উৎপাদন থেকে রপ্তানি, উত্তরাঞ্চলে কৃষির নতুন অর্থনৈতিক মানচিত্র
, ২৩ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৬ সাদিস, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৪ নভেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) দেশের খবর
উত্তরাঞ্চলের কৃষিকে শুধু খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রপ্তানিমুখী শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে একাধিক স্থানে পর্যায়ক্রমে ‘কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এ উদ্যোগের সম্ভাবনাময় স্থান হিসেবে জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলা উঠে এসেছে। এর মধ্যে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নের তারাপানি মৌজায় এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া পৌরসভায় কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর মাধ্যমে কৃষিপণ্যের উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির জন্য সমন্বিত অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষিতে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিশেষ করে কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে শিল্পকারখানা স্থাপন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। সম্প্রতি সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সচিব মো. সেলিম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনামূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষসহ (বেপজা) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায়, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে ‘কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল’ গঠন করাকে অধিক কার্যকর বলে মত দেন অংশগ্রহণকারীরা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভার কার্যপত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নের তারাপানি মৌজাকে প্রাথমিকভাবে সম্ভাবনাময় স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্ধারিত চেকলিস্ট অনুযায়ী প্রস্তাবিত জমির তথ্য পাঠিয়েছে। এ কারণে ওই স্থানে কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিতে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।
অন্যদিকে বগুড়া উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃষি ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। জেলাটির কৃষি উৎপাদন, বাজারব্যবস্থা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং যোগাযোগসুবিধা কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে। ধান, আলু, ভুট্টা, শাকসবজি, ফলমূলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও বিপণনের ক্ষেত্রেও বগুড়ার ভূমিকা রয়েছে।
উৎপাদন থেকে রপ্তানি-এক ছাতার নিচে কৃষির সব কার্যক্রম:
কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মূল লক্ষ্য শুধু জমিতে শিল্পকারখানা স্থাপন নয়, বরং কৃষির সঙ্গে শিল্প, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সংযোগ তৈরি করা। এ ধরনের শিল্পের জন্য স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে নিয়মিত কাঁচামাল সংগ্রহ করতে হবে। ফলে কৃষকদের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সরাসরি ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদ, মানসম্মত বীজ ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তির ব্যবহারও উৎসাহিত হতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।
ইপিজেড নয়, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত:
কৃষিসচিব সেলিম খান সভায় উল্লেখ করেন, কৃষি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে ৯০ শতাংশ পণ্য রপ্তানির বাধ্যবাধকতা থাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করাই অধিক যুক্তিযুক্ত। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া অনুশাসন বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। সভায় উপস্থিত সদস্যরাও এ মতের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।
এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রস্তাবিত অঞ্চলগুলোতে শুধু রপ্তানির জন্য পণ্য উৎপাদন নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা পূরণ এবং রপ্তানি-উভয় ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ বিবেচনায় আসবে।
পঞ্চগড়সহ অন্য জেলাও বিবেচনায়:
কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা শুধু জয়পুরহাট ও বগুড়ায় সীমাবদ্ধ থাকছে না। উত্তরাঞ্চলের একাধিক উপযুক্ত স্থানে পর্যায়ক্রমে এ ধরনের অঞ্চল গড়ে তোলার বিষয়ে সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ লক্ষ্যে জয়পুরহাট, বগুড়া, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার জমিসংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছিল। এ পরিপ্রেক্ষিতে কিছু জেলা থেকে ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্ধারিত চেকলিস্ট অনুযায়ী তথ্য পাওয়া গেছে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ১৯ নভেম্বর রায়
০৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
‘শেখ হাসিনাকে সমর্থনের অভিযোগে শিক্ষকদের অন্যায়ভাবে শাস্তির মুখোমুখি করা হচ্ছে’
০৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হত্যা মামলার আসামি এখন এনসিপির শীর্ষ নেতা
০৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রধানমন্ত্রীর ম্লোগানকে ‘হাদিস’ তুলনা করে পদ হারালেন সরকারি কর্মকর্তা
০৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
‘টাকা দিলেই ফিট, না দিলেই আনফিট’
০৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
০৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আগামী বছরও ঈদুল ফিতরে ৫, ঈদুল আজহায় ৬ দিনের ছুটি
০৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মানহীন মেডিকেল কলেজ আর কাউকে করতে দেওয়া হবে না -স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
০৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
শ্রমিক আন্দোলনে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা -ডিএনসিসি প্রশাসক
০৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
এই আন্দোলন শ্রমিকদের নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ইন্ধন দেয়া হচ্ছে -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
০৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
চট্টগ্রামে ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা কেন?
০৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্টের রুল
০৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












