সুওয়াল-জাওয়াব:
প্রসঙ্গ: পবিত্র মি’রাজ শরীফের তারিখ নিয়ে মতভেদ (২)
, ২৩ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৫ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২৯ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) শিক্ষামূলক জিজ্ঞাসা
সুওয়াল:
এটি দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে, রজবুল হারাম মাসের ২৭ তারিখ ইছনাইনিল আযীম শরীফ রাতে পবিত্র বরকতময় মি’রাজ শরীফ হয়েছে। কিন্তু কিছু উলামায়ে ‘সূ’, নামধারী আলেম বিভিন্ন সম্প্রচারমাধ্যম, পত্র-পত্রিকা ও বই-পুস্তকের মাধ্যমে প্রচার করে থাকে যে, মি’রাজ শরীফের তারিখ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তাদের আপত্তি হলো, ২৭শে রজবের রাতেই মি’রাজ শরীফ হয়েছে এ কথা সঠিক নয়। নাউযুবিল্লাহ!
অতএব, এ বিষয়ে সঠিক জাওয়াব তুলে ধরে এর বিভ্রান্তি নিরসন প্রয়োজন।
জাওয়াব: (২য় অংশ)
এ প্রসঙ্গে তাফসীরে রুহুল বয়ান ৫ম খ- ১০৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
وهى ليلة سبع وعشرين من رجب ليلة الاثنين وعليه عمل الناس قالوا انه عليه السلام ولد يوم الاثنين بعث يوم الاثنين واسرى به ليلة الاثنين وخرج من مكة يوم الاثنين ودخل الـمدينة يوم الاثنين ومات يوم الاثنين
অর্থ: “রাতটি ছিলো রজবুল হারাম মাসের ২৭ তারিখ, লাইলাতুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার)।” এর উপরই বিশ্বের সকল ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের আমল। উনারা বলেন, “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন ইছনাইনিল আযীম শরীফে, আনুষ্ঠানিকভাবে উনার রিসালত মুবারক প্রকাশ পেয়েছে ইছনাইনিল আযীম শরীফে, ইসরা ও মি’রাজ শরীফ হয়েছে ইছনাইনিল আযীম শরীফে, হিজরতের উদ্দেশ্যে পবিত্র মক্কা শরীফ থেকে বের হয়েছেন ইছনাইনিল আযীম শরীফে, পবিত্র মদীনা শরীফে প্রবেশ করেছেন ইছনাইনিল আযীম শরীফে এবং তিনি দীদার মুবারকে গিয়েছেন ইছনাইনিল আযীম শরীফে।” সুবহানাল্লাহ!
পাক ভারত উপমহাদেশে হাদীছ শরীফের প্রচার-প্রসারকারী হযরত শায়েখ আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত ‘মা ছাবাতা বিস সুন্নাহ’ কিতাবের ৭৩ পৃষ্ঠায় লিখেন-
اعلم انه قد اشتهر فيما بين الناس بديار العرب ان معراجه صلى الله عليه وسلم كان لسبع وعشرين من رجب
অর্থ: “জেনে রাখুন! নিশ্চয়ই আরব জাহানের দেশগুলোর লোকদের মধ্যে মশহূর বা প্রসিদ্ধ ছিলো যে, নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুনা হযরত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মি’রাজ শরীফ সংঘটিত হয়েছিলো রজবুল হারাম মাসের ২৭ তারিখ রাতেই।” সুবহানাল্লাহ!
অনুরূপভাবে হানাফী মাযহাবের সুপ্রসিদ্ধ ফতওয়ার কিতাব ‘রদ্দুল মুহতার আলা দুররিল মুখতার’ কিতাবুছ ছলাত অধ্যায়ে উল্লেখ রয়েছে-
وجزم الحافظ عبد الغنى الـمقدسى فى سيرته بانه ليلة السابع والعشرين من رجب وعليه عمل اهل الامصار.
অর্থ: হযরত ইমাম হাফিয আব্দুল গণী মাক্বদিসী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার সীরাতগ্রন্থে চূড়ান্ত মতামত প্রকাশ করেন যে, মি’রাজ শরীফ হয়েছে রজবুল হারাম মাসের ২৭ তারিখ এবং এর উপরই সমগ্র দেশবাসী উনাদের আমল।
এছাড়াও আরো নির্ভরযোগ্য অনেক কিতাবেই উল্লেখ আছে যে, মি’রাজ শরীফ রজবুল হারাম মাসের ২৭ তারিখ রাতে হয়েছে।
কাজেই, যারা টিভিসহ নানা চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকায় ও বই-পুস্তকের মাধ্যমে মি’রাজ শরীফ উনার তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ায় তারা উলামায়ে ‘সূ’ বা ধর্মব্যবসায়ী। এদের সম্পর্কেই হাদীছ শরীফে বর্ণিত হয়েছে-
عن حضرت انس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ويل لامتى من علماء السوء يتخذون هذا العلم تجارة يبيعونـها من امراء زمانـهم ربحا لانفسهم لا اربح الله تجارتـهم
অর্থ: হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার উম্মতের উলামায়ে ‘সূ’দের জন্য জাহান্নাম; যারা ইলিমকে ব্যবসা হিসেবে গ্রহণ করে তাদের যামানার আমীর-উমরা বা রাজা-বাদশাহদের কাছে অর্থ ও পদ লাভের জন্য তা বিক্রি করে থাকে। তাদের এ ধর্মব্যবসায় মহান আল্লাহ পাক তিনি কখনো বরকত দিবেন না।” (কানযুল উম্মাল)
হাদীছ শরীফে আরো বর্ণিত রয়েছে-
عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يكون فى اخر الزمان دجالون كذابون يأتونكم من الاحاديث بـما لـم تسمعوا انتم ولا اباؤكم فاياكم واياهم لا يضلونكم ولا يفتنونكم.
অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আখিরী যামানায় কিছু সংখ্যক মিথ্যাবাদী দাজ্জাল বের হবে, তারা তোমাদের নিকট এমন সব (মিথ্যা-মনগড়া) কথা উপস্থাপন করবে, যা তোমরা কখনো শুনোনি এবং তোমাদের বাপ-দাদারাও শুনেনি। সাবধান! তোমরা তাদের থেকে দূরে থাকবে এবং তোমাদেরকে তাদের থেকে দূরে রাখবে। তবে তারা তোমাদেরকে গোমরাহ করতে পারবে না এবং ফিতনায় ফেলতে পারবে না। (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ) সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা হলো উলামায়ে ‘সূ’ বা ধর্মব্যবসায়ীদের ওয়াজ শোনা, তাদের ফতওয়া মানা, তাদেরকে অনুসরণ করা হারাম আর তাদের ছোহবত থেকে দূরে থাকা ফরয-ওয়াজিব। (ইনশাল্লাহ চলবে)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায় ও সংশ্লিষ্ট মাসয়ালা-মাসায়িল
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত জরুরী সুওয়াল-জাওয়াব
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায়ের শরয়ী তারতীব
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায়ের শরয়ী তারতীব
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: ছোয়াচে রোগ
০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: ছোয়াচে রোগ
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মি’রাজ শরীফের তারিখ নিয়ে মতভেদ (৩)
২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মি’রাজ শরীফের তারিখ নিয়ে মতভেদ (১)
০৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মসজিদের ভিতরে চেয়ার স্থাপন নব্য বিদয়াত
৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মসজিদের ভিতরে চেয়ার স্থাপন নব্য বিদয়াত
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ বা শায়েখ উনার নিকট বাইয়াত হওয়ার সম্পর্কে
১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মসজিদের ভিতরে চেয়ার স্থাপন নব্য বিদয়াত
০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












