের ধর্ম।
(খ) রাষ্ট্রের ব্যাপারে ইসলামের কোন আগ্রহ নেই।
(গ) সে কারণে আখেরী রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং উনার খলীফাগণের কোন আইনমন্ত্রী ছিলো না।
(ইবাদত বলতে শুধু নামায, রোযা, হজ্জ বোঝায় না। দুনিয়াবী কাজে নিয়োজিত থাকাও ইবাদত কেননা তাও আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ তবে সেটা হতে হবে শরীয়ত মুতাবিক। ভাল কাজ করার মধ্যে প্রচুর সওয়াব নিহিত আছে।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন “মুসলমান নর ও নারীর জন্য ইল্ম হাছিল করা ফরয” অন্য এক হাদীছ শরীফে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন যারা কাজ করে এবং উপার্জন করে আল্লাহ্ পাক তাদের পছন্দ করেন। )
৯। এতসব ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের যে উপদেশ দেয়া হলো তা গ্রহণ করলে অর্থনৈতিক মন্দাভাব আসাটা একটা স্বাভাবিক ব্যাপার হবে। এ ছাড়াও আমরা ফসলের ক্ষয়ক্ষতি করে, বাণিজ্য জাহাজ ডুবিয়ে দিয়ে, বাজারে আগুন লাগিয়ে, বাধ, ব্রীজ ধ্বংস করে, ফসলের ক্ষেত সমান করে দিয়ে এবং পরিশেষে তাদের পানের উপযুক্ত পানিকে দূষিত করে আমরা আরও ক্ষতিকর কিছু কাজ যোগ করতে পারি।
(ব্রিটিশরা নিজেদের সভ্য বলে দাবি করে অথচ তাদের নৃশংসতা ও বর্বরতা সীমাহীন)
১০। প্রশাসনের লোকজনকে অবৈধ কার্যকলাপ, শরাব, জুয়া, দুর্নীতিতে অভ্যস্ত করাতে হবে এবং একেই কেন্দ্র করে গণবিক্ষোভ এবং চক্রান্ত সৃষ্টি করতে হবে। সরকারী সম্পদ তাদের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য এবং তাদেরকে তাদের ইচ্ছা মাফিক চলতে উৎসাহিত করতে হবে। যারা এভাবে আমাদের চলার পথ সুগম করবে তাদের পুরস্কৃত করতে হবে।
অতঃপর বইটিতে নীচের উপদেশগুলো যোগ করা হয়েছে। এ দায়িত্বে নিয়োজিত কোন ব্রিটিশ গোয়েন্দাকে প্রকাশ্যে বা গোপনে রক্ষা করতে হবে তবে কোন মুসলমান কর্তৃক কোন গোয়েন্দা আটক হলে তাকে উদ্ধারের জন্য কোন অর্থ ব্যয় করা যাবে না।
১১। সব ধরনের সুদ প্রথার প্রচলন ঘটাতে হবে। কারণ সুদ শুধু অর্থনীতির ক্ষতি করে না, মুসলমানদেরকে পবিত্র কুরআন শরীফের অনুশাসনের বিরোধিতা করতে শেখায়। কেও যদি একবার পবিত্র কুরআন শরীফের কোন অনুশাসন অমান্য করে তবে অন্য অনুশাসনগুলো অমান্য করতেও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তাদেরকে বোঝাতে হবে শুধু চক্র বৃদ্ধি হারে সুদ গ্রহণ করো না। সুতরাং সব ধরণের সুদ হারাম নয়।
১২। আলিমদের বিরুদ্ধে নৃশংসতার মিথ্যা অভিযোগ এবং কলঙ্ক ছড়াবে। এভাবে মুসলমানদেরকে তাদের কাছ থেকে দূরে রাখবে। আমরাও কিছু গুপ্তচরকে তাদের মধ্যে ছদ্মবেশে রেখে দিবো। তারাও কিছু জঘন্য কার্যকলাপ সম্পন্ন করবে। তখন আলিমদের সম্পর্কে লোকজন বিভ্রান্ত হয়ে পড়বে ফলে প্রত্যেককে সন্দেহের চোখে দেখা হবে।
আল আজহার, ইস্তাম্বুল, নাজাফ এবং কারবালায় এসব গুপ্তচরের প্রবেশ ঘটাতে হবে। আলেম বিরোধী মনোভাব তৈরীর জন্য আমরা স্কুল, কলেজ, চালু করবো। এসব স্কুলগুলোতে আর্মেনিয়ান, গ্রীক এবং বাইজ্যান্টাইন শিশুদের শিক্ষা দেবো আমরা। মুসলমান শিশুদের মধ্যে আমরা এই মনোভাব তৈরী করবো যে তাদের পূর্বপুরুষরা ছিলো অজ্ঞ। খলীফা, বিদ্ধানব্যক্তি, প্রশাসনিক লোকদের বিরুদ্ধে শত্রু মনোভাব সৃষ্টির লক্ষ্যে তাদের দোষ-ত্রুটিগুলো তুলে ধরবো এবং অভিযোগ তুলবো যে তারা শুধু ইন্দ্রীয় ভোগবিলাসে ব্যস্ত থাকে। তারা রক্ষিতা নিয়ে সময় কাটায়, জনসম্পদের অপব্যবহার করে এবং কোন কাজেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নতকে অনুসরণ করে না।
১৩। ইসলামে নারী ঘৃণার পাত্র এই মিথ্যা অপবাদ ছড়ানোর লক্ষ্যে পবিত্র কুরআন শরীফের এই আয়াত উদ্ধৃত করবে। “মেয়েদের উপর রয়েছে পুরুষের প্রাধান্য। ” (সূরা নিসা, আয়াত ৩৪)
এভাবে হাদীছের কথা বলবে যে, মেয়ে জাতি পুরোপুরি শয়তানের আশ্রিত। ”
ভাষান্তর : আবুল বাশার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
আমিরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার নৌবাহিনী গঠন এবং বিজিত এলাকার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত নিযামুদ্দিন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাজার শরীফ প্রাঙ্গণে বসন্ত পঞ্চমী উৎসবের বানোয়াট ইতিহাসের ব্যবচ্ছেদ
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অশ্লীল চিত্র দেখা ও তৈরিতে যে সমস্ত বিধর্মী রাষ্ট্র শীর্ষে...
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বিধর্মীদের কুকীর্তিগুলো লিখিত রূপ দেয়নি কোনো লেখক, ফলে তাদের অপকীর্তিগুলো মুসলমানদের জানার আড়ালেই থেকে যাচ্ছে
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিধর্মী-কাফির, মুশরিকরা কতবেশি বিদ্বেষ পোষণ করে তার একটি উদাহরণ
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্তমান মুসলিম দেশগুলোর বিধর্মীপ্রীতিতে মত্ত শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এক ছোট্ট কুটিরে খুঁজে পেলেন গরিব কিন্তু বেমেছাল তাক্বওয়াধারী এক পুত্রবধু
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ইলম মুবারক
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি অনন্য খুছুছিয়ত মুবারক আর বাবুল ইলমী শানে মহীয়ান
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (৪র্থ পর্ব)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (১৪)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (৩য় পর্ব)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












