ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত
ব্রিটিশ গুপ্তচরের স্বীকারোক্তি এবং ওহাবী মতবাদের নেপথ্যে ব্রিটিশ ভূমিকা (১৩)
, ০৭ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) ইতিহাস
শয়তান যে মানুষকে নেক সুরতে ধোঁকা দেয়, এ বিষয়টি ভালভাবে অনুধাবন করেছিল শয়তানের অনুচর ইহুদী এবং খ্রিষ্টানরা। মুসলমানদের সোনালী যুগ এসেছিল শুধু ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণের ফলে। শয়তানের চর ইহুদী খ্রিষ্টানরা বুঝতে পেরেছিল মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ, অনৈক্য, সংঘাত সৃষ্টি করতে পারলেই ইসলামের জাগরণ এবং বিশ্বশক্তি হিসেবে মুসলমানদের উত্থান ঠেকানো যাবে। আর তা করতে হবে ইসলামের মধ্যে ইসলামের নামে নতুন মতবাদ প্রবেশ করিয়ে। শুরু হয় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা; যার মূলে থাকে খ্রিষ্টীয় ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ। জন্ম হয় ওহাবী মতবাদের। ওহাবী মতবাদ সৃষ্টির মূলে থাকে একজন ব্রিটিশ গুপ্তচর হেমপার। মিশর, ইরাক, ইরান, হেজাজ ও তুরস্কে তার গোয়েন্দা তৎপরতা চালায় মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার জন্য “Confession of British Spy and British enmity against Islam” গ্রন্থ হচ্ছে হেমপারের স্বীকারোক্তি মূলক রচনা। যা মূল গ্রন্থ থেকে ধারাবাহিকভাবে অনুবাদ প্রকাশ করা হবে। ইনশাআল্লাহ!
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
আমি নজদের মুহম্মদ বিন আব্দুল ওহাবের সাথে খুব সখ্যতা গড়ে তুললাম এবং চতুর্দিকে তার প্রশংসা করতে লাগলাম।
একদিন তাকে বললাম, “তুমি ওমর আলাইহিস সালাম এবং আলী আলাইহিস সালাম উনার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। যদি এখন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পৃথিবীতে থাকতেন তবে তিনি তোমাকে খলীফা হিসেবে নিযুক্ত করতেন।
আমি আশা করি তোমার হাতে ইসলামের পুনঃসংস্কার এবং উন্নতি ঘটবে। তুমিই একমাত্র জ্ঞানী ব্যক্তি, যে সারাবিশ্বে ইসলামকে ছড়িয়ে দেবে।
কুরআন শরীফের একটা নতুন ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য আব্দুল ওহাবের পুত্র মুহম্মদ এবং আমি পরিকল্পনা নিলাম। যে ব্যাখ্যাতে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটবে এবং যা হবে সম্পূর্ণভাবে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, মাযহাবের ইমাম এবং মুফাস্সিরগণের ব্যাখ্যার বিপরীত। আমরা তখন তাফসীর করতে লাগলাম এবং কিছু আয়াত শরীফের নতুন ব্যাখ্যা প্রদান করতে লাগলাম।
আমার উদ্দেশ্য ছিলো এভাবে নজদের মুহম্মদকে বিভ্রান্ত করা। যেহেতু সে তখন নিজেকে একজন বিপ্লবী হিসেবে প্রকাশ করতে চেষ্টা করে যাচ্ছিলো। ফলে সহজেই সে আমার চিন্তাভাবনাগুলোকে আনন্দের সাথে গ্রহণ করলো। যাতে সব ব্যাপারে সে আমার আস্থাভাজন হতে পারে।
একদিন সুযোগ মতো তাকে বললাম, “জিহাদ করা ফরয নয়। ” সে প্রতিবাদ করলো। বললো, “তা কি করে হয়। যেখানে আল্লাহ পাক বলেছেন, “কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করুন। ” (সূরা তওবা শরীফ-৭৩)
আমি বললাম, “তাহলে কেন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন না। আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “জিহাদ ঘোষণা করুন কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে। ”
[অপরদিকে মাওয়াহিবু লাদুন্নিয়া’-এ লিখা আছে যে, কাফিরদের বিরুদ্ধে ২৭টি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিলো। জিহাদে ব্যবহৃত সে সব তরবারী এখন ইস্তাম্বুল যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। মুনাফিকরা মুসলমান হিসেবে ভান করতো, তারা মসজিদে নববীতে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে নামায আদায় করতো। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জানতেন তারা মুনাফিক, তথাপি তিনি কাউকে বলেননি ‘তুমি মুনাফিক। ’ যদি তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেন তাহলে লোকে বলতো, যারা নবী উনার উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে তিনি তাদেরই হত্যা করেছেন। তাই এদের বিরুদ্ধে তিনি মৌখিকভাবে জিহাদ করেছেন। জিহাদ ফরয। এটা হতে পারে দৈহিকভাবে। অথবা সম্পদের মাধ্যমে অথবা বক্তৃতার মাধ্যমে। উপরের আয়াত শরীফে কাফিরদের বিরুদ্ধেই জিহাদ করার হুকুম দেয়া হয়েছে। এই আয়াত শরীফে নির্দিষ্ট বলা হয়নি কোন ধরনের জিহাদ করতে হবে। কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাই জিহাদ। আর মুনাফিকদের বেলায় জিহাদ করতে হয় ধর্মোপদেশ ও প্রচারের মাধ্যমে। এই আয়াত শরীফে উভয় জিহাদের কথাই ব্যক্ত হয়েছে। -এম সিদ্দিক গূমুজ। ]
মুহম্মদ বিন আব্দুল ওহাব বললো, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছেন উপদেশের মাধ্যমে। আমি বললাম, “জিহাদ যদি ফরযই হবে তাহলে মৌখিকভাবে বললেই কেন হবে?”
সে বললো, “হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তো অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধেও যুদ্ধও করেছেন। ”
আমি বললাম, “হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন আত্মরক্ষার জন্যে। কেননা, কাফিররা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করতে চেয়েছিলো। ”
সে সম্মতি প্রকাশ করলো। অন্য এক সময় বললাম, “মুতা বিবাহ শরীয়ত সম্মত। ”
(মুতা বিবাহ হচ্ছে একজন পুরুষ ও একজন নারীর মধ্যে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মিলিত হবার চুক্তি। ইসলামে এ ধরনের বিবাহ নিষিদ্ধ। ) সে প্রতিবাদ করলো, “না তা নয়। ”
আমি তাদের একজনকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করলে এ ব্যাপারে সাহায্য করতে সম্মতি প্রকাশ করে। আমি তার নাম দিলাম ‘সাফিয়া। ’ আমি নজদের মুহম্মদকে সাফিয়ার বাসায় নিয়ে গেলাম। সে তখন বাসায় একা ছিলো। আমরা এক সপ্তাহের জন্য নজদের মুহম্মদের সাথে বিবাহ্ চুক্তি করলাম এবং সে সাফিয়াকে মোহরানা বাবদ কিছু স্বর্ণ প্রদান করলো। এভাবে নজদের মুহম্মদকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিলাম। সাফিয়া ভেতরে থাকে এবং আমি বাইরে থাকি। নজদের মুহম্মদ এখন পুরোপুরিভাবে সাফিয়ার হাতের মুঠোয় চলে গেলো এবং ইজতিহাদ ও স্বাধীন মতাদর্শের নামে শরীয়তের হুকুম-আহকাম অমান্য করার স্বাদ উপভোগ করলো।
ভাষান্তর : আবুল বাশার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলিম নির্যাতনের প্রতিশোধ হিসেবে বাংলার সুলতান যেভাবে নেপাল বিজয় করেছিলেন
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আধুনিক কাগজ শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা মুসলমানগণই
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মাদরাসা প্রতিষ্ঠা নিয়ে ইতিহাসের আলোকে কিছু সংক্ষিপ্ত তথ্য
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
তাতারস্তানে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম এবং মুসলমানদের স্বর্ণালী ইতিহাস
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিধর্মীরা যতটুকু সভ্যতা পেয়েছে তা মুসলিম শাসনামলেই আর বর্বরোচিত প্রথাসমূহ বন্ধ করেছিলেন মুসলিম শাসকরাই
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৪)
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিখ্যাত মুসলিম পর্যটক ইবনে বতুতার বর্ণনায় বাংলাদেশ
০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
উপমহাদেশে ব্রিটিশবিরোধী সুফি, ফকীর-দরবেশ বিদ্রোহের ইতিকথা
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (২)
৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (২)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৩)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (১)
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












