মন্তব্য কলাম
প্রতারণার ফাঁদে নাগরিক জীবন। সরকারের নজরদারী নেই। রকমফের প্রতারণা বন্ধে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শ মুবারক বিস্তারের বিকল্প নেই।
, ১৯ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৯ হাদি আশির, ১৩৯২ শামসী সন , ১৮ এপ্রিল, ২০২৫ খ্রি:, ৫ বৈশাখ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মন্তব্য কলাম
কী শহর কী গ্রাম চারদিকেই প্রতারণার ফাঁদ পাতা। একের পর এক প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। পদে পদে প্রতারিত হয়ে সর্বস¦ খোয়াচ্ছে মানুষ। সমাজে চলতি পথে প্রতারণার এমনি জাল বিছানো যে, ঘরে বসেও রেহাই পাবে না কেউ। প্রতারণার নানা কৌশল নিয়ে একটি চক্র সর্বদা সজাগ। তাদের ফাঁদে পড়ে খোয়াতে হয় তিলে তিলে গড়া সঞ্চয়টুকুও। প্রতারণার এই ভয়াবহতার শিকড়-বাকড় ব্যক্তি-পরিবার থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ও ক্রমে ছড়িয়ে পড়ছে।
ফুটপাত থেকে শুরু করে অফিস-আদালতের নানা পর্যায়েই চলে নিত্যনতুন প্রতারণা। ঘরে বসে ফেরিওয়ালাদের জিনিসপত্র কিনতে গিয়ে ওজনে ঠকতে হয়, সাহায্যের নামে টাউট-বাটপারদের হাতে তুলে দিতে হয় নগদ টাকার চাঁদা। গন্তব্যে যেতে সিএনজি, অটোরিকশা ও ট্যাক্সিক্যাবের মিটার জালিয়াতির কবলে পড়ে ‘অতিরিক্ত ভাড়া’ পরিশোধের পরও গুনতে হয় ২০-২৫-৫০ টাকার বাড়তি বখশিশ।
রাস্তা, বাজার, কর্মস্থলসহ সর্বত্রই আরো কত রকমের ফাঁদ, মওকায় যে লোকজনের পকেট খালি হয় তার ইয়ত্তা নেই। জীবনযাত্রার সব ক্ষেত্রেই প্রতারণার অক্টোপাসে বন্দি হয়ে পড়ছে, পদে পদে ওঁৎ পেতে থাকছে নানামুখী বিপদ। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রকমের অন্তত ২০০ প্রতারক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের কাছে প্রতিদিন সহস্রাধিক লোক প্রতারণার শিকার হয়। ডিএমপিভুক্ত থানাগুলোর লিপিবদ্ধ মামলা-জিডি ও পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতারণার খবরা-খবরের সূত্র ধরে এ পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে।
জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে ‘প্রতারণাও’ ইদানীং ডিজিটাল রূপ পেতে শুরু করেছে। এখন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড যেমন জালিয়াতি করে অন্যের অ্যাকাউন্ট খালি করা হচ্ছে, তেমনি গলাকাটা পাসপোর্ট তৈরি, বিদেশী ভুয়া ওয়ার্কপারমিট ও নিয়োগপত্র প্রস্তুত করলেও সহজে তা জাল প্রমাণের উপায় থাকে না। জাল টাকার ছড়াছড়ি আছে বাজার জুড়ে। মোবাইলফোনে লাখ লাখ টাকা লটারি পাওয়ার প্রলোভনযুক্ত মেসেজ বানিয়েও প্রতারণা করা হচ্ছে অহরহ।
প্রসূতি মায়ের সন্তান প্রসব থেকে শুরু করে শিক্ষা, চিকিৎসা, চাকরি, বিয়ে এমনকি মৃত্যুর পর লাশ দাফন পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই প্রতারণার একচ্ছত্র দাপট রয়েছে।
বিভিন্ন পয়েন্টে আলাদা আলাদা চক্র প্রতারণার জাল বিছিয়ে নানা পদ্ধতিতে মানুষ ঠকিয়ে যাচ্ছে। নগরীর ফুটপাতে নাক-কান-গলা রোগসহ দুরারোগ্য সব ব্যাধি থেকে মুক্তির সেøাগান নিয়ে ভুয়া চিকিৎসকরা বসছে নানা ওষুধের পসরা সাজিয়ে।
গভীর রাতে জিনের বাদশাহ সেজে মোবাইলফোনে কল দিয়ে কথা বলা হয়, বলে দেয়া হয় অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ। মোটা অঙ্কের সেলামি দাবি করে বলে দেয়া হয় জিনের বাদশাহকে খুশি করলে আপনার বাড়িতেই মাটির নিচে থাকা গুপ্তধনের সন্ধান দেবে জিন বাবা।
চাহিদা মতো সেলামি আর গুপ্তধন উঠানোর খরচ হাতিয়ে নিয়েই নিরুদ্দেশ হয়ে যায় কথিত জিনের বাদশাহ। রোগ-ব্যাধি নিরাময়ে যে কোনো হাসপাতালের উদ্দেশ্যে গেলেই দালাল চক্রের বেহাল উৎপাত চোখে পড়ে। অ্যাম্বুলেন্স বা অন্য কোনো যানবাহন থেকে রোগী নামানো, রেজিস্টার খাতায় নিবন্ধন, কোন ডাক্তার রোগীর চিকিৎসা করবে এসব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করে হাসপাতাল গেটের দালালরা। দালাল চক্রের উৎপাত আছে কোর্ট-কাচারি, বিআরটিএ অফিস, বাস টার্মিনাল, সাব রেজিস্ট্রি অফিস, যে কোনো থানার গেটে, পাসপোর্ট দফতরসহ নাগরিক সেবা প্রদানকারী প্রায় প্রতিটি পয়েন্টে। প্রতারণামূলক লটারির দৌরাত্ম্য ইদানীং কিছুটা কমলেও বেড়ে গেছে চাকরি দেয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেয়ার ফন্দিফিকির। রাস্তাঘাটের যেখানে সেখানে দেখা যায় পার্টটাইম চাকরির বিজ্ঞাপন।
এগুলো বেশির ভাগই প্রতারকদের পাতা ফাঁদ, পা দিলেই বিপদ। সংঘবদ্ধ একটি চক্র খাদ্য অধিদফতর, রেল বিভাগ, সেনাবাহিনী, ভূমি জরিপ অধিদফতরসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থায় চাকরি দেয়ার নামে একযোগে হাজার হাজার তরুণ-যুবককে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে।
ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়ার লোভ দেখিয়ে সর্বস¦ান্ত করা হয়েছে অনেককে। বেকার যুবক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাও রয়েছে এ তালিকায়। তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয় ৪ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত, কানাডার ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়ার নামে অভিনব পদ্ধতিতে টাকা নেয়া হয়। পরে রাতের আঁধারে গুটিয়ে নিয়ে সিন্ডিকেট সদস্যরা পালিয়ে যায়।
জমি কেনার পর দেখা যায়- জমির ভুয়া মালিক সেজে যে বিক্রি করেছে, সে শুধুই একজন নিয়োজিত দালাল মাত্র। জমির বায়নানামার স্ট্যাম্প থেকে দলিলপত্র পর্যন্ত সবই হয়েছে জাল।
রোগ যেটাই হোক একগাদা অপ্রয়োজনীয় টেস্ট আর বেশি পরিমাণ ওষুধ ধরিয়ে দিচ্ছে ডাক্তার। বিপদে পড়ে অ্যাডভোকেটের কাছে গেলে কোর্ট চত্বরেই প্রতারক চক্রের কবলে পড়েন অসংখ্য ভুক্তভোগী। এমন অগণিত প্রতারণায় বন্দি গোটা দেশ। যেন পদে পদে ওঁৎ পেতে থাকে বিপদ।
প্রসঙ্গত আমরা মনে করি যে, শুধু আইনের বল প্রয়োগেই এ প্রতারণা প্রবণতা রোধ করা যাবে না। কারণ মানুষের তৈরি আইনের গোলকধাঁধায় মানুষ সহজেই পার পেয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে অত্যাবশ্যকীয় হলো- খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি অনুগত হওয়া ও উনার ভয় লালন করা এবং এ সম্পর্কিত মূল্যবোধ ও চেতনা জাগ্রত করা।
মূলত, আজকের যুগে ধর্মব্যবসায়ী তথা উলামায়ে সূদের প্রাদুর্ভাব থাকায় এহেন সম্মানিত দ্বীন ইসলামী চেতনা কারো মাঝে নেই বললেই চলে। বরং উলামায়ে ‘সূ’রাও যেভাবে অসততায় আর দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়েছে তা দেখেই প্রতারণাকারী ও দুর্নীতিবাজরা আরো সাহসী ও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তার পরিণতিতেই সারাদেশব্যাপী এত প্রতারণা আর দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে।
তাই এ থেকে রক্ষা পেতে হলে তথা প্রতারণা থেকে মুক্তি পেতে হলে অত্যাবশ্যকীয়ভাবে দেশের সরকারসহ দেশের জনগণকে হাক্বীকীভাবে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে প্রবেশ করতে হবে। আর দেশের সরকার-জনগণ তখনই হাক্বীকীভাবে দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে প্রবেশ করতে পারবে যখন দেশের সর্বত্র মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা মহাসম্মানিত ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শ, অনুভূতি, সর্বোচ্চ প্রতিপালন নিশ্চিত হবে। কারণ একমাত্র নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত মুবারকই পারে দেশ থেকে প্রতারণা নামক ঘৃণ্য অপসংস্কৃতিটি দূর করতে।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সোনার দাম বাড়ে-কমে কেন, কীভাবে হয় দাম নির্ধারণ (২য় পর্ব)
০৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সোনার দাম বাড়ে-কমে কেন, কীভাবে হয় দাম নির্ধারণ (১ম পর্ব)
০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিলুপ্ত ফুটি কার্পাস পুনরুদ্ধার, ১৭০ বছর পর বিশ্ববাজারে ফিরছে ঢাকাই মসলিন
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মানুষ প্রতিদিনের বাজার খরচ, যাতায়াত ব্যয় কিংবা পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।
০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অবমাননাকারী, এদেশের মুসলমানদের হিন্দুত্ববাদে লীন হতে কু-প্ররোচনাকারী এবং ভারতে মুসলমানরা নিশ্চিন্তে তাদের দ্বীনি উৎসব পালন করছে-
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাড়ে তিনশো বছরেও লালবাগ কেল্লার নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ার নেপথ্য কারণ
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিশ্বে ৩০০ কোটিরও বেশী মুসলমান থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তা পরিষদে পঞ্চ শক্তিতে কোনো মুসলিম দেশ নেই ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া কিংবা সিরিয়ার মতো দেশগুলোতে মার্কিন হস্তক্ষেপ মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে, অথচ জাতিসংঘ সেই আগ্রাসন রুখতে ব্যর্থ হয়েছে মার্কিন ভেটোর ভয়ে। আর ফিলিস্তিনে ইসরাইলি বর্বরতায় যখন বিশ্ববিবেক থমকে দাঁড়ায়, তখন যুক্তরাষ্ট্র নির্লজ্জভাবে তা সমর্থন করে বা নীরব থেকে জাতিসংঘের অবস্থানকেও প্রভাবিত করে।
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কোনো সমালোচনা আলোচনা অথবা আন্দোলনের প্রশয় না দিয়ে সরকারের উচিৎ জিয়ার নীতি অনুসরণ করে পাহাড়ে কমপক্ষে ১ হাজার সেনা ছাউনি তৈরী করা।
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুসলমানদের উপর নিপীড়ন, নির্যাতন, উচ্ছেদ, বৈষম্য আর মসজিদ-মাদ্রাসা ধ্বংসের উৎসব করে রাষ্ট্রয়ী সন্ত্রাস করে ব্যার্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়। তাহলে তারা ‘আসাম’ বাংলাদেশের কাছে প্রত্যার্পন করুক। আর আসামের মুসলমান তো সব মরছেই। তাহলে তারা বিদায় হজ্জের ভাষণ অনুযায়ী তাদের জান-মাল রক্ষায় জিহাদে অবতীর্ন হোক।
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলমান হিন্দু সংঘাত হয়। এ থেকে বাঁচাতে সব মুসলমানকে লালনবাদ গ্রহণ করে অমুসলমান হতে বলেছে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই ও তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ। লালনবাদে কোন ধর্মীয় সংঘাত নেই- এজন্য নাকি খোদ প্রধানমন্ত্রী স্কুল শিক্ষায় লালন বাদ ঢোকানোর পরামর্শ দিয়েছে- এটাই জাহেদের ভাষ্য।
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুসলমান হিন্দু সংঘাত হয়। এ থেকে বাঁচাতে সব মুসলমানকে লালনবাদ গ্রহণ করে অমুসলমান হতে বলেছে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই ও তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ। লালনবাদে কোন ধর্মীয় সংঘাত নেই- এজন্য নাকি খোদ প্রধানমন্ত্রী স্কুল শিক্ষায় লালন বাদ ঢোকানোর পরামর্শ দিয়েছে- এটাই জাহেদের ভাষ্য।
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শুধু ভারতেই আধিপত্যবাদী হিন্দুত্ববাদী নয়। বাংলাদেশে অবস্থানকারী ভারতীয় হাইকমিশনার সহ হিন্দুত্ববাদীরা সবাই আধিপত্যবাদী। এদেশের হিন্দুত্ববাদীরা তাদের আধিপত্য বৃদ্ধি জন্য সরকারকে গভীর চাপ তৈরী করছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মুখপাত্র, ভারতে- মুসলমানদের উপর সহিংসতাও গণহত্যার অভিযোগ মিথ্যা অভিহিত করে তার বিপরীতে বাংলাদেশে হিন্দু স্বার্থ রক্ষায় নিবেদিত হতে বলেছে।
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












