ইতিহাস:
পবিত্র মদীনা শরীফে ব্রিটিশদের লুটতরাজের ষড়যন্ত্র যিনি রুখে দিয়েছিলেন
, ১৮ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৫ ছানী, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৪ জুলাই, ২০২৫ খ্রি:, ৩০ আষাঢ়, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) ইতিহাস
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষ সময়। যোগ্য মুসলিম শাসকের অভাবে তুরস্ক এবং পূর্ব ইউরোপে তখন উসমানী সালতানাতকে একেবারেই দুর্বল করে দিয়েছে ব্রিটিশ বাহিনী। আর এদিকে আরবে ব্রিটিশদের দোসর হিসেবে আরবভূমি তাদের হাতে তুলে দিচ্ছিল আরবের মুনাফিক শাসকরা। বাকি ছিল শুধু পবিত্র মক্কা শরীফ ও পবিত্র মদীনা শরীফ উনার ভূমি।
ষোড়শ শতকের পর থেকে আরবের পবিত্র ভূমি পবিত্র মক্কা শরীফ এবং পবিত্র মদীনা শরীফ উনার খিদমত করছিলেন উসমানীয় সালতানাতের সুলতানরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হেজাজ অঞ্চলের শেষ গভর্নর ছিলেন মুহম্মদ ফখরুদ্দিন পাশা। ইতিহাসে তিনি বিখ্যাত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মুহব্বত মুবারক পোষণের নানা ঘটনার কারণে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় উসমানীয় সালতানাতের শেষ সুলতান তৃতীয় মুহম্মদ ১৯১৮ সালের ৩০ অক্টোবর ব্রিটিশদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। সুলতান আত্মসমর্পণ করার পরও হেজাজের গভর্নর ফখরুদ্দিন পাশা ব্রিটিশ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি উসমানীয় সুলতানের পক্ষ থেকে নির্দেশ আসলেও তিনি সেই নির্দেশ অমান্য করেন এবং নিজের অধীনস্থ বাহিনীকে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রতিরোধ করার নির্দেশ দেন।
একজন তুর্কি লেখক এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে লিখেছেন, ১৯১৮ এর এক জুমুয়াবার তিনি নামাজের পর মসজিদে নববী শরীফ উনার মিম্বর মুবারকের পাশে দাঁড়িয়ে দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা দেন, ইয়া রাসূলল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা কখনোই আপনার এই পবিত্র ভূমি থেকে যাবো না, আপনার স্পর্শধন্য মাটি মুবারক ছেড়ে যাবো না। হে উসমানীয় সৈনিকেরা, আমি আদেশ দিচ্ছি শত্রু সংখ্যা যাই হোক না কেন; শেষ গুলি ও শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত আমরা পবিত্র ভূমিকে রক্ষা করে যাবো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দোয়া মুবারক আমাদের সাথে আছে।
ফখরুদ্দিন পাশা জানতেন, ব্রিটিশরা যদি পবিত্র দুই শহরে প্রবেশ করতে পারে তাহলে তারা লুটতরাজ এবং বেয়াদবী করবে। পাশাপাশি, প্রায় ৪০০ বছর ধরে উসমানীয় সুলতানরা অনেক মুহব্বতের সাথে পবিত্র মক্কা শরীফ এবং পবিত্র মদীনা শরীফ উনার সংস্কার করেছিলেন, মূল্যবান বিভিন্ন সম্পদে সাজিয়ে পবিত্র দুই শহর উনার খিদমত করেছিলেন। আর ব্রিটিশ সন্ত্রাসীরা মূল্যবান সব সম্পদ চুরি করে ইংল্যান্ডে পাঠিয়ে দেবে। এ কারণে তিনি তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। আগে থেকেই তিনি সবকিছু প্রস্তুত করে রেখেছিলেন এবং পবিত্র মক্কা শরীফ এবং পবিত্র মদীনা শরীফ উনার অমূল্য সম্পদসমূহ তিনি তুরস্কে হেফাজতের ব্যবস্থা করেন। আর এটিকেই অত্যন্ত কুটকৌশলে কথিত ‘চুরি’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে ওহাবী সৌদ সন্ত্রাসীদের বংশধররা।
-মুহম্মদ শাহ জালাল।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলিম নির্যাতনের প্রতিশোধ হিসেবে বাংলার সুলতান যেভাবে নেপাল বিজয় করেছিলেন
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আধুনিক কাগজ শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা মুসলমানগণই
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মাদরাসা প্রতিষ্ঠা নিয়ে ইতিহাসের আলোকে কিছু সংক্ষিপ্ত তথ্য
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
তাতারস্তানে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম এবং মুসলমানদের স্বর্ণালী ইতিহাস
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিধর্মীরা যতটুকু সভ্যতা পেয়েছে তা মুসলিম শাসনামলেই আর বর্বরোচিত প্রথাসমূহ বন্ধ করেছিলেন মুসলিম শাসকরাই
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৪)
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিখ্যাত মুসলিম পর্যটক ইবনে বতুতার বর্ণনায় বাংলাদেশ
০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
উপমহাদেশে ব্রিটিশবিরোধী সুফি, ফকীর-দরবেশ বিদ্রোহের ইতিকথা
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (২)
৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (২)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৩)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (১)
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












