পবিত্র হজ্জ ও পবিত্র উমরাহ করার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী তারতীব মুবারক-৩
, ১৯ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ১০ আউওয়াল, ১৩৯১ শামসী সন , ০৯ জুন, ২০২৩ খ্রি:, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تعالٰى عَنْهُ قَالَ سَأَلَ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَا حَبِيْبَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ! ومَا السَّبِيْلُ؟ قَالَ زَادٌ وَّ رَاحِلَةٌ.
অর্থ: হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি এসে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে যে বলেছেন সাবীলার কথা এর অর্থ কি? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন পাথেয় এবং বাহন। (তিরমিযী শরীফ)
অর্থাৎ একটা লোকের যাতায়াতের খরচসহ তার বাড়ীর খরচসহ সমস্ত খরচ যদি থাকে, পথের বাহনের ব্যবস্থা থাকে, জান-মাল এবং ঈমানের নিরাপত্তা যদি থাকে। অর্থাৎ ঈমানের নিরাপত্তা, মালের নিরাপত্তা, জানের নিরাপত্তা যদি থাকে তখন তার জন্য পবিত্র হজ্জ ফরয হয়ে যায়। সেটাই বলা হয়েছে সাবীলা।
পবিত্র হজ্জ উনার মাস সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই ইরশাদ মুবারক করেছেন-
اَلْـحَجُّ أَشْهُرٌ مَّعْلُوْمَاتٌ
অর্থ: পবিত্র হজ্জের মাসগুলো হচ্ছে চিহ্নিত, সুবিদিত মাস। যেটা সকলেরই জানা রয়েছে, মাশহূর। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফঃ পবিত্র আয়াত শরীফ নং -১৯৭)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَوَّالٌ وَّ ذُو الْقَعْدَةِ وَذُو الْـحِجَّةِ
অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, সে মাসগুলো হচ্ছে- পবিত্র শাওওয়াল শরীফ, পবিত্র যিলক্বদ শরীফ এবং পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ। এ তিনটি হজ্জের মাস।
পবিত্র হজ্জ ফরয হবে যখন এ সময় তার পাথেয় থাকবে এবং এ সময় তার যাতায়াতের সমস্ত ব্যবস্থা থাকবে, ঈমানের, আমলের, মালের, জানের নিরাপত্তা থাকবে তখন পবিত্র হজ্জ ফরয হবে।
আর বিশেষ করে পবিত্র হজ্জের মাসগুলোকে আলাদা একটা সম্মান দেয়া হয়েছে যেটা হারাম মাস হিসেবে মহান আল্লাহ পাক তিনি উল্লেখ করেছেন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বলে দিয়েছেন। একদিক থেকে পবিত্র হজ্জ উনার সম্মান রয়েছে এবং তার সাথে সাথে পবিত্র কুরবানী উনারও সম্মান রয়েছে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি সেটা ইরশাদ মুবারক করেছেন-
اِنَّ عِدَّةَ الشُّهُوْرِ عِنْدَ اللهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِـيْ كِتَابِ اللهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمٰوَاتِ وَالْأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ.
অর্থ: নিশ্চয়ই যিনি খালিক্ব, যিনি মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে আসমান ও যমীন সৃষ্টির শুরু থেকে মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাবের মধ্যে মাসের সংখ্যা বারোটি করা হয়েছে। তারমধ্যে চারটি মাস হচ্ছে পবিত্র। (পবিত্র সূরা তওবা শরীফঃ পবিত্র আয়াত শরীফ নং-৩৬)
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ডান হাতে আহার করা, আঙ্গুল ও বাসন পরিস্কার করে চেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ডান হাতে আহার করা, আঙ্গুল ও বাসন পরিস্কার করে চেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
স্বভাবজাত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
হায়াত থেকে মউত পর্যন্ত অর্থাৎ সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করতে হবে
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পানির মশক ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পানির মশক ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার মাধ্যমেই সর্বপ্রকার নেয়ামত মুবারক হাছিল করা সহজ ও সম্ভব
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আয়না ব্যবহার করা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানিত সুন্নতী খাবার “মাছ” (২)
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নতী খাবার “মাছ” (১)
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র আযানের জবাব দেয়ার হুকুম-আহকাম ও পবিত্র সুন্নতী তরীক্বাহ (২)
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আযানের জবাব দেয়ার হুকুম-আহকাম ও পবিত্র সুন্নতী তরীক্বাহ (১)
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












