ইমারত নির্মাণে কড়াকড়ি:
অমান্য করলেই কাটা পড়বে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি
, ১৮ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৩ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ১৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) বিশেষ প্রতিবেদন
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন নগরীতে বিধিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবন নির্মাণ করলে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানিসহ সব ধরনের ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বিধিমালাবহির্ভূত নির্মাণকাজ ঠেকাতে ভবন পরিদর্শন ও উচ্ছেদ অভিযান জোরদার করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে দেশের বিভিন্ন নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলো।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের গত আগস্ট মাসের দপ্তর ও সংস্থাগুলোর সমন্বয় সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। গত ১৯ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. ওবায়দুল রহমান। সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলি জানা গেছে।
মন্ত্রণালয়ের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নকশাবহির্ভূত বা অবৈধ ভবনে অভিযান পরিচালনার পর চিহ্নিত ত্রুটিগুলো অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী আদৌ সংশোধন করা হয়েছে কি না- তা নিয়মিত তদারকি করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে। একই সঙ্গে সব উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে ভবন পরিদর্শনের সার্বিক সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে পূর্ববর্তী মাসের তুলনায় চলতি মাসে কতটি ভবন পরিদর্শন করা হয়েছে, তার তুলনামূলক চিত্র ছক আকারে প্রতি মাসে জমা দিতে হবে।
এছাড়া, তদারকির গতি বাড়াতে ইমারত পরিদর্শকের শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিদর্শকদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিতে তাদের নির্দিষ্ট এলাকা ও ভবন চিহ্নিত করে দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হবে।
ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ:
বিধিমালা লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে মন্ত্রণালয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবন নির্মাণ করলে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ভবনের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানিসহ সব ধরনের ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। এই নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষসহ (জাগৃক) দেশের সব উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভবন তদারকি জোরদার করতে ইমারত পরিদর্শকের শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত পরিদর্শকদের সুনির্দিষ্ট ভবন ও এলাকার দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হবে। এছাড়া, অবৈধ ভবনে অভিযান পরিচালনার পর অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ত্রুটিগুলো সংশোধন করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাকে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। বিধিমালা না মেনে ভবন নির্মাণ রোধে জনসচেতনতা বাড়াতে ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি এ সংক্রান্ত কাজের তথ্যও মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
নতুন সংস্থা কার্যকর ও জনবল নিয়োগের সিদ্ধান্ত:
সভায় নবগঠিত ছয়টি নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ভবন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিবিআরএ) এবং বাংলাদেশ স্থাপত্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিইএসআরআই) দ্রুত কার্যকর করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, অনতিবিলম্বে এসব নতুন প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষের সাংগঠনিক কাঠামো এবং নিয়োগ বিধিমালা অনুমোদন করে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা নিতে হবে।
উক্ত সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য নবগঠিত ছয়টি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা-১ ও ২-এর যুগ্মসচিব এবং বিইএসআরআই-এর বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্যসচিবকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
অকুপেন্সি সার্টিফিকেট গ্রহণ বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ:
সব ভবন মালিক যাতে শতভাগ ‘অকুপেন্সি সার্টিফিকেট’ (বসবাস বা ব্যবহার উপযোগী সনদ) গ্রহণ করেন, তা নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে সভায়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভবনের নকশা অনুমোদনের পত্রেই অকুপেন্সি সার্টিফিকেট সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় শর্ত যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি তদারকি বাড়াতে প্রতি মাসে প্রদান করা সনদের সংখ্যা ছক আকারে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন হিসেবে জমা দিতে হবে, যেখানে পূর্ববর্তী মাসের সঙ্গে একটি তুলনামূলক চিত্র থাকবে।
সব উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে অনলাইনে ভবন নকশা অনুমোদনের কার্যক্রম চালুর নির্দেশ:
ভবন নির্মাণকাজ শেষে এই সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উক্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা-২, ৩ ও ৪-এর উপসচিব এবং সব উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
জমির রেকর্ড ও নামজারি দ্রুত সম্পন্নের নির্দেশ:
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব দপ্তর ও সংস্থার মালিকানাধীন জমির গেজেট প্রকাশ, দখল নিশ্চিতকরণ এবং নামজারি দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সভায়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি দপ্তর ও সংস্থাকে নিজ নিজ মালিকানাধীন সব জমির নামজারি ও রেকর্ডভুক্তির কাজ অনতিবিলম্বে শেষ করতে হবে। কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য প্রতি মাসে কতটুকু জমির নামজারি ও রেকর্ড সম্পন্ন হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট বিবরণ ছক আকারে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন হিসেবে পেশ করতে হবে। মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব দপ্তর ও সংস্থাকে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নূরদ দারাজাত মুবারকে আরজি- আমার আহলিয়াকে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মহান আল্লাহ পাক যেন উনার অশেষ রহমতে আহলিয়া ও অনাগত সন্তানকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখেন, অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করেন এবং মা ও সন্তানকে সুস্থতার সাথে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন এই আরজু করছি।
মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মাদরাসা শিক্ষার উপর ভিত্তি করেই ছড়িয়েছে জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলো।
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ডিপি ওয়ার্ল্ড চুক্তিতে দেশের স্বার্থ যেভাবে বিকিয়ে দেয়া হয়েছে (৪)
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ডিপি ওয়ার্ল্ড চুক্তিতে দেশের স্বার্থ যেভাবে বিকিয়ে দেয়া হয়েছে (৩)
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
* আমার অভিভাবক তো আল্লাহ পাক, যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তিনিই সৎকর্ম পরায়ণদের অভিভাবকত্ব করে থাকেন। আল্লাহ পাক ব্যতীত তোমরা যাকে আহবান করো তারা তো তোমাদেরকে সাহায্য করতে পারে না এবং তাদের নিজেদেরকেও না। যদি তাদেরকে সৎপথে আহ্বান করেন তবে তারা শ্রবণ করবে না এবং আপনি দেখতে পাবেন যে, তারা আপনার দিকে তাকিয়ে আছে কিন্তু তারা দেখে না’। (পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ : ৭/১৯৪-১৯৮)।
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
জনঅসন্তোষের আগুনে ঘি ঢালার শামিল
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ধর্মব্যবসায়ী ও বিধর্মীদেরকে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো থেকে অপসারণ জরুরী
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সমসাময়িক ঘটনা
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্ভ্রমহরণে শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ, কিশোর আটক
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
অন্যান্য দেশে উড়াল সেতু ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে; আর বাংলাদেশ সরকার ফ্লাইওভার তৈরি করছে
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পানির জন্য ভারতের মুখাপেক্ষী হওয়ার প্রয়োজন নেই:
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
যত্রতত্র পূজা মন্ডপ কেন?
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুসলমানদের উপর কাফিরদের নির্যাতনের কারণ উদঘাটন
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












