বানূ নাযীরের সম্মানিত জিহাদ এবং ইহুদী গোত্রকে পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে বিতাড়িত করা প্রসঙ্গে (১৯)
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
, ০৮ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৭ ছানী, ১৩৯২ শামসী সন , ১৫ জুলাই, ২০২৪ খ্রি:, ৩১ আষাঢ়, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) আইন ও জিহাদ
বনূ নাযীর সম্পর্কিত কবিতাবলী:
فَغُودِرَ مِنْهُمْ كَعْبٌ صَرِيعًا ... فَذَلّتْ بَعْدَ مَصْرَعِهِ النّضِيرُ
ফলে তাদের মধ্য থেকে কাট্টা কাফির কা’ব বিন আশরাফ জঘন্যভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলো। তার নিহত হওয়ার পরপরই বানূ নাযীরও অপদস্ত ও লাঞ্ছিত হয়ে পড়লো।
عَلَى الْكَفّيْنِ ثُمّ وَقَدْ عَلَتْهُ ... بِأَيْدِينَا مُشَهّرَةٌ ذُكُورُ
খাপমুক্ত শাণিত তরবারি আমাদের হস্তগত হলো, যার কারণে তারা দু’হাত জোড় করে নত হলো। কাট্টা কাফির কা’বের উপর আমাদের প্রসিদ্ধ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বিজয়ী হলেন। সুবহানাল্লাহ!
بِأَمْرِ حَضْرَتْ مُحَمّدٍ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ إذْ دَسّ لَيْلًا ... إلَى كَعْبٍ أَخَا كَعْبٍ يَسِيرُ.
এটা মূলত; নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারকে, তিনি যখন রাতে কা’ব এর ভাইকে কাট্টা কাফির কা’বের উদ্দেশ্যে এগিয়ে যেতে বললেন (তাকে হত্যা করার জন্যে)।
فَمَا كَرِهَ فَأَنْزَلَهُ بِمَكْرِ ... وَمَحْمُودٌ أَخُو ثِقَةٍ جُسُورُ
সম্মানিত নির্দেশ মত তিনি গিয়ে হিকমত মুবারক অবলম্বন করলেন, তিনি তাকে নামিয়ে আনলেন নিচের দিকে। তার সাথে ছিলো অতি নির্ভরযোগ্য ও সাহসী সাথী মাহমূদ।
فَتِلْكَ بَنُو النّضِيرِ بِدَارِ سَوْءٍ ... أَبَارَهُمْ بِمَا اجْتَرَمُوا الْمُبِيرُ
ঐ বানূ নাযীর খুবই নিকৃষ্ট তাদের অবস্থান। তাদের অপরাধ ও দুষ্কর্মের কারণে ধ্বংসকারী উনারা তাদেরকে ধ্বংস করেছেন।
غَدَاةَ أَتَاهُمْ فِي الزّحْفِ رَهْوًا ... رَسُولُ اللّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ وَهُوَ بِهِمْ بَصِيرُ
এটা ঘটেছিলো সেই দিন, যে দিন মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বীরত্বের সাথে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের নিয়ে তাদের উপর আক্রমণ করেছিলেন। বস্তুত তিনি ছিলেন তাদের সম্পর্কে সর্বাধিক অবহিত। সুবহানাল্লাহ!
وَغَسّانَ الْحَمَاةَ مُوَازِرُوهُ ... عَلَى الْأَعْدَاءِ وَهُوَ لَهُمْ وَزِيرُ
সাহসী গাসসান গোত্র শত্রুর বিরুদ্ধে (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনার সহযোগিতা বা খিদমতকারী ছিলেন। আর তিনি ছিলেন, গাসসান গোত্রের পরামর্শদাতা।
فَقَالَ السّلْمُ وَيْحَكُمْ فَصَدّوا ... وَحَالَفَ أَمْرَهُمْ كَذِبٌ وَزُورُ
তিনি তাদেরকে বললেন, সাবধান! তোমরা আত্মসমর্পন করো (তথা ঈমান আনো)। কিন্তু তারা উল্টোপথ অনুসরণ করলো। মিথ্যা ও অসাড়তা তাদের কর্মকান্ডকে ভুলপথে পরিচালিত করলো। নাউযুবিল্লাহ!
فَذَاقُوا غِبّ أَمْرِهِمْ وَبَالًا ... لِكُلّ ثَلَاثَةٍ مِنْهُمْ بَعِيرُ
সুতরাং তারা তাদের ভুল পদক্ষেপে ও দুষ্কৃতির জন্যে শাস্তি ভোগ করলো। তারা বেরিয়ে গেলো প্রতি তিনজনে একটি করে উট নিয়ে।
وَأَجْلَوْا عَامِدِينَ لِقَيْنُقَاعَ ... وَغُودِرَ مِنْهُمْ نَخْلٌ وَدُورُ
তারা স্বেচ্ছায় দেশ ছেড়ে চলে গেলো বানূ কাইনুকা গোত্রের সাথে মিলিত হওয়ার উদ্দেশ্যে। আর পিছনে তাদের খেজুর বাগান ও ঘর-বাড়ী পড়ে থাকলো। (সীরাতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, সুবুলুল হুদা ওয়া রাশাদ, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, আর রওদ্বুল উনূফ) আমর ইবনে আওফ গোত্রের হযরত খাউওয়াত ইবনে জুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি কাট্টা কাফির আব্বাস ইবনে মিরদাসের কবিতার জবাবে বলেন-
تَبْكِي عَلَى قَتْلَى يَهُودَ وَقَدْ تَرَى ... مِنْ الشّجْوِ لَوْ تَبْكِي أَحَبّ وَأَقْرَبَا
তুমি ইহুদীদের নিহত ব্যক্তিদের শোকে চোখের পানি ফেলছো। অথচ তুমি জানো শোক অপেক্ষা কান্না প্রকাশ করাই তোমার কাছে অধিক প্রিয়।
فَهَلّا عَلَى قَتْلَى بِبَطْنِ أُرَيْنِق ... بَكَيْت وَلَمْ تُعْوِل مِنْ الشّجْوِ مُسْهَبًا
বাত্বনে উরাইনিক্ব নামক স্থানে যারা শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন, উনাদের জন্যে তুমি কাঁদলে না কেন? তুমিতো উনাদের শোকে হাউ-মাউ করে কাঁদলে না?
إذَا السّلْمُ دَارَتْ فِي صَدِيقٍ رَدَدْتهَا ... وَفِي الدّينِ صُدّادًا وَفِي الْحَرْبِ ثَعْلَبًا
এক বন্ধুর ব্যাপারে যখন সন্ধির আলোচনা চলছিলো, তখন তুমি তা প- করে দিলে, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বিষয়ে বাধা দানে তুমি তৎপর, অথচ জিহাদের ময়দানে তুমি খেকশিয়াল। (চলবে)
-আল্লামা সাইয়্যিদ শাবীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১২)
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১২)
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১২)
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১১)
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১০ম পর্ব)
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১০)
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১১)
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৯ম পর্ব)
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৯)
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১০)
০১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
খরচ করার ব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক উনার ফায়সালা
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












