সুন্নত মুবারক তা’লীম
পবিত্র আযানের জবাব দেয়ার হুকুম-আহকাম ও পবিত্র সুন্নতী তরীক্বাহ (১)
, ২৯ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৬ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৫ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ৩১ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّوْنَ اللهَ فَاتَّبِعُوْنِي يُحْبِبْكُمُ اللهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ.
অর্থ: “আয় আমার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, যদি তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করো বা মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত হাছিল করতে চাও, তবে তোমরা আমার অনুসরণ করো। তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মুহব্বত করবেন এবং তোমাদের গুনাহখাতা ক্ষমা করে দিবেন। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি অত্যধিক ক্ষমাশীল ও দয়ালু।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ- ৩১)
কাজেই, প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে, মাথার তালু থেকে পায়ের তলা এবং হায়াত থেকে মউত পর্যন্ত অর্থাৎ সর্বাবস্থায়-সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীববুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইতায়াত-অনুসরণ মুবারক করা। সর্বপ্রকার মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক সম্পর্কে ইলিম অর্জন করা।
সেই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা পবিত্র আযানের মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক সম্পর্কে আলোকপাত করবো।
আমাদের হানাফী মাযহাব মতে, পবিত্র আযান শ্রবণকারীর সকলের জন্যই পবিত্র আযানের জবাব মৌখিকভাবে দেয়া ওয়াজিব। আর এই পবিত্র আযানের মৌখিক জাওয়াব না দিলে সে ওয়াজিব তরককারী হিসেবে সাব্যস্ত হবে।
সুতরাং মুয়াজ্জিনের আযান শুনে আযানের মৌখিক জাওয়াব দেয়া ওয়াজিব এবং এর উপরই ফতওয়া।
অনেকে বলে থাকে যে, আযানের জবাব দেয়া মুস্তাহাব। জবাব দিলেও হবে, না দিলেও হবে।
মূলত তাদের বক্তব্য শুদ্ধ নয়। কেননা, পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র সুন্নাহ শরীফ, পবিত্র ইজামা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের বহু দলীল-আদিল্লা দ্বারা প্রমাণীত যে, আযানের জবাব দেয়া ওয়াজিব।
হানাফী মাযহাবের নির্ভরযোগ্য বিশ্বখ্যাত অনুসরণীয় ফিক্বাহ ও ফতওয়ার কিতাবসমূহের মতে বর্ণিত তারজীহ্ বা প্রধান্য প্রাপ্ত অর্থাৎ গ্রহণযোগ্য মতে পবিত্র আযান শ্রবণকারী সকলের জন্যই পবিত্র আযানের মৌখিকভাবে দেয়া ওয়াজিব।
যেমন- “হাশিয়ায়ে তাহ্তাবী আলা দুররিল মুখতার” কিতাবের ১ম খ-ের ১৮৮ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
وعلى المعتمد يجيب بالسان
অর্থঃ নির্ভরযোগ্য মতে মৌখিক বা শাব্দিকভাবে মুখে আযানের জবাব দেয়া ওয়াজিব।”
“ফতওয়ায়ে আলমগীরী” কিতাবের ১ম ৫৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
يجيب على السامعين عند الاذان الاجابة وهى ان يقول مثل ما قال المؤذن ... وهو الصحيح.
অর্থঃ “আযানের সময় আযান শ্রোতাদের জন্যই মৌখিক আযানের জবাব দেয়া ওয়াজিব। আর আযানের জাওয়াব এভাবে দিবে যে, আযানে মুয়াযযিন যা বলে আযান শ্রোতা তাই বলবে। এটাই ছহীহ বা বিশুদ্ধ মত।”
“নাফউল মুফতী ওয়াস্ সায়িল” কিতাবের ১৭৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
ظاہر یہ ہے کہ زبان سے جواب دینا بھی واجب ہے تاکہ رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم کے ظاہر حکم کی اطاعت ہو کیونکہ رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم نے فرمایا ہے کہ جب تم موذن کی اذان سنو تو جس طرح وہ کہے تم بھی کہو اور اس ظاہر حکم سے اعتراض کرنے کا کوئی قرینہ ںہیں.
অর্থঃ “প্রকাশ্য বর্ণনা অনুযায়ী মৌখিক বা শাব্দিকভাবে মুখে আযানের জবাব দেয়া ওয়াজিব। তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রকাশ্য মহাসম্মানিত আদেশ মুবারক উনার ইতায়াত হবে। কেননা, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন যে, “যখন তোমরা মুয়াযযিনের আযান শুন, তখন মুয়াযযিন যেরূপ বলে তোমরাও তদ্রুপ বল। আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার প্রকাশ্য হুকুম থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে কোন কারণ নেই।”
“তানযীমুল আশতাত্” কিতাবের ২য় খন্ডের ২নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
حنفیہ کے نزدیک ... اجابۃ المؤذن واجبۃ علی السامعین.
অর্থঃ “আমাদের হানাফী মাযহাবের নিকট আযান শ্রোতাদের সকলের জন্যই মুয়াজ্জিনের আযানের মৌখিক জবাব দেয়া ওয়াজিব।”
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র দ্বীনি মজলিসে বা মাহফিলে বসার মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আপদ-বিপদ ও অনিষ্টতা থেকে মুক্তির জন্য ঘুমানোর পূর্বে আগুন/বাতি নিভিয়ে রাখতে হবে; যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফের গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (২)
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফের গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (১)
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
অনিষ্টতা থেকে হিফাযতের জন্য খাবারের পাত্র ঢেকে রাখতে হবে; যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলার জন্য আবশ্যক হচ্ছে, সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করা
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করার গুরুত্ব-ফযীলত ও খাছ সুন্নতী তারতীব
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার অন্যতম সুমহান তাজদীদ মুবারক “সুন্নতী সামা শরীফ মাহফিল”
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রতিক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ করা যেমন ফরয; অনুরূপভাবে প্রতিক্ষেত্রেই কাফির- মুশরিকদের খিলাফ করাও ফরয (২)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রতিক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ করা যেমন ফরয; অনুরূপভাবে প্রতিক্ষেত্রেই কাফির- মুশরিকদের খিলাফ করাও ফরয (১)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাত ও পায়ের নখ কাটার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, আত্মীয়দের হক্ব আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত (৪)
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












