জীবনী মুবারক
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৫ম পর্ব)
পবিত্র বিলাদত শরীফ: (তারিখ উল্লেখ নেই) পবিত্র বিছাল শরীফ: হিজরী ৩৮ সন (৬৫৭ খ্রি:)
, ১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত
ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাদের সাথে সাক্ষাত:
অতঃপর হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, আগে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিরকা মুবারকটি দিন, তারপর দোয়া করবো। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র খিরকা মুবারকটি প্রদান করলে হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি তা গ্রহণ করে বললেন, একটু অপেক্ষা করুন। এই বলে তিনি সিজদায় গিয়ে বললেন, আয় বারে ইলাহী! যেহেতু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এটি আমাকে দান করেছেন, যে পর্যন্ত উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সকলকে আপনি মাফ না করেন, সে পর্যন্ত আমি এই পবিত্র খিরকা মুবারক পরবো না।
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনারা উনাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন আপনার কাজ বাকী রয়েছে। আওয়াজ হলো, আপনার দোয়ার ওছীলায় কিছু সংখ্যক লোককে মাফ করবো। হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, যে পর্যন্ত সকলকে মাফ করা না হবে, সে পর্যন্ত আপনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই পবিত্র খিরকা মুবারক আমি পরিধান করবো না। আওয়াজ হলো, কয়েক হাজার লোককে মাফ করা হলো।
হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি সিজদায় থেকে এইরূপ আলাপে রত ছিলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার সম্মুখে উপস্থিত হন। হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি জিজ্ঞাসা করলেন, আপনারা এখানে কেন এসেছেন? যে পর্যন্ত সমস্ত উম্মতকে মাফ করা না হবে, সে পর্যন্ত এই পবিত্র খিরকা মুবারক আমি পরবো না। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পরনের কম্বলের দিকে নজর করলেন এবং তাতে ১৮ হাজার আলমের ধন-দৌলত দেখে এতই বিস্মিত ও অভিভূত হলেন যে, খিলাফতের প্রতি উনার ঘৃণার উদ্রেক হলো। তিনি বলে উঠলেন, এমন কেউ কি আছে, যে এক টুকরা রুটির বদলে খিলাফত ক্রয় করবে? হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, যার বুদ্ধি নেই সে ব্যক্তি তা ক্রয় করবে। দূরে ফেলে দিন, যার ইচ্ছা হয় কুড়িয়ে নিক। বেচা-কেনার কি প্রয়োজন?
অতঃপর হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি খিরকা মুবারক পরিধান করে বললেন, আয় বারে ইলাহী! এই খিরকা মুবারক উনার তোফায়েলে রাবী‘য়া ও মুদ্বার গোত্রদ্বয়ের ছাগ পালসমূহের লোমরাশির অনুরূপ উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে ক্ষমা করে দিন। (প্রকাশ থাকে যে ঐতিহাসিকদের মতে সেই সময়ে এই উভয় গোত্রের কারো ছাগপালের সংখ্যা বিশ হাজারের কম ছিল না।)
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সব কথা শুনে চুপ করে রইলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, হে উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি! আপনি কেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে সাক্ষাত করেননি? উত্তরে তিনি বললেন, আপনারা তো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেছেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি হাঁ বললে, হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, সম্ভবতঃ আপনারা উনার জুব্বা মুবারকও দেখেছেন।
এরপর তিনি বললেন, আপনারা কি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বতকারী? উনারা উত্তরে হ্যাঁ বললে, হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, যদি আপনারা উনার প্রকৃত মুহব্বতকারী হতেন, তাহলে শত্রুরা যেদিন উনার মহাপবিত্র নূরুল্লাহ বা দাঁত মুবারক শহীদ করে, সেদিন কেন আপনারা নিজেদের দাঁত ভেঙ্গে ফেললেন না? অতঃপর তিনি নিজ দাঁতগুলো উনাদেরকে দেখালেন। উনার সব কয়টি দাঁতই ভাঙ্গা ছিলো। তিনি বললেন, আমি চর্মচক্ষে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে না দেখেই নিজের দাঁতগুলি ভেঙ্গে ফেলেছি। কেননা, আমি যখন একটি দাঁত ভাঙ্গলাম, মনে সন্দেহ হলো, হয়তবা উনার অন্য দাঁত মুবারক শহীদ হয়েছে। এভাবে একে একে সমস্ত দাঁতই ভেঙ্গে ফেললাম।
এ কথা শুনে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাদের শরীর মুবারক কেঁপে উঠলো। উনারা বুঝতে পারলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুহব্বত বেমেছাল। তখন উনারা পরস্পর বলাবলি করতে লাগলেন, ইনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেননি, অথচ উনার প্রতি কত গভীর মুহব্বত। (চলবে)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের প্রতিও বিশুদ্ধ আক্বীদা ও হুস্নে যন পোষণ করা অত্যাবশ্যকীয়
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৪র্থ পর্ব)
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৩য় পর্ব)
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (২য় পর্ব)
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (১ম পর্ব)
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্তী আজমেরী সানজেরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “আনিসুল আরওয়াহ্” নামক কিতাবে দস্তরখানা ব্যবহারের গুরুত্ব-ফযীলত মুবারক
০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তাক্বওয়া পরহেযগারী: সাত বছর ছাগলের গোশত খেলেন না!
০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












