পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
(রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ থেকে সংকলিত)
, ০২ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৯ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৮ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মহিলাদের পাতা
(ধারাবাহিক)
‘মূলতঃ আমার মায়ের উভয় দোয়াই কবুল হয়েছে। যেহেতু আমার মা আমাকে বলেছেন জাহান্নামী, সেহেতু আমার বিশ বৎসর যাবৎ কোন ইবাদত-বন্দেগী কবুল হচ্ছে না। আর দ্বিতীয়তঃ তিনি আমাকে বলেছেন, তুমি যেখানে থাকনা কেন, তুমি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে সরাসরি কথা বলতে পারবে। আমি সেই সূত্রেই সবসময় সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে আলাপ করে থাকি। কে আসবে, কে আসবে না, কে কি বলবে বা কোন ইবাদত কবুল হলো বা হলো না, আমি প্রত্যেক ইবাদতের পরে জিজ্ঞাসা করি, মহান আল্লাহ পাক তিনি জবাব দেন, কবুল হয়নি। আর প্রত্যেক হজ্বের পর, আজ থেকে বিশ বৎসর ধরে আপনার মতো একজন আল্লাহ পাক উনার ওলী আমার কাছে এসে থাকেন। এসে আমাকে সংবাদ দিয়ে যান। আমি সেটা জানি, যিনি আমাকে সংবাদ দিতে আসেন আমি তার পরিচয়, তার সমস্ত কিছু আগেই মহান আল্লাহ পাক উনার কাছ থেকে সরাসরি জেনে নেই। যেমন আপনার সম্পর্কে আমি জেনে নিয়েছিলাম। আমি আপনার আসার আগে মহান আল্লাহ পাক উনাকে জিজ্ঞাসা করেছি। “আয় মহান আল্লাহ পাক! এবার আমার সাক্ষাতে কে আসবেন সংবাদ দেয়ার জন্য?”
মহান আল্লাহ পাক তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমার ওলী, সুলত্বানুল আরেফীন, হযরত বায়েজীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি আসবেন। তুমি অপেক্ষা করো। যার জন্য আপনাকে দেখার সাথে সাথে আমি আপনাকে চিনতে পেরেছি এবং আপনার পরিচয় বলেছি।’
এটা শুনে হযরত বায়েজীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তায়াজ্জুব, আশ্চর্য হয়ে গেলেন! মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত, লীলা বুঝা কঠিন বিষয়।
فِعْلُ الْحَكِيمِ لَايَخْلُو عَنِ الْحِكْمَةِ
“মহান আল্লাহ পাক উনার কোন কাজ হেকমত থেকে খালি নয়।’
মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী, সুলত্বানুল আরেফীন, হযরত বায়েজীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন যে, হে ব্যক্তি! আমি কি তোমার জন্য দোয়া করবো? মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন তোমাকে ক্ষমা করে দেন।
সে ব্যক্তি বললো, ‘হুজুর! আজকে বিশ বৎসর হলো, প্রত্যেক হজ্বের পর একজন আলাহ্ওয়ালা ব্যক্তি এসে থাকেন, প্রত্যেকেই দোয়া করেছেন। কারো দোয়া এ পর্যন্ত কবুল হয়নি আমার ক্ষেত্রে। আমার জন্য জাহান্নাম অবধারিত।
তখন সুলত্বানুল আরেফীন, হযরত বায়েজীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন যে, তুমি যদি বল তাহলে আমি একটু দোয়া করি।
সে বললো, ‘আপনার এখতিয়ার।’ তিনি দোয়া করলেন, যেহেতু তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ ওলী ছিলেন, তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার লক্ষ্যস্থল সে যামানার।
মহান আল্লাহ পাক তিনি জানালেন, “হে আমার ওলী, সুলত্বানুল আরেফীন, হযরত বায়েজীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি! আপনার দোয়া কবুল করবো। তবে অবশ্যই শর্ত থাকবে। যেহেতু আপনি আমার খাছ ওলী, আপনার দোয়া তো কবুল করতেই হবে এবং করব অবশ্যই। তবে একটা শর্ত থাকবে তার মধ্যে। শর্ত হচ্ছে- যেহেতু তার মা তাকে বলেছে জাহান্নামী। তাই আমি প্রথমে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো।
দ্বিতীয়তঃ যেহেতু আপনি দোয়া করেছেন, আপনার দোয়া আমি কবুল করেছি। সে দোয়ার বদৌলতে তার মাকে দিয়ে সুপারিশ করিয়ে আমি তাকে জাহান্নাম থেকে জান্নাতে পৌঁছে দিব।” সুবহানাল্লাহ!
এখন ফিকিরের বিষয়, চিন্তার বিষয় যে, মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী, সুলত্বানুল আরেফীন, হযরত বায়েজীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি কত বড় মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী ছিলেন। উনার উছীলায় মহান আল্লাহ পাক তিনি দোয়া কবুল করলেন। আবার এদিকে চিন্তার বিষয় হচ্ছে, মার দোয়া কত শক্ত ব্যাপার। মা যে বদ্দোয়া করেছেন সে বদ্দোয়া কত কঠিন যে, এর পূর্বে ঊনিশ বৎসর যাবত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম দোয়া করেছেন, কবুল হয়নি। সুলত্বানুল আরেফীন, মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ লক্ষ্যস্থল, বায়েজীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি দোয়া করেছেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি কবুল করেছেন শর্ত দিয়ে। এখন ফিকির করতে হবে।
যেটা মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন, যেটা হাদীছ শরীফে এসেছে-
إِنَّ اللهَ حَرَّمَ عَلَيْكُمْ عُقُوقَ الأُمَّهَاتِ
নিশ্চয় মহান আল্লাহ পাক তিনি হারাম করে দিয়েছেন তোমার মাতার নাফরমানী। মাতার সাথে অসদাচরণ, অসদ্ব্যবহার, নাফরমানী এগুলো মহান আল্লাহ পাক তিনি হারাম করে দিয়েছেন। চিন্তা এবং ফিকিরের বিষয়, “মা’র কতটুকু হক্ব রয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মেহমানদারী করার মাধ্যমে উদযাপনে শাফায়াত মুবারক লাভ
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কারবালার ঘটনার জন্য মালউন ইয়াযিদ লানতুল্লাহি আলাইহি দায়ী এবং সে কাট্টা কাফির (১)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (২০)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত এবং পবিত্র ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পিতা-মাতা উভয়েই দ্বীনদার হওয়া ব্যতীত দ্বীনদার সন্তান আশা করা সম্পূর্ণ বৃথা (২)
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












