ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত
ব্রিটিশ গুপ্তচরের স্বীকারোক্তি এবং ওহাবী মতবাদের নেপথ্যে ব্রিটিশ ভূমিকা (২৯)
, ২২ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৮ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৭ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ০২ ভাদ্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) ইতিহাস
শয়তান যে মানুষকে নেক সুরতে ধোঁকা দেয়, এ বিষয়টি ভালভাবে অনুধাবন করেছিল শয়তানের অনুচর ইহুদী এবং খ্রিষ্টানরা। মুসলমানদের সোনালী যুগ এসেছিল শুধু ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণের ফলে। শয়তানের চর ইহুদী খ্রিষ্টানরা বুঝতে পেরেছিল মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ, অনৈক্য, সংঘাত সৃষ্টি করতে পারলেই ইসলামের জাগরণ এবং বিশ্বশক্তি হিসেবে মুসলমানদের উত্থান ঠেকানো যাবে। আর তা করতে হবে ইসলামের মধ্যে ইসলামের নামে নতুন মতবাদ প্রবেশ করিয়ে। শুরু হয় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা; যার মূলে থাকে খ্রিষ্টীয় ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ। জন্ম হয় ওহাবী মতবাদের। ওহাবী মতবাদ সৃষ্টির মূলে থাকে একজন ব্রিটিশ গুপ্তচর হেমপার। মিশর, ইরাক, ইরান, হেজাজ ও তুরস্কে তার গোয়েন্দা তৎপরতা চালায় মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার জন্য ÒConfession of British Spy and British enmity against Islam গ্রন্থ হচ্ছে হেমপারের স্বীকারোক্তি মূলক রচনা। যা মূল গ্রন্থ থেকে ধারাবাহিকভাবে অনুবাদ প্রকাশ করা হবে। ইনশাআল্লাহ!
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
মূলতঃ তাছাউফই হচ্ছে ইসলামের মূল। আজকের সমাজে এতসব ফিৎনা ফাসাদের মূল কারণ হচ্ছে তাছাউফ বর্জিত সব শিক্ষা। তাছাউফের শিক্ষার ফলে মানুষের অন্তর থেকে দূর হয় অহংকার, হিংসা, ঈর্ষাপরায়ণতা, মিথ্যা, গীবত, লোভ এতসব বদ স্বভাবগুলো। আর অর্জিত হয় অল্পে তুষ্টি, ধৈর্য্য, সত্যবাদিতা, ন্যায় পরায়ণতা এসকল সৎস্বভাব।
মানুষ যদি ইসলামের এই মূল শিক্ষা তাছাউফের শিক্ষায় শিক্ষিত হয় তবে একজন মানুষ পৃথিবীর যে কোন কাজে যে কোন পদে অধিষ্ঠিত হোক না কেন সেই কাজ এবং সেই দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালিত হবে। কিন্তু তাছাউফের শিক্ষা ব্যতীত অন্য যত শিক্ষাই থাকুক না কেন তা মানুষের চরিত্র গঠন করে না; ফলে পৃথিবীতে দেখা দেয় অশান্তি, নৈরাজ্য, ফিৎনা-ফাসাদ, মারামারি ইত্যাদি। সুতরাং তাছাউফের শিক্ষা মানুষের মধ্যে অসচেতনতা বোধ তো তৈরী করেই না বরং তৈরী করে চরম পর্যায়ের সচেতনতা বোধ। )
(সেই বইতে লিপিবদ্ধ ছিলো)
৫। সম্রাটদের নিষ্ঠুরতা আর স্বৈরাচারী মনোভাব পোষণের জন্য লেলিয়ে দিবে। তার জন্যে মিথ্যাচার করবে; যথা: তোমরা পৃথিবীতে আল্লাহ পাক উনার ছায়াস্বরূপ। বস্তুত হযরত আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম, হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম, হযরত উছমান আলাইহিস সালাম, হযরত আলী আলাইহিস সালাম, সকল উমাইয়া এবং আব্বাসীয় খলীফাগণ তলোয়ার ও কেবল শক্তির বলে ক্ষমতা দখল করেছিলো এবং তারা প্রত্যেকেই ছিলেন একজন সর্ব ক্ষমতাধর। উদাহরণস্বরূপ বলবে, হযরত আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম, হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তরবারীর সাহায্যে ক্ষমতা পান এবং এজন্যে যারা তাকে মানেনি তাদের বাড়ীঘর জ্বালিয়ে দেন। এর মধ্যে হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম উনার বাড়ীও ছিলো। নাউযুবিল্লাহ!
(খুলাফায়ে রাশেদীন সম্পর্কিত উপরোক্ত বক্তব্য ও ইতিহাস শুধু অসত্যই নয় বরং কাট্টা কুফরীরও অন্তর্ভুক্ত। মূলতঃ সংক্ষিপ্ত সঠিক ইতিহাস হচ্ছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছাল শরীফের পর একদল আনছার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ একত্রিত হয়ে পরামর্শ করছিলেন পরবর্তী খলীফা মনোয়নের ব্যাপারে। উনারা পরামর্শ করছিলেন একজন মনোনীত হবেন আনছার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের পক্ষ থেকে আর একজন মনোনীত হবেন মুহাজির ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের পক্ষ থেকে।
এ কথা হযরত আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম উনার গোচরে আসলে তিনি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাদীছ শরীফের উদ্ধৃতি দেন যে, ‘খলিফা হবেন কুরাঈশদের পক্ষ থেকে’। অতঃপর আলোচনা শুরু হয় কুরাঈশ মুহাজির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের মধ্যে। হযরত আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম প্রস্তাব করেন হযরত আবু উবায়দা ইবনুল র্জারাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু অথবা হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালামকে খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য। কিন্তু হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম বলেন, আমাদের মধ্যে হযরত আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম সর্বোত্তম। কেননা আল্লাহ পাক স্বয়ং এক আয়াত শরীফে হযরত আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম উনার তিনটি প্রশংসা করেছেন। তিনি হযরত আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম উনার হাত মুবারকে বাইয়াত গ্রহণ করলেন এবং সাথে সাথে অন্যরাও বাইয়াত গ্রহণ করলেন।
হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার খলীফা হবার যোগ্যতা পূর্বেই হযরত আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম প্রকাশ করেছিলেন। তারপরেও তিনি যখন বেশ অসুস্থ তখন তিনি হযরত উছমান জুন নুরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে বলেন কাগজ কলম আনতে যেখানে তিনি লিখে যাবেন। উনার পরে কে খলীফার দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু নাম প্রকাশ করার পূর্বেই তিনি আবার স্বাভাবিকতা হারিয়ে ফেললেন এবং নাম প্রকাশ করতে পারেননি। কিন্তু ইতিমধ্যে হযরত উছমান জুন নুরাইন আলাইহিস সালাম সে কাগজে খলীফা হিসাবে হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার নাম মুবারক লিখে ফেলেন। পরবর্তীতে যখন হযরত আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম আবার কিছুটা সুস্থ হন তখন তিনি হযরত উছমান জুন নুরাইন আলাইহিস সালাম উনার কাছে জানতে চান কার নাম মুবারক লিখা হয়েছে। উত্তরে তিনি হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার নাম প্রকাশ করলে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন ও হযরত উছমান আলাইহিস সালাম উনার জন্য দুয়া করেন এবং জানান যে, হে হযরত উছমান আলাইহিস সালাম আপনি আমার অন্তরের কথাটাই লিখেছেন। এভাবে দ্বিতীয় খলীফা হিসাবে হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি মনোনীত হন। )
ভাষান্তর : আবুল বাশার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বিধর্মীরা যতটুকু সভ্যতা পেয়েছে তা মুসলিম শাসনামলেই আর বর্বরোচিত প্রথাসমূহ বন্ধ করেছিলেন মুসলিম শাসকরাই
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৪)
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিখ্যাত মুসলিম পর্যটক ইবনে বতুতার বর্ণনায় বাংলাদেশ
০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
উপমহাদেশে ব্রিটিশবিরোধী সুফি, ফকীর-দরবেশ বিদ্রোহের ইতিকথা
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (২)
৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (২)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৩)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (১)
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
শুধু স্পেন নয় ফিলিপাইনও ছিলো মুসলিম অধ্যুষিত, শাসিত বর্তমানে ফিলিপাইন হতে পারতো খ্রিস্টানের পরিবর্তে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ
২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুসলমানদের ক্ষমতা হারানোর কারণ: জ্ঞান চর্চা থেকে দূরে সরে আসা (২)
২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (২)
২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত ইসলামী ইতিহাসের স্বর্ণালী পুলিশ বিভাগের ইতিহাস (১)
১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












