সুওয়াল-জাওয়াব:
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায়ের শরয়ী তারতীব
, ২১ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১২ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২৭ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) শিক্ষামূলক জিজ্ঞাসা
সুওয়াল:
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ আসলে অধিকাংশ মসজিদগুলোতে খতম তারাবীহ হোক অথবা সূরা তারাবীহ হোক ইমাম ছাহেব এতো দ্রুতগতিতে তিলাওয়াত করেন যা পিছনে ইক্তিদাকারীগণ কিছুই বুঝেন না। আবার রুকু, সিজদাও এতো দ্রুতগতিতে করেন যাতে মুছল্লীগণ কেউ রুকুতে, কেউ সিজদায়, কেউ কওমায় থাকেন।
সুওয়াল হলো- ওয়াক্তিয়া নামাযের যে নিয়ম অর্থাৎ যেভাবে নিয়ত করতে হয়, তাকবীরে তাহরীমা বাঁধতে হয়, ধীর গতিতে পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করতে হয়, ক্বওমা-জলসা ঠিক মতো আদায় করতে হবে, তাশাহহুদ শরীফ, দুরূদ শরীফ ও দোয়ায়ে মা’ছূরা শরীফ পাঠ করতে হয়, তারপর সালাম ফিরানোর মাধ্যমে নামায শেষ করতে হয়- তারাবীহ নামাযেরও সেই একই নিয়ম, না ভিন্ন? যদি একই নিয়ম হয়ে থাকে তাহলে এতো দ্রুতগতিতে নামায পড়লে বা পড়ালে তা শুদ্ধ হবে কিনা?
জাওয়াব: (১ম অংশ)
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
قوموا لله قانتين
অর্থ: “তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার উদ্দেশ্যে (নামাযে) বিনম্রসহকারে দ-ায়মান হও।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ: ২৩৮)
অর্থাৎ ধীরস্থিরভাবে নামাযের ফরয, ওয়াজিব, সুন্নত, মুস্তাহাবসমূহ যথাযথভাবে আদায় করার মধ্য দিয়ে এবং হুযূরী ক্বলবের সাথে নামায আদায় করতে হবে। অন্যথায় নামাযের হক্ব আদায় হবে না। তা কেবল উঠা-বসার নামান্তর হবে।
স্মরণীয় যে, নামাযের মধ্যে পবিত্র সূরা-কিরায়াত শরীফ পাঠ করা হচ্ছে একটি ফরয। সুতরাং ইমাম ছাহেবকে তারতীলের সাথে স্পষ্ট করে পবিত্র সূরা-কিরায়াত শরীফ পড়তে হবে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
ورتل القران ترتيلا
অর্থ: “এবং পবিত্র কুরআন শরীফ ছহীহ-শুদ্ধ ও স্পষ্টভাবে তিলাওয়াত করুন।” (পবিত্র সূরা মুয্যাম্মিল শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ: ৪)
এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বর্ণিত রয়েছে, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম উনাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নামাযে কিরূপভাবে পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করতেন? জাওয়াবে তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কিরায়াত অনুকরণ করে শোনান তাতে প্রতিটি হরফ স্পষ্ট ছিলো। (তাফসীরে মাযহারী শরীফ)
যেমন এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنهما فى قوله تعالى ورتل القران ترتيلا قال بينه بيانا.
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার কালাম ورتل القران ترتيلا উনার ব্যাখ্যায় বলেন, তুমি উহা সঠিক ও সুস্পষ্টরূপে পাঠ করবে।” (ফিক্বহুস সুনান ওয়াল আছার)
عن حضرت على كرم الله وجهه عليه السلام قال الترتيل تجويد الحروف ومعرفة الوقف.
অর্থ: “হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ‘তারতীল’ হলো অক্ষরসমূহ যথাযথ উচ্চারণ ও সুন্দররূপে পাঠ করা এবং ওয়াকফ বা বিরতির স্থানসমূহ অবগত হওয়া অর্থাৎ তদানুযায়ী আমল করা।” (ফিক্বহুস সুনান ওয়াল আছার, আল ইতকান)
عن ام المؤمنين حضرت ام سلمة عليها السلام ان النبى صلى الله عليه وسلم كان يقطع قراءته اية اية.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন হযরত আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করার সময় প্রত্যেক পবিত্র আয়াত শরীফ পৃথকভাবে অর্থাৎ প্রত্যেক পবিত্র আয়াত শরীফ উনার শেষে থেমে থেমে তিলাওয়াত করতেন।” (হাকিম, দারুকুতনি)
অর্থাৎ ইমাম ছাহেবের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য হচ্ছে, পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের যাবতীয় নিয়ম অনুযায়ী স্পষ্টভাবে তিলাওয়াত করা। এটা ইমাম ছাহেবের জন্য ফরয-ওযাজিব। আর মুক্তাদীর জন্য অপরিহার্য কর্তব্য হচ্ছে, ইমাম ছাহেবের তিলাওয়াত মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করা।
যেমন এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
واذا قرئ القران فاستمعوا له وانصتوا لعلكم ترحمون.
অর্থ: “যখন পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা হয় তখন তোমরা চুপ থেকে তা শ্রবণ করো; তবেই তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হবে।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২০৪)
এ পবিত্র আয়াত শরীফখানাকে হানাফী মাযহাবে দলীল হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে যে, ইমাম ছাহিব যখন নামাযে কিরায়াত পাঠ করেন তখন মুক্তাদী বা মুছল্লীগণের জন্য চুপ থেকে উক্ত তিলাওয়াত মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করা ওয়াজিব। কেননা, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
قراءة الامام قراءة الـمقتدى.
অর্থ: “ইমাম ছাহেবের কিরায়াতই হচ্ছে মুক্তাদীর কিরায়াত।” (অসমাপ্ত)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রসঙ্গ: ছোয়াচে রোগ
০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: ছোয়াচে রোগ
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মি’রাজ শরীফের তারিখ নিয়ে মতভেদ (৩)
২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মি’রাজ শরীফের তারিখ নিয়ে মতভেদ (২)
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মি’রাজ শরীফের তারিখ নিয়ে মতভেদ (১)
০৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মসজিদের ভিতরে চেয়ার স্থাপন নব্য বিদয়াত
৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মসজিদের ভিতরে চেয়ার স্থাপন নব্য বিদয়াত
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ বা শায়েখ উনার নিকট বাইয়াত হওয়ার সম্পর্কে
১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মসজিদের ভিতরে চেয়ার স্থাপন নব্য বিদয়াত
০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্পত্তি বণ্টন বিষয়ক সুওয়াল-জাওয়াব
০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সুন্নতী কদমবুছি বিষয়ে কওমী মুখপত্রের শরীয়তের খেলাফ বক্তব্যের খন্ডনমূলক জাওয়াব
০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ: হজ্জের ফরজ আদায়ে হারাম ছবি তোলাকে সাময়িক বৈধতা প্রদান....
০২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












