ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত
ব্রিটিশ গুপ্তচরের স্বীকারোক্তি এবং ওহাবী মতবাদের নেপথ্যে ব্রিটিশ ভূমিকা (১২)
, ২৯ শা’বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২ আশির, ১৩৯২ শামসী সন , ১ মার্চ, ২০২৫ খ্রি:, ১৫ ফালগুন, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) ইতিহাস
শয়তান যে মানুষকে নেক সুরতে ধোঁকা দেয়, এ বিষয়টি ভালভাবে অনুধাবন করেছিল শয়তানের অনুচর ইহুদী এবং খ্রিষ্টানরা। মুসলমানদের সোনালী যুগ এসেছিল শুধু ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণের ফলে। শয়তানের চর ইহুদী খ্রিষ্টানরা বুঝতে পেরেছিল মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ, অনৈক্য, সংঘাত সৃষ্টি করতে পারলেই ইসলামের জাগরণ এবং বিশ্বশক্তি হিসেবে মুসলমানদের উত্থান ঠেকানো যাবে। আর তা করতে হবে ইসলামের মধ্যে ইসলামের নামে নতুন মতবাদ প্রবেশ করিয়ে। শুরু হয় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা; যার মূলে থাকে খ্রিষ্টীয় ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ। জন্ম হয় ওহাবী মতবাদের। ওহাবী মতবাদ সৃষ্টির মূলে থাকে একজন ব্রিটিশ গুপ্তচর হেমপার। মিশর, ইরাক, ইরান, হেজাজ ও তুরস্কে তার গোয়েন্দা তৎপরতা চালায় মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার জন্য ÒConfession of British Spy and British enmity against Islam”গ্রন্থ হচ্ছে হেমপারের স্বীকারোক্তি মূলক রচনা। যা মূল গ্রন্থ থেকে ধারাবাহিকভাবে অনুবাদ প্রকাশ করা হবে। ইনশাআল্লাহ!
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
[আমি যখন হেমপারের এই যবানবন্দী তুর্কী ভাষায় অনুবাদ করছিলাম, তখন আমি হাইস্কুলের শিক্ষক। ক্লাসে পড়াবার সময় এক ছাত্র প্রশ্ন করলো, “স্যার! একজন মুসলমান যদি ধর্মযুদ্ধে নিহত হয় সে কি শহীদ হবে?” বললাম, “হ্যাঁ, হবে। ” “হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি বলেছেন একথা?” বললাম, “হ্যাঁ, বলেছেন। ” “সমুদ্রে ডুবে মরলেও কি শহীদ হবে?” জবাব দিলাম, “হ্যাঁ হবে। বরং এ ক্ষেত্রে সে বেশী ছওয়াব পাবে। ” ছেলেটি তখন জিজ্ঞস করলো, “এরোপ্লেন থেকে পড়লেও কি শহীদ হয়?” বললাম, “হ্যাঁ হয়। ” “আমাদের নবীও কি তাই বলেছেন?” উত্তরে আমি হ্যাঁ বলতেই ছেলেটি মুচকী হাসলো। বললো, “স্যার! সে সময়তো এরোপ্লেন ছিলোনা। ” তার প্রতি আমার উত্তর ছিল এরকম। শোন, “আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রয়েছে ৯৯টি লক্বব মুবারক। প্রতিটি নাম মুবারকে রয়েছে অপূর্ব গুণের প্রকাশ। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একটি নাম মুবারক হচ্ছে, ‘জামিউল কালিম। ’ তিনি এক শব্দে অনেক কিছু ব্যাখ্যা করেছেন। যেমন, যে উঁচু স্থান থেকে পতিত হয় সে শহীদ হিসেবে পরিগণিত হয়। ” ছেলেটি আমার জবাব শ্রদ্ধার সাথে মেনে নিলো।
একইভাবে কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফে এমন কিছু শব্দ, নীতি, আদেশ, নিষেধ রয়েছে যার প্রতিটির একাধিক অর্থ রয়েছে। গবেষণা করে প্রতিটি শব্দের অর্থ অনুসন্ধান করে সঠিক জায়গায় সঠিক অর্থ প্রয়োগকে বলা হয় ইজতিহাদ।
ইজতিহাদের জন্য প্রয়োজন হয় গভীর জ্ঞানের। এই কারণে সুন্নী সম্প্রদায় ধর্মীয় জ্ঞানে অজ্ঞ লোকদের ইজতিহাদ করা থেকে বিরত রাখতে চান। এর মানে এই নয় যে, ইজতিহাদ করা থেকে বিরত রাখা।
হিজরী চতুর্থ শতাব্দীর পর এমন কোন জ্ঞানী ব্যক্তি জ্ঞানের এমন কোন উচ্চ আসনে পৌঁছেননি যে, স্বয়ং সম্পূর্ণ ইজতিহাদ করতে পারেন এবং প্রকারান্তরে মুতলাক ইজতিহাদের দ্বাররুদ্ধ হয়ে পড়েছে। দুনিয়ার শেষ সময়ে হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালাম নেমে আসবেন এবং ইসলামের প্রত্যাশিত বীর হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস্ সালাম উনার আবির্ভাব ঘটবে এবং উনারাই মুতলাক ইজতিহাদ সম্পন্ন করবেন।
আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমার পর আমার উম্মতের মধ্যে ৭৩টি দলে বিভক্ত হয়ে পড়বে। তাদের মধ্যে একটি দল হবে জান্নাতী। ” যখন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সুওয়াল করা হলো, “কোন সে দল?” জবাবে তিনি বললেন, যারা আমাকে এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের অনুসরণ করবে তারা। ”
অন্য হাদীছ শরীফে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমার ছাহাবায়ে কিরামগণ আকাশের তারকা সদৃশ্য। তোমরা যে কোন একজনের অনুসরণ করলে হিদায়েত পেয়ে যাবে। ”
তিনি অন্যভাবেও বলেছেন, “তাতেই তোমরা বেহেশতে যাবার রাস্তা খুঁজে পাবে।
আব্দুল্লাহ বিন সাবা নামের এক ইয়েমিনী ইহুদী মুসলমানদের মধ্যে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের সম্পর্কে বিদ্বেষ জাগিয়ে তোলে। যে সব অজ্ঞ লোক এই ইহুদীর কথায় আস্থা স্থাপন করে তাদেরকেই বলা হয় শিয়া। আর যে সব লোক হাদীছ শরীফ মেনে চলে এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের ভালবাসে ও উনাদের অনুসরণ করে তাঁরাই সুন্নী বলে পরিচিত।
-এম. সিদ্দিক গূমুজ]
(হেম্পারের জবানবন্দির তুর্কী অনুবাদ এবং লেখক এম. সিদ্দিক গূমূজের ব্যাখ্যা মিলিয়ে একটি বই প্রকাশিত হয়। আমরা সেই বইয়ের ইংরেজী অনুবাদ থেকে বাংলায় অনুবাদ প্রকাশ করছি। গত সংখ্যার বন্ধনীর লেখা থেকে এ সংখ্যার বন্ধনীর মধ্যস্থিত লেখা হচ্ছে এম. সিদ্দিক গূমূজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা। )
ভাষান্তর : আবুল বাশার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলিম নির্যাতনের প্রতিশোধ হিসেবে বাংলার সুলতান যেভাবে নেপাল বিজয় করেছিলেন
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আধুনিক কাগজ শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা মুসলমানগণই
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মাদরাসা প্রতিষ্ঠা নিয়ে ইতিহাসের আলোকে কিছু সংক্ষিপ্ত তথ্য
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
তাতারস্তানে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম এবং মুসলমানদের স্বর্ণালী ইতিহাস
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিধর্মীরা যতটুকু সভ্যতা পেয়েছে তা মুসলিম শাসনামলেই আর বর্বরোচিত প্রথাসমূহ বন্ধ করেছিলেন মুসলিম শাসকরাই
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৪)
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিখ্যাত মুসলিম পর্যটক ইবনে বতুতার বর্ণনায় বাংলাদেশ
০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
উপমহাদেশে ব্রিটিশবিরোধী সুফি, ফকীর-দরবেশ বিদ্রোহের ইতিকথা
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (২)
৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (২)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৩)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (১)
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












