যেসব ফল খেলে রক্ত বাড়ে (১)
, ০৯ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৬ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৫ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পাঁচ মিশালী
শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করে হিমোগ্লোবিন। রক্তের লোহিত কণিকায় থাকা এই প্রোটিন ফুসফুস থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পৌঁছে দেয়।
একই সঙ্গে এটি দেহকোষ থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড সংগ্রহ করে ফুসফুসে নিয়ে আসে, যাতে তা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যেতে পারে। তাই রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট এবং রক্তশূন্যতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখতে চিকিৎসকরা অনেক সময় আয়রন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ দেন। তবে কৃত্রিম ওষুধের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন এনে প্রাকৃতিকভাবেও এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। প্রকৃতিতে এমন অনেক ফল রয়েছে, যা নিয়মিত খেলে শরীরে নতুন রক্ত তৈরি হয় এবং হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়তে সাহায্য করে।
ডালিম বা আনার:
রক্তস্বল্পতা দূর করতে বেদানা বা ডালিম অত্যন্ত কার্যকর একটি ফল। এতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং ফাইবার রয়েছে। বেদানার পুষ্টিগুণ রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। প্রতিদিন একটি বেদানা বা এক গ্লাস বেদানার রস পান করলে রক্তশূন্যতা কমতে পারে।
আপেল:
প্রতিদিন একটি আপেল, ডাক্তার থাকবে দূরে- এই কথার পেছনেও রয়েছে বৈজ্ঞানিক কারণ। আপেলে থাকা আয়রন, ভিটামিন এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তা করে। নিয়মিত আপেল খেলে শরীরে রক্তের ঘাটতি পূরণ হতে সাহায্য করে এবং অ্যানিমিয়ার ঝুঁকি কমে।
কিশমিশ:
কিশমিশকে আয়রনের অন্যতম ভালো উৎস হিসেবে ধরা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে এক মুঠ কিশমিশ পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি ও কিশমিশ একসঙ্গে খেলে শরীর সহজে আয়রন গ্রহণ করতে পারে। এটি হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে এবং রক্তস্বল্পতা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
পাকা কলা:
পাকা কলা শুধু শক্তির উৎস নয়, এটি রক্ত তৈরিতেও সাহায্য করে। এতে থাকা ফলিক অ্যাসিড এবং আয়রন নতুন লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনে সহায়তা করে। বিশেষ করে যাদের শরীরে ফোলেটের ঘাটতি রয়েছে, তাদের জন্য কলা উপকারী একটি ফল।
এই ভিটামিনের অভাবে বাড়তে পারে নাকের রক্তপাত
নাক দিয়ে রক্ত পড়া অনেকের কাছেই পরিচিত একটি সমস্যা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি গুরুতর কোনো বিষয় নয়। তবে কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই যদি বারবার এমনটি ঘটে, তাহলে তা শরীরের ভেতরে থাকা কোনো পুষ্টিগত ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে নাকের ভেতরের সূক্ষ¥ রক্তনালীগুলো দুর্বল হয়ে গেলে বা রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দিলে এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
ভিটামিন কে-এর ঘাটতি:
নাক দিয়ে রক্ত পড়ার ক্ষেত্রে ভিটামিন কে-এর অভাব অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই ভিটামিন রক্ত জমাট বাঁধার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীরে ভিটামিন কে-এর পরিমাণ কমে গেলে রক্তপাত সহজে বন্ধ হতে চায় না। ফলে নাকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে রক্তক্ষরণ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
ভিটামিন সি-এর ঘাটতি:
ভিটামিন সি শুধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেই সাহায্য করে না, এটি রক্তনালীর সুস্থতা ও দৃঢ়তা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ। এই ভিটামিনের অভাবে রক্তনালীগুলো দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে নাকের ভেতরের সূক্ষ¥ রক্তনালীগুলো সামান্য চাপ বা অস্বস্তিতেই ফেটে যেতে পারে, যার ফলে রক্তপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এ বিষয়ে ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ১০০ জন রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ ছিলো আঘাত। এছাড়া নাকের সংক্রমণ এবং উচ্চ রক্তচাপও উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আয়রনের ঘাটতি:
আয়রনের অভাব সরাসরি নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ না হলেও এর সঙ্গে একটি সম্পর্ক রয়েছে। ঘন ঘন নাক দিয়ে রক্ত পড়লে শরীরে আয়রনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে আয়রনের মাত্রা কমে গেলে টিস্যুর স্বাভাবিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে। তাই নিয়মিত নাক দিয়ে রক্ত পড়লে আয়রনের মাত্রা পরীক্ষা করানো উপকারী হতে পারে।
ভিটামিন বি১২ ও ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতি:
ভিটামিন বি১২ এবং ফলিক অ্যাসিড রক্তকোষ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এদের ঘাটতি হলে রক্তকোষ উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, যা শরীরের স্বাভাবিক রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রথমবার ৬৩ আলোকবর্ষ দূরের গ্রহ থেকে আসা তরঙ্গ শনাক্ত বিজ্ঞানীদের
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
রহস্যময় মহাজাগতিক বস্তু ছড়াচ্ছে তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
২৩ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর দিন-রাত সমান, কেন এমন হয়?
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রায় ৮ বছর পর বুধ গ্রহে পৌঁছাতে শুরু করেছে মহাকাশ মিশন
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘সাদা সোনা’ কি সত্যিই সোনা, এর দাম এত বেশি কেন?
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কডিনি সুস্থ রাখতে করণীয়
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
গৃহসম্পদের উপযোগিতা বৃদ্ধির উপায়
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ওজন কতটুকু কমানো উচিত
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
জবিতে নাইট্রোজেন সার ব্যবহারে ২২ শতাংশ সাশ্রয়ের সম্ভাবনাময় প্রযুক্তির উদ্ভাবন
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
শুধু বরফই নয়, ঠান্ডায় পানি জমে যেভাবে কাচও হতে পারে
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পাখিরা কি উড়ে আনন্দ পায়-কাকাতুয়াদের নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণা
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
কোন ডিম বেশি পুষ্টিকর, বাদামি নাকি সাদা?
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












